ডাকসু ঘিরে প্রচারণায় ব্যস্ত প্রার্থীরা; ছাত্রদলের ১০ দফা ইশতেহার ঘোষণা

ছাত্রদলের ইশতেহার ঘোষণা
ক্যাম্পাস
শিক্ষা
0

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের উত্তাপ দিন দিন বেড়ে চলছে। নির্বাচনী প্রচারণার তৃতীয় দিনে ক্যাম্পাসে উৎসবমুখর পরিবেশ দেখা গেছে। প্রার্থীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মেলামেশা ও ইশতেহার প্রচারে। কিছু প্রার্থী প্রশাসনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছেন। এদিকে, ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল তাদের ১০ দফা ইশতেহার ঘোষণা করেছে।

নির্বাচনের উত্তাপ বাড়ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ভোট গ্রহণের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, উৎসবের আমেজ ততোই বাড়ছে। নির্বাচনী প্রচারণার ৩য় দিনেই ১০টি প্রধান পরিকল্পনার ইশতেহার নিয়ে হাজির হয় ছাত্রদলের প্যানেল। ইশতেহার পাঠ করেন ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান।

ইশতেহারে রয়েছে আধুনিক ক্যাম্পাস গড়ে তোলা, নারী শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিত করা, মানসম্মত স্বাস্থ্য সেবা ও স্বাস্থ্য বিমা নিশ্চিত করা, কারিকুলাম, অবকাঠামো ও গবেষণার মানোন্নয়ন, পরিবহন ব্যবস্থা সহজ করা, হয়রানিমুক্ত প্রশাসনিক সেবা নিশ্চিত করা, পরিবেশ বান্ধব ক্যাম্পাস, কার্যকর ডাকসু এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে ঢাবিকে সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি করার মতো প্রতিশ্রুতি। আবিদুল ইসলাম খান জানান, এ ইশতেহারে শিক্ষার্থীদের মতামত প্রতিফলিত হয়েছে।

ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান বলেন, ‘গেস্টরুম ও গণরুম সংস্কৃতি, জোরপূর্বক রাজনৈতিক কর্মসূচি দমন ও নিপীড়নের মতো ঘৃণিত চর্চা বন্ধ করে ক্যাম্পাসকে চিরদিনের মতো দখলদার মুক্ত করা হবে। শিক্ষার্থী নিপীড়ন, র‍্যাগিং, অনলাইন অফলাইনে ঘৃণা ও মিসইনফরমেশন প্রতিরোধে ডাকসুর অধীনে একটি শিক্ষার্থী সুরক্ষা সেল গঠন করা হবে। শিক্ষার্থীদের যেকোনো প্রয়োজনে সেবা নিশ্চিত করে জরুরি হেল্প লাইন চালু করা হবে। প্রয়োজনীয় উদ্যোগের অংশ হিসেবে নতুন হল নির্মাণের দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ যেন ভর্তির দিন থেকেই প্রতিটা শিক্ষার্থীর জন্য একটি সিট এবং একটি পড়ার টেবিল নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।’

আরও পড়ুন:

এদিন বিভিন্ন প্যানেলের প্রার্থীরাও কেউ দল বেধে আবার কেউ বিচ্ছিন্নভাবে অংশ নিয়েছেন প্রচারণায়। দিচ্ছেন নানান প্রতিশ্রুতিও। প্রচারণায় পিছিয়ে নেই স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও।

বাগছাসের প্রার্থী মিতু আক্তার বলেন, ‘কলাভবনে ছেলেদের জন্য কোনো কমনরুম নেই। মেয়েদের জন্য একটি আছে সেটাও খুব রংচটা অবস্থায় আছে। কোনো সুসজ্জিত অবস্থা নেই, বসার ভালো জায়গা নেই। এসব বিষয় নিয়ে কাজ করবো। আমাদের লাইব্রেরিতে একটি হাইজিন ওয়াশরুমের ব্যবস্থা করবো।’

তবে প্রচারণায় অংশ নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদ অভিযোগ করে বলেন, ‘প্রশাসন কাউকে অতিরিক্ত সুবিধা দিচ্ছে। করছে পক্ষপাতিত্ব মূলক আচরণও।’

স্বতন্ত্র প্রার্থী মোসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদ বলেন, ‘সবাই কম বেশি আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছে কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থাই গ্রহণ করেনি।’

বাগছাস সমর্থিত জিএস প্রার্থী আবু বাকের মজুমদার বলেন, ‘তফসিল ঘোষণার পর থেকে নানা ধরনের বিধিমালা নির্বাচন কমিশন থেকে দেয়া হয়েছে। কিন্তু অনেকেই সেসব বিধিমালা মানছে না এটাও সত্য, আবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থাও নিচ্ছে না।’

আগামী ৯ সেপ্টেম্বর নির্বাচনকে ঘিরে অন্যান্য প্যানেলও ইশতেহার ঘোষণা করার কথা রয়েছে।

ইএ