পানগাঁও টার্মিনালে ছাড়ের সুফল; পুনরায় শুরু হলো রপ্তানি কার্যক্রম

পানগাঁও বন্দর
আমদানি-রপ্তানি
অর্থনীতি
0

পানগাঁও ইন-ল্যান্ড কনটেইনার টার্মিনাল ব্যবহারে বিভিন্ন ধরনের ছাড় দিচ্ছে বিদেশি অপারেটর মেডলগ বাংলাদেশ। এরই মধ্যে ছাড় দেয়ার সুফল মিলছে বলে দাবি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের। এক বছরের ব্যবধানে পণ্য পরিবহন বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। পরিচালনার ভার নেয়ার দুই মাসেই এ নৌ টার্মিনাল থেকে পুনরায় রপ্তানি কার্যক্রম শুরু করেছে অপারেটর। যদিও ব্যবহারকারীরা বলছেন, এ রুটটি জনপ্রিয় করতে জাহাজের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করতে হবে।

নৌপথে কম খরচে পণ্য পরিবহনে কেরানীগঞ্জের পানগাঁওয়ে নির্মিত কনটেইনার টার্মিনাল চালু হয় ২০১৩ সালে। বেশি খরচ ও কাস্টমসের জটিলতাসহ নানা কারণে পানগাঁও বন্দর বিমুখ হন সেবাগ্রহীতারা। ফলে এক যুগে বন্দরের লোকসান হয় ১৬৫ কোটি টাকা। এ প্রেক্ষাপটে গত জানুয়ারিতে সুইজারল্যান্ডের মেডলগকে ২২ বছরের জন্য পানগাঁও বন্দর পরিচালনার ভার দেয় বন্দর।

ফেব্রুয়ারি থেকে পুরোদমে কার্যক্রম শুরু করে মেডলগ বাংলাদেশ। ১৫ জুন পর্যন্ত ৫ মাসে ৪ হাজার ৪০২ টিইউএস কনটেইনার হ্যান্ডলিং করেছে তারা। যা ২০২৫ সালের পুরো বছরের সমপরিমাণ। এক বছরের ব্যবধানে পণ্য পরিবহন বেড়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ।

তিন বছর আগে রপ্তানি কনটেইনার পরিবহন বন্ধ হয়ে গেলেও মার্চ থেকে পুনরায় চালু মেডলগ। কনটেইনার পরিবহন বাড়াতে দেয়া হচ্ছে বিশেষ প্রণোদনা। জাহাজ ভাড়া কমানোর পাশাপাশি নানা পদক্ষেপে এ বন্দর ব্যবহারে ভালো সাড়া মিলছে বলে দাবি নতুন অপারেটরের।

মেডলগ বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ টি এম আনিসুল মিল্লাত বলেন, ‘ইমপোর্টটা থ্রু পানগাঁও, ইমপোর্টটা তার সমান সমান ৪৫০ থেকে ৪৯০ ডলার। যেটা রোডেও ৪৯০ থেকে ৫০০ ডলার। এক্সপোর্টটা অলমোস্ট ফিফটি পারসেন্ট বিলো দি রোড কস্ট।’

আরও পড়ুন

বর্তমানে স্থানীয়ভাবে ৬টি জাহাজ ভাড়া নিয়ে কার্যক্রম চালালেও তিন বছরের মধ্যে বিশেষ জাহাজ নামানোর পরিকল্পনা আছে অপারেটররা। মেডলগের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে পানগাঁও দিয়ে পণ্য পরিবহন অনেক বাড়বে বলে আশাবাদী বন্দর কর্তৃপক্ষের।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য হারবার ও মেরিন কমোডর আহমেদ আমিন আব্দুল্লাহ বলেন, ‘এরই মধ্যে পাঁচটি জাহাজের সঙ্গে তারা চুক্তি সম্পন্ন করেছে। এবং পানগাঁওয়ে যে সমস্ত জাহাজ চলাচল উপযোগী আছে এরকমের আরও জাহাজের সঙ্গে তারা এমওইউ করার মাধ্যমে তারা এখানে আমাদের যে নদী পথটা রয়েছে এটাকে রিব্যাম্পিং করার চেষ্টা করছে। তারা ৩০০ থেকে ৪০০ টিইউস ক্যাপাসিটির এখানে তারা বার্জ নিয়ে আসবে, যেটা এ পথে চলতে পারবে এবং ধাপে ধাপে এটা প্রায় ২০২৮ সালের ভিতরে তারা এটাকে ইন্ট্রোডিউস করতে সক্ষম হবে।’

তবে শিপিং এজেন্টরা বলছে, অনুন্নত সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা এ বন্দর ব্যবহারের অন্যতম বাধা। পণ্য পরিবহন বাড়াতে হলে অন্তত একদিন পর জাহাজ থাকতে হবে। সেই সঙ্গে ঢাকাসহ আশপাশের শিল্প অঞ্চলগুলোর যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়ন করতে হবে।

বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক পরিচালক শামসুদ্দিন মিনার বলেন, ‘পানগাঁওয়ের জন্য আলাদা একটা রাস্তা, যোগাযোগ ব্যবস্থা করা উচিত। ঢাকাকে বাইপাস করে বুড়িগঙ্গার পাড় দিয়ে একটা ব্রিজ করে সরাসরি পানগাঁওয়ে কানেক্ট করা, যেটা এক্সক্লুসিভলি ফর পানগাঁও ফ্যাসিলিটিজের জন্য যাওয়া-আসা করবে, উইথ হেভি মুভমেন্ট ক্যাপাসিটি। সেটা একটা বড় চ্যালেঞ্জ, ওইটাই হচ্ছে আমাদের পানগাঁওয়ের জন্য প্রাইমারি করণীয়।’

বর্তমানে সপ্তাহে দুটি করে জাহাজ চালাচ্ছে মেডলগ। চাহিদা বাড়লে বাড়ানো হবে জাহাজের সংখ্যা। টার্মিনাল খরচসহ আমদানি পণ্যের ভাড়া কমানোর ফলে পানগাঁ দিয়ে রপ্তানি পণ্য পরিবহন সড়কপথের চেয়ে খরচ অনেক কম পড়ছে- দাবি তাদের।

জেআর