যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ায় বাণিজ্যিক চলাচল স্বাভাবিক হয়নি হরমুজ প্রণালিতে। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ নৌ-রুটে ট্রাম্পের অবরোধের ঘোষণায় সমুদ্রপথে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল হুমকির মধ্যেই রয়ে গেছে। এর প্রভাবে প্রায় প্রতিটি দেশেই রেকর্ড পরিমাণে বেড়েছে জ্বালানির দাম। মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে আমদানির নির্ভর দেশগুলো।
আগামী দুই সপ্তাহে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা বা যুদ্ধবিরতি না হলে, মন্দার কবলে পড়বে গোটা বিশ্ব অর্থনীতি। এমন সতর্কবার্তা দিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল আইএমএফ। যেখানে বলা মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ক্রমেই বাড়ছে। এছাড়া যুদ্ধের স্থায়িত্ব, তীব্রতা ও পরিধি চলতি বছরের মাঝামাঝি পর্যন্ত বজায় থাকতে পারে।
যুদ্ধের প্রভাবে ২০২৬ সালে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি কমে ৩ দশমিক ১ শতাংশ হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আইএমএফ। তবে ২০২৭ সালের জন্য পূর্বাভাস ৩ দশমিক ২ শতাংশ অপরিবর্তিত রেখেছে। যদিও ২০২৫ সালের তুলনায় আগামী দুই বছর মন্দার দিকে যাচ্ছে বিশ্বের অর্থনীতি। পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে প্রবৃদ্ধি আড়াই শতাংশেও নেমে যেতে পারে।
আরও পড়ুন:
এদিকে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ ও অবরোধে সবচেয়ে বাজে প্রভাব পড়েছে জ্বালানি খাতে। তেল, গ্যাস ও সারের ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধিতে চলতি বছরে বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি শূন্য দশমিক ৬ পয়েন্ট বেড়ে ৪ দশমিক ৪ শতাংশ হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি। তবে তেলের দামে ঊর্ধ্বগতি থাকলে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৫.৪ শতাংশে পৌঁছাবে। যদিও ২০২৭ সালে কিছুটা কমবে বলে আশা আইএমএফের।
অর্থনৈতিক মন্দার কবলে পড়তে পারে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ। এছাড়া উদীয়মান বাজার এবং উন্নয়নশীল অর্থনীতির জন্য ২০২৬ সালের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ০ দশমিক ৩ শতাংশ পয়েন্ট কমিয়ে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ ধরা হয়েছে। মন্দার প্রভাবে জি-৭–ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে যুক্তরাজ্য।
এমন অবস্থায় জ্বালানি মজুত ও রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আরোপ থেকে বিরত থাকতে দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে আইএমএফসহ বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা। কারণ যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী রূপ নিলে জ্বালানির দাম অপরিবর্তিত থাকবে। ১৯৮০ সালের পর পঞ্চমবারের মতো ভয়াবহ মন্দার মুখে পড়বে বিশ্ব অর্থনীতি। জ্বালানি সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে আইএমএফ।





