সম্প্রতি সৌদি আরবের প্রধানতম তেল পাইপলাইনের পাম্পিং স্টেশনে একাধিক ড্রোন হামলা চালায় ইরাকের ইরানপন্থী বিভিন্ন মিলিশিয়া। এর কিছুদিন পর তায়েফের কিং ফাহাদ বিমান ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে হ্যাঙ্গারে থাকা ইতালীয় বিমান বাহিনীর একটি ইউরোফাইটার টাইফুন যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়। এই দুটি হামলার আগেই সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোর ওপর দিয়ে রাশিয়ার একাধিক সামরিক স্যাটেলাইট দফায় দফায় চক্কর দিয়ে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করেছিল বলে প্রমাণ মিলেছে।
জেনেভাভিত্তিক ভূস্থানিক গোয়েন্দা সংস্থা অরোরা জিওসিগন্যাল ইন্টেলিজেন্স জানিয়েছে, গত জুলাই থেকে অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে সৌদি আরবের ওপর ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী ও ইরাকের মিলিশিয়াদের চালানো অন্তত ৪০টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা তারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে। সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাতা এবং কিংস কলেজের ওয়ার স্টাডিজের গবেষক নওয়াফ ওবায়েদ জানান, প্রতিটি হামলার কয়েক দিন আগে এবং পরে লক্ষ্যবস্তুর ওপর রুশ সামরিক স্যাটেলাইটের অবস্থান নিশ্চিত হওয়া গেছে। উপগ্রহের এই গতিবিধির সঙ্গে হামলার শতভাগ মিল রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ওবায়েদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, লোহিত সাগরমুখী ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে হামলার আগে রাশিয়ার কসমস ২৬০০ সিরিজের ১১টি স্যাটেলাইটকে ওই এলাকায় নজরদারি জোরদার করতে দেখা যায়। এছাড়া তায়েফের ঘাঁটিতে সৌদি আরবের বিমানগুলোকে এড়িয়ে সুনির্দিষ্টভাবে ইতালির যুদ্ধবিমানে আঘাত হানার ঘটনা প্রমাণ করে যে এর পেছনে অত্যন্ত নিখুঁত গোয়েন্দা সহায়তা ছিল, যা হুথি বা ইরানিদের একক সক্ষমতার বাইরে।
সৌদি আরব ও হুথিদের একাধিক কর্মকর্তা এবং গোয়েন্দা বিশ্লেষকরা নিশ্চিত করেছেন যে হুথি ও তাদের মিত্ররা রাশিয়ার পাশাপাশি চীনের কিছু প্রযুক্তির সুবিধাও পেয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে থাকা ইরানি সামরিক উপদেষ্টারা রুশ স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে তা স্থানীয় মিলিশিয়াদের কাছে সরবরাহ করেন। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী রায়েদ ক্রিমলি সাংবাদিকদের জানান, ইরান ও হুথিরা রাশিয়া ও চীনের বিভিন্ন উৎস থেকে গোয়েন্দা সহায়তা পাচ্ছে এবং এই বিষয়ে রিয়াদ নিয়মিতভাবে মস্কো ও বেইজিংয়ের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে রুশ কর্তৃপক্ষ কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।
সৌদি আরবের অভ্যন্তরে হামলার পাশাপাশি ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধেও রুশ স্যাটেলাইটের তথ্য হুথিদের সামরিক অগ্রগতিতে বড় ভূমিকা রেখেছে। গত অক্টোবরে এডেনের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ এবং শাবওয়া প্রদেশের একটি সামরিক কেন্দ্রে প্রাণঘাতী হামলার আগেও রুশ স্যাটেলাইটের একই ধরনের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। বিশ্লেষকদের মতে, দূরপাল্লার সমরাস্ত্র ব্যবহারের চেয়ে তার পেছনে থাকা গোয়েন্দা নজরদারি ব্যবস্থা আধুনিক যুদ্ধের ক্ষেত্রে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।





