জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে খাদ্যমূল্যে প্রভাব পড়বে না: বাণিজ্যমন্ত্রী

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির
দেশে এখন , পরিষেবা
অর্থনীতি
0

এক হাজার ৬৯৮ কোটি টাকার ডিজেল-অকটেন আমদানির অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। একইসঙ্গে জ্বালানি আমদানিতে গতি আনতে দরপত্রের সময়সীমা ৪২ দিন থেকে কমিয়ে ১০ দিনে নামিয়ে আনা হয়েছে। এদিন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান জানান, জ্বালানির দাম বাড়ায় পরিবহন ভাড়া যৌক্তিকভাবে নির্ধারিত হবে। তবে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে খাদ্যমূল্যে প্রভাব পড়বে না।

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল ভূ-রাজনীতির আঁচ লেগেছে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে। এ অবস্থায় সরকারি ক্রয় পদ্ধতিতে জ্বালানি কিনতে হচ্ছে। মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক হাজার ৬৯৮ কোটি টাকার ডিজেল ও অকটেন আমদানির অনুমোদন দেয় ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা।

কমিটির ১৭তম সভায় দুবাইভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিবিএস ট্রেডিং হাউস থেকে ১ হাজার ২৩ কোটি ৬১ লাখ টাকায় ৫০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল এবং ২৫ হাজার মেট্রিক টন অকটেন কেনার অনুমোদন হয়। এছাড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আর্চার এনার্জি থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ৬৭৪ কোটি ৬০ লাখ টাকায় কেনা হবে আরও ১ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল।

আরও পড়ুন:

একই দিন অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ১১তম সভায় আর্চার এনার্জি ও মাজদা অয়েল থেকে আরও ২ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল আমদানির নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়। এই আমদানি দ্রুত করতে আন্তর্জাতিক দরপত্র দাখিলের সময়সীমা ৪২ দিনের পরিবর্তে মাত্র ১০ দিনে নামিয়ে আনার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয় বৈঠকে।

এদিন সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জানান, দেশে জ্বালানি তেলের কোন সংকট নেই, তেল ভিতি এবং অবৈধ মজুতের প্রবণতায় কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রভাব, পরিবহন ও দ্রব্যমূল্যে পড়বে বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুন:

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে, তাই এখন জ্বালানির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধির আলোচনা চলছে। আমরা আশা করি, এটা যৌক্তিকভাবে হবে। এটা নিয়ে আলোচনা চলছে সরকারের সঙ্গে। জটিলতা নিরসনে প্রয়োজনে এসি বাসের ভাড়া দুই বা তিন স্তরে নির্ধারণ করা হবে এবং আসন্ন ঈদে সেটা কার্যকর করা হবে। জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর বেশি প্রভাব পড়বে ট্রাকের ভাড়ায়। এখন এই অ্যাডজাস্টমেন্ট ইজ আ মাস্ট— এটা হলো এক নম্বর কথা। আমরা চেষ্টা করছি যেটা, আমাদের এই আলোচনা চলছে।’

এদিন বিকেলে দ্রব্যমূল্য সংক্রান্ত টাস্কফোর্স বিষয়ক সভা শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা জন্য জ্বালানির দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছে সরকার। নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে পর্যাপ্ত পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুন:

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘এই জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিজনিত যে ইমপ্যাক্ট যেটা, সেটা এত ন্যূনতম যেটা খাদ্য মূল্যের ওপরে এটার কোনো বিরূপ প্রভাব পড়বে না— আমাদের হিসেবে পড়বে না। আমি ইউনিট কস্ট ব্রেক করে দেখিয়েছি। কখনো আমরা যদি অনুভব করি যে, এখন আরও বর্ধিত আকারে পর্যবেক্ষণের দরকার, মার্কেট ওয়াচ করা দরকার, সেটি আমরা করবো। সেটা কোনো সমস্যা নেই। আর আরেকটা জিনিস আমি বলবো, আমরা এখন পর্যন্ত দেখেছি যে আমাদের আমদানি পরিস্থিতি স্থিতিশীল আছে। মানে খুব গ্রস ইন্টারভিন করার মতো কোনো পরিস্থিতি এখনো সৃষ্টি হয়নি।’

এসময় বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, আমদানি পরিস্থিতি এখনো স্থিতিশীল আছে। বোতলজাত সয়াবিন তেলের অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রির সুযোগ নেই। দেশের মানুষকে কতিপয় ব্যক্তির কাছে জিম্মি হতে দেবে না সরকার।

এসএস