খালেদা জিয়ার প্রয়াণে যুক্তরাষ্ট্রে স্মরণসভা

মেক্সিকোর বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারি
প্রবাস
0

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার স্মরণে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তার প্রয়াণে শোক ও শ্রদ্ধা জানাতে আয়োজিত এই সভায় জিয়ার রাজনৈতিক জীবন এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে তার আজীবন সংগ্রামের কথা তুলে ধরেন বক্তারা।

বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী সাংবাদিক কেন্দ্র ওয়াশিংটন ডিসির ন্যাশনাল প্রেস ক্লাব। গতকাল (সোমবার, ১২ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় এখানেই জড়ো হয়েছিলেন বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও নীতিনির্ধারকরা। উদ্দেশ্য, সদ্য প্রয়াত বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ত্যাগ ও আদর্শকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করা।

মেক্সিকোতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারি বলেন, ‘সমগ্র বিশ্বব্যাপী শোক প্রকাশ করা হচ্ছে, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র প্রধানরা তাদের শোকবার্তা পাঠিয়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন দেশের জনগণের পক্ষ থেকেও শোক জানানো হয়েছে।’

স্মরণসভাটির আয়োজন করেন ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবের সদস্য ও মেক্সিকোতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী। খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি তাঁর সহকারী প্রেস সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

বক্তারা বলেন, নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে সংসদীয় গণতন্ত্রে উত্তরণ, প্রতিটি বাঁকে আপসহীন ছিলেন  জিয়া। শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করার আগ পর্যন্ত গণতন্ত্রের প্রশ্নে কোনো আপস করেননি তিনি ।

আরও পড়ুন

বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত ডেন মজেনা বলেন, ‘দীর্ঘদিন বাংলাদেশে ছিলাম। তাকে কাছ থেকে দেখেছি বিরোধী দলে থাকা অবস্থায় তিনি অনেক কষ্ট সহ্য করেছেন। তবে কখনও অভিযোগ করেনি।’

মার্শা বার্নিকাট, বলেন, ‘খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তার পরিবার ও বাংলাদেশের মানুষের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। রাজনৈতিক জীবনে অনেক প্রতিকূলতার স্বাক্ষী তিনি। তার সংগ্রামকে টিকিয়ে রাখতে হবে।’

সভায় উঠে আসে, বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে খালেদা জিয়ার ওপর চলা কারা নির্যাতনের চিত্র। আলোচকরা জানান, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তাকে দীর্ঘ দিন বন্দি রাখা এবং সুচিকিৎসা থেকে বঞ্চিত রাখার মাধ্যমে তাকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়া হয়েছিল।

ওয়াশিংটন ন্যাশনাল প্রেসক্লাবের সভাপতি মার্ক শেফ বলেন, ‘খালেদা জিয়া মুক্ত গণমাধ্যম চর্চায় বিশ্বাসী ছিলেন। এ কারণে তার সংগ্রামী জীবনকে স্মরণ করতে ন্যাশনাল প্রেসক্লাবের এই আয়োজন।’

ওয়াশিংটন ন্যাশনাল প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মায়রন বিলকাইন্ড বলেন, ‘আমাদের দেশে নারী নেতৃত্ব না এলেও খালেদা জিয়াকে বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বেছে নেয় জনতা।’

সিনিয়র সাংবাদিক সরকার কবির বলেন, ‘রাজনৈতিক জীবনে বিরোধী দলের নেত্রী হিসাবে সরকারের নানা জুলুম- নির্যাতনের পক্ষে লড়ে গেছেন বেগম খালেদা জিয়া।’

এএম