নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণ দেখিয়ে চীনা রোবট আমদানি বন্ধ করলো যুক্তরাষ্ট্র

হিউম্যানয়েড রোবটের সারির পাশে এক কর্মীরা
তথ্য-প্রযুক্তি
বিদেশে এখন
0

চীনে তৈরি নতুন মানবাকৃতির রোবট, রোবট কুকুর ও পাওয়ার ইনভার্টার আমদানি নিষিদ্ধ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের দাবি, এসব পণ্য দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর জন্য সাইবার ও জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

মঙ্গলবার ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশন (এফসিসি) এই নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেয়। জাতীয় নিরাপত্তার কারণে যেসব পণ্য নিষিদ্ধের তালিকায় রয়েছে, তাতে যুক্ত হলো এই পণ্যগুলোও। নতুন নিয়ম সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর হয়েছে; তবে তা কেবল যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রির অনুমোদন পায়নি এমন মডেলগুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জ্বালানি ও ডেটা সেন্টারের মতো খাতগুলোতে চীনা প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা কমাতে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ এই পদক্ষেপ।

পাওয়ার ইনভার্টার সৌরবিদ্যুতের প্যানেল, ব্যাটারিসহ অন্যান্য বিদ্যুৎ উৎসকে গ্রিড ও ডেটা সেন্টারের সরঞ্জামের সঙ্গে যুক্ত করে। এ ছাড়া কারখানা, গুদাম ও গবেষণাকেন্দ্রগুলোতে মানবাকৃতির রোবট এবং চার পায়ে হাঁটা রোবট কুকুরের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। এফসিসি বলছে, এসব যন্ত্রপাতি সরবরাহ ব্যবস্থা ও সাইবার নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে, বিদেশি কোনো শক্তি যদি এসব যন্ত্রের নিয়ন্ত্রণ নিতে বা এগুলোকে ব্যবহার করে ক্ষতি করতে সক্ষম হয়, তবে ঝুঁকি আরও বাড়বে।

এফসিসির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘এই যন্ত্রপাতিগুলো সরবরাহ ব্যবস্থায় এমন দুর্বলতা তৈরি করতে পারে, যা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে পারে।’

এই নিষেধাজ্ঞার ফলে চীনা রোবটিকস কোম্পানি ‘ইউনিট্রি’ ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি মার্কিন চিপ নির্মাতা এনভিডিয়ার প্রযুক্তিতে চলা রোবট তৈরির জন্য এনভিডিয়ার সঙ্গে কাজ করছে। সম্প্রতি পেন্টাগন চীনা সামরিক বাহিনীর সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগে ইউনিট্রিকে একটি বিশেষ তালিকায় যুক্ত করেছে। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে বেইজিং।

ওয়াশিংটনে অবস্থিত চীনা দূতাবাস এই সর্বশেষ পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে। দূতাবাস চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানানো বন্ধ করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘বেইজিং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে, তারা যেন দুই দেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের বস্তুনিষ্ঠ ও যৌক্তিক কণ্ঠকে গুরুত্ব দেয় এবং চীনা কোম্পানিগুলোকে হেয় করা ও নিষেধাজ্ঞার হুমকি দেয়া বন্ধ করে।’ চীনা দূতাবাস আরও জানিয়েছে, চীনের স্বার্থে বস্তুগত ক্ষতি করে এমন যেকোনো পদক্ষেপের জবাবে সরকার ‘প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা’ নেবে।

এফসিসির এই পদক্ষেপে চীনে তৈরি নতুন পাওয়ার ইনভার্টারও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই খাতে চীনের শীর্ষস্থানীয় সরবরাহকারীদের মধ্যে হুয়াওয়ে ও সানগ্রো অন্যতম। তবে যেসব পণ্য এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রির অনুমোদন পেয়েছে, সেগুলোর ওপর এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না। যদিও কিছু কিছু ক্ষেত্রে এফসিসি সেই অনুমোদন বাতিলও করতে পারবে।

যুক্তরাষ্ট্রে অত্যাধুনিক পণ্য উৎপাদন সম্প্রসারণে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের চাপের মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত এল। টেসলা, ফিগার এআই, অ্যাজিলিটি রোবটিকস এবং বোস্টন ডায়নামিকসের মতো প্রতিষ্ঠান বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রেই মানবাকৃতির রোবট তৈরি বা সংযোজন করছে। টেসলা জানিয়েছে, তারা নিজেদের অপটিমাস রোবটের উৎপাদন বাড়াবে। ফিগার এআই ও অ্যাজিলিটি রোবটিকস এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে শিল্প খাতে ব্যবহারযোগ্য রোবট উৎপাদনের কারখানা চালু করেছে।

এই পদক্ষেপ ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যকার উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। উন্নত চিপ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বাণিজ্য এবং কৌশলগত প্রযুক্তির সরবরাহ ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দেশ এমনিতেই পরস্পরের মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে।

এএম