দেশিয় ৪ এয়ারলাইন্সের পরিকল্পনায় নতুনত্ব; বদলাতে পারে এভিয়েশন বাস্তবতা

বিমানের ছবি
পরিষেবা
অর্থনীতি
1

আকাশপথে যাত্রী বাড়ছে, কিন্তু বাজার দখলে এখনও পিছিয়ে দেশিয় এয়ারলাইন্স। এবার বিদেশি এয়ারলাইন্সকে টক্কর দিতে পাল্টা কৌশল সাজাচ্ছে বাংলাদেশের চারটি এয়ারলাইন্স। বৈশ্বিক বিমান সংকট, লিজ জট আর উচ্চ অপারেশন খরচের মধ্যেও ফ্লিট বাড়ানো ও নতুন রুট চালুর ঘোষণা নতুন বছরের শুরুতে কি বদলাতে যাচ্ছে দেশের এভিয়েশন বাস্তবতা?

দেশের মোট আন্তর্জাতিক যাত্রীর প্রায় ৮০ শতাংশই বহন করে বিদেশি ৩৭টি এয়ারলাইন্স, সেখানে দেশিয়দের দখল মাত্র ২০ শতাংশ। এ অসম প্রতিযোগিতার চিত্র বদলাতে চায় দেশের এয়ারলাইন্সগুলো। বৈশ্বিক বিমান ও লিজ সংকট, ডেলিভারি জটের মধ্যেও নিজেদের ফ্লিট বাড়ানো ও নতুন রুট খোলার প্রস্তুতি নিচ্ছে চারটি দেশিয় এয়ারলাইন্স।

বর্তমানে ১৯টি উড়োজাহাজ দিয়ে ২২টি আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। নতুন বছরে পূর্ব এশিয়া, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে রুট সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থাটির।

পাশাপাশি অনুমোদন মিলেছে কলম্বো, বাহরাইন ও সিডনি রুটে। করাচি ফ্লাইট শুরু হলেও উড়োজাহাজ সংকটে ম্যানচেস্টার রুটে অপারেশন বন্ধ হচ্ছে।

আর এ সংকট কাটাতে ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ কিনবে বিমান। এর মধ্যে রয়েছে ৮টি বোয়িং ৭৮৭-১০, ২টি ৭৮৭-৯ এবং ৪টি ৭৩৭ সিরিজ, যা বহরে আসবে ২০৩৫ সাল নাগাদ। তাই আপাতত ভরসা লিজ।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ মহাব্যবস্থাপক বোসরা ইসলাম বলেন, ‘বোয়িং থেকে মোট ১৪টি এয়ারক্রাফট ক্রয় করবো। এর মধ্যে ৪টি হচ্ছে ৭৩৭ ম্যাক্স, আর ১০টি হবে ৭৮৭। আশা করছি, যখন আমাদের নতুন এয়ারক্রাফটগুলো আসবে, তখন আমাদের রুট বাড়বে।’

মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক রুটে আরও শক্ত হচ্ছে ইউএস বাংলা। জেদ্দা ও রিয়াদের পর এ বছরেই পরিকল্পনা মদিনা ও দাম্মাম রুট চালুর। লক্ষ্য আছে ২০২৬ এর শেষে লন্ডন ও রোম ফ্লাইট চালুর। বহরে যুক্ত হয়েছে ৩টি এয়ারবাস এ৩৩০-৩০০, পরিকল্পনা রয়েছে আরও ৪–৫টি এয়ারবাস ও বোয়িং ৭৩৭ যুক্ত করার।

আরও পড়ুন:

ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক-জনসংযোগ মো. কামরুল ইসলাম বলেন, ‘ঢাকা টু মদিনা রুটে আমরা এরই মধ্যে পরিকল্পনা সাজাচ্ছি, এ রুটে ফ্লাইট পরিচালনার ঘোষণা হয়তো আমরা খুব শিগগিরই দিয়ে দেবো। সেইসঙ্গে আমরা যে গন্তব্য দামমাম নিয়ে কাজ করছি, লন্ডন এবং ঢাকা টু রোম এই দুটি রুট নিয়েও আমরা পরিকল্পনা করছি। ২০২৮ নাগাদ আমাদের প্ল্যান আছে ঢাকা থেকে টরন্টো এবং নিউ ইয়র্ক রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করা।’

শুরুর মাত্র তিন বছরে প্রথমবার আন্তর্জাতিক রুটে ডানা মেলছে এয়ার অ্যাস্ট্রা। চীনের কুনমিং, হংকং, সিঙ্গাপুর এবং মধ্যপ্রাচ্যের দুবাই, আবুধাবি ও শারজাহ এই ৬ শহরে ফ্রিকোয়েন্সি বাড়ানোর অনুমোদন পেয়েছে তারা।

পাশাপাশি ১১টি দেশের ১৫টি রুটে ফ্লাইট পরিচালনার আবেদন করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে বোয়িং ৭৩৭ ও এয়ারবাস এ৩২০ দিয়ে আন্তর্জাতিক রুটে যাত্রা শুরু করতে চায় এয়ার অ্যাস্ট্রা।

এয়ার অ্যাস্ট্রার সিইও ইমরান আসিফ বলেন, ‘এ আবেদনটা আমরা ৫টি দেশের জন্য করেছি এখন পর্যন্ত। এ ৫টি দেশে ৭টি ডেস্টিনেশন আছে সব মিলিয়ে। আমরা এর মধ্যে থেকে ৪টিকে আগে প্রায়োরিটি দেবো। আর রেগুলেটরি অথরিটির পলিসি, গভর্নমেন্ট পলিসি—এগুলোতে একটি ইন্ডাস্ট্রির ব্যবসার জন্য কোহেসিভ হতে হয়। তাই আমাদের পলিসির জায়গাতে আমাদের অনেক ইম্প্রভমেন্ট বা আপডেটের প্রয়োজন আছে।’

নভোএয়ারও ন্যারোবডি ৭৩৭ ও এ৩২০ লিজে নিয়ে রিজিওনাল রুট সম্প্রসারণে এগোচ্ছে। ২০২৬ সাল থেকে সিঙ্গাপুর, ব্যাংকক, দুবাই ও শারজাহ রুটে ফ্লাইট পরিচালনার অনুমোদন পেয়েছে এয়ারলাইনটি। ভবিষ্যতে কুয়ালালামপুর ও মাসকট যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

আরও পড়ুন:

নভোএয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবসরপ্রাপ্ত গ্রপ ক্যাপটেন মফিজুর রহমান বলেন, ‘গত বছর লাস্ট কোয়ার্টার, মানে অক্টোবর-নভেম্বরের পরিকল্পনা ছিল, যেটা আমরা এয়ারক্রাফট পাইনি। ফলে এটা এখন আমরা ২০২৬ এর দ্বিতীয় কোয়ার্টারে করতে পারার ব্যাপারে আমরা আশাবাদী।’

তবে অপারেশন ও সার্ভিসে অতিরিক্ত কর ও চার্জ দেশিয় এয়ারলাইন্সগুলোর বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করেন সিভিল এভিয়েশনের সাবেক চেয়ারম্যান।

বেবিচকের সাবেক চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান বলেন, ‘এভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রিকে ফ্লারিশ করতে হলে এখানে সরকারকে অনেক নজর দিতে হবে। এই সরকারের সঙ্গে এয়ারলাইন্সের সম্পর্ক করার দায়িত্বটা হচ্ছে সিভিল এভিয়েশনের। তো এখানে তিন পক্ষেরই একটা যৌথ উদ্যোগ যদি হয়, তাহলেই এয়ারলাইন্স সাস্টেইন করতে পারবে।’

২০২৬ সালে দেশিয় চার এয়ারলাইন্সেরই পরিকল্পনা যাত্রীসেবা উন্নত ও আরও বর্ধিত করার। তবে পরিকল্পনা থাকলেও দেশের এভিয়েশন খাতের বেড়াজালেই আটকা এই খাতটি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন নতুন নির্বাচিত সরকার এ খাতকে সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিলে, অন্যান্য যে খাতগুলো থেকে রাজস্ব আসছে, সেই একইভাবে এ খাত থেকেও রাজস্ব আয় সম্ভব।

এসএইচ