আয়োডিনযুক্ত লবণের ব্যবহার বাড়ানোর আহ্বান স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর

প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত
দেশে এখন
স্বাস্থ্য
0

আয়োডিনযুক্ত লবণের শতভাগ ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত। দেশে এখনো ১২ শতাংশ মানুষ আয়োডিনের ঘাটতিতে ভুগছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগজনক মন্তব্য করে তিনি আয়োডিনযুক্ত লবণের ব্যবহার বাড়ানোর আহ্বান জানান।

আজ (মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) ভবনে বিশ্ব আয়োডিন দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত ‘বুদ্ধিদীপ্ত জাতি গঠনে আয়োডিনের গুরুত্ব’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আয়োডিনযুক্ত লবণ উৎপাদনকারী ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সহায়তা, আয়োডিনযুক্ত লবণ উৎপাদন বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সংশ্লিষ্ট আইন বাস্তবায়নে বিসিক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।’

মানসম্মত আয়োডিনযুক্ত লবণের উৎপাদন ও সরবরাহ বাড়াতে লবণ উৎপাদনকারীদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও উদ্বুদ্ধকরণের উদ্যোগ নিতে তিনি বিসিকের প্রতি আহ্বান জানান।

আরও পড়ুন:

তিনি বলেন, ‘জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত কার্যক্রমের মাধ্যমে আয়োডিনের ঘাটতি দূর করতে হবে।’

বিসিক চেয়ারম্যান বেনজীর আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খান বক্তব্য দেন।

বিসিক চেয়ারম্যান বলেন, ‘লবণ খাতকে আরও শক্তিশালী করতে জনবল বৃদ্ধি ও প্রশিক্ষণের ওপর বিসিক গুরুত্ব দিচ্ছে। সুস্থ ও সবল জাতি গঠনে আয়োডিনযুক্ত লবণের বাজারজাতকরণে বিসিক সবসময় অঙ্গীকারবদ্ধ। পরিচালনা পর্ষদ ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সমন্বয়ে জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে মানসম্মত আয়োডিনযুক্ত লবণের উৎপাদন ও সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিসিক কাজ করে যাচ্ছে।’

আলোচনায় বক্তারা জানান, আয়োডিন একটি অত্যাবশ্যকীয় অনুপুষ্টি। মানুষের স্বাভাবিক মানসিক ও শারীরিক বৃদ্ধির জন্য এটি অপরিহার্য। আয়োডিনের ঘাটতিজনিত সমস্যার মধ্যে গলগন্ড, হাবাগোবা, বামনত্ব, অকাল গর্ভপাত এবং শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধকতাসহ বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে।

আরও পড়ুন:

বিসিক জানায়, আয়োডিনের ঘাটতিজনিত সমস্যা সমাধানে সরকার ১৯৯০ সাল থেকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতায় বিসিকের মাধ্যমে সার্বজনীন আয়োডিনযুক্ত লবণ উৎপাদন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে আসছে। এ কর্মসূচির আওতায় লবণ মিলের নিবন্ধন প্রদান, মিলগুলোকে পটাশিয়াম আয়োডেট সরবরাহ, আয়োডিনযুক্ত লবণের মান নিয়ন্ত্রণ ও কারিগরি সহায়তা প্রদান, লবণ মিল ও বাজার পর্যায়ে মনিটরিং এবং আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহারে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

বিসিকের তথ্য অনুযায়ী, এসব কার্যক্রমের ফলে বর্তমানে দেশের ৮৮ শতাংশ পরিবার আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহার করছে। এর ফলে দৃশ্যমান গলগন্ড নির্মূল করা সম্ভব হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বলা হয়, কোনো দেশের ৯০ শতাংশ মানুষ আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহার করলে দেশটি পর্যাপ্ত আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহারে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পায়। বাংলাদেশও এ স্বীকৃতি অর্জনের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। আর মাত্র দুই শতাংশ মানুষকে আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহারের আওতায় আনতে পারলেই বাংলাদেশ এ স্বীকৃতি অর্জন করতে পারবে।

এ লক্ষ্য অর্জনে দেশবাসীকে আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহারে আরও সচেতন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।

এসএস