মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগের জন্য মোট ১৭ হাজার ১৯২ কোটি ৮২ লাখ টাকা উন্নয়ন ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে। অপরদিকে ১৫২ কোটি ২২ লাখ টাকা পরিচালন ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে। এ হিসাবে পরিচালন ব্যয় মাত্র শূন্য দশমিক ৮৮ শতাংশ।
গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। এসময় তিনি ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করেন। যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১৩ দশমিক ৭ শতাংশ।
প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মোট বরাদ্দ ধরা হয়েছে ১৭ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকা। উন্নয়ন ব্যয় পরিচালন ব্যয়ের তুলনায় ১৭ হাজার ৪০ কোটি ৬০ লাখ টাকা বেশি।
মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি বিভাগের জন্য উন্নয়ন ব্যয় ২ হাজার ২৫৪ কোটি ১৬ লাখ টাকা এবং পরিচালন ব্যয় ৯৪ কোটি ৮৬ লাখ টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। আর বিদ্যুৎ বিভাগের জন্য উন্নয়ন ব্যয় ১৪ হাজার ৯৩৮ কোটি ৬৬ লাখ টাকা এবং পরিচালন ব্যয় ৫৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ধরা হয়েছে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ ছিল ১৬ হাজার ৯৫২ কোটি টাকা। সেই হিসাবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ ৩৯৩ কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।
বর্তমান সরকার আগামী বাজেটে দেশীয় সক্ষমতার ওপর গুরুত্ব বাড়িয়েছে। ফলে উন্নয়ন খাতে ব্যয় বেশি ধরা হয়েছে। অতীতে শুধু তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ও জ্বালানি তেল আমদানির ওপর নির্ভরতা বাড়ানো হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার আগামী বাজেটে দেশের নিজস্ব স্থলভাগ ও বঙ্গোপসাগরে গ্যাস অনুসন্ধান, জ্বালানি তেল রিফাইনিং ও মজুত সক্ষমতা বৃদ্ধিতে যথেষ্ট উদ্যোগ নিয়েছে।
জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার, উৎপাদন বৃদ্ধি, রিফাইনিং সক্ষমতা সম্প্রসারণ এবং আমদানি উৎস বহুমুখীকরণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এজন্য জ্বালানির কৌশলগত মজুত ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং দেশে ও সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, ‘ফ্যাসিবাদী সরকারের অপরিকল্পিত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নীতি এবং এ খাতে সীমাহীন দুর্নীতি, লুটপাট, অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের ফলে বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। উৎপাদন ব্যয় ও বিক্রয়মূল্যের পার্থক্যের কারণে চলতি অর্থবছরে এ খাতে ভর্তুকির পরিমাণ ৪০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে।’—বাসস





