১০ কোটি গিগাবাইট জলবায়ু তথ্য সংরক্ষণ; ট্রাম্প যুগে বিজ্ঞানীদের নতুন কৌশল

যুক্তরাষ্ট্রের কেনেডি স্পেস সেন্টারে নাসার লোগো
তথ্য-প্রযুক্তি
0

মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসার বিশাল পরিমাণ জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত জলবায়ু ও পরিবেশ সংক্রান্ত তথ্য একটি সুইস সুপারকম্পিউটারে কপি করেছেন গবেষকেরা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেলগুলোকে প্রশিক্ষণ দিতে এবং যুক্তরাষ্ট্রে বরাদ্দ কাটছাঁটের মধ্যে তথ্য সুরক্ষিত রাখতেই এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ডনের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

গত সপ্তাহের শেষদিকে সুইজারল্যান্ডের ফেডারেল ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি জুরিখ (ইটিএইচ) বিশ্ববিদ্যালয় এ কথা জানিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা নাসার প্রায় ১০০ পেটাবাইট তথ্য দক্ষিণাঞ্চলীয় লুগানো শহরে অবস্থিত সুইস ন্যাশনাল সুপারকম্পিউটিং সেন্টারে (সিএসসিএস) স্থানান্তর করেছেন।

ইটিএইচের জলবায়ু পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক এবং সেন্টার ফর ক্লাইমেট সিস্টেমস মডেলিংয়ের প্রধান রেতো নাত্তি বলেন, ‘এই তথ্যের বিশাল পরিমাণ কল্পনা করাও অসম্ভব।’ তিনি আরও জানান, প্রায় ৬০০ কোটি ফাইল কপি করতে এক বছর সময় লেগেছে। তথ্যের এই আকার প্রায় ২ কোটি ফিচার-দৈর্ঘ্যের সিনেমার সমান। ভবিষ্যতে গবেষকেরা মার্কিন ন্যাশনাল ওশানিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফিয়ারিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এনওএএ) বড় পরিসরের তথ্যভান্ডারও কপি করার পরিকল্পনা করছেন।

কয়েক দশক ধরে সংগৃহীত এই তথ্যভান্ডারে পৃথিবীর বিভিন্ন সিস্টেম, যেমন—গ্রিনহাউস গ্যাস, মেঘ, বৃষ্টিপাত ও বরফের স্তর সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রয়েছে। আবহাওয়া, জলবায়ু ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো ক্ষেত্রে দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য পূর্বাভাস দিতে সক্ষম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেলকে প্রশিক্ষণ দিতে এই তথ্য ব্যবহার করা হবে।

গবেষকেরা বলছেন, বৈজ্ঞানিক সমাজের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বরাদ্দ ব্যাপক হারে কমানোর সম্ভাবনা ও তার প্রভাব নিয়ে উদ্বেগও তাদের এই মিশনের পেছনে অন্যতম কারণ। যদিও এটি প্রধান চালিকাশক্তি ছিল না।

এই তথ্য স্থানান্তরের উদ্যোক্তা ইটিএইচের অধ্যাপক ও নাসার সাবেক প্রধান বিজ্ঞানী থমাস জুরবুচেন এক বিবৃতিতে বলেন, বিগত কয়েক দশকে পৃথিবী পর্যবেক্ষণে যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। নাসা ও এনওএএর ব্যাপক পরিমাপ কর্মসূচি ছাড়া আজকের পৃথিবী সম্পর্কে বিশ্ব ‘অনেক কম’ জানত।

গত বছর দায়িত্ব গ্রহণের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফেডারেল জলবায়ু বিজ্ঞান এবং পৃথিবী-পর্যবেক্ষণ কর্মসূচির বরাদ্দ ব্যাপকভাবে কমিয়েছেন। এসব কর্মসূচি আন্তর্জাতিক নজরদারি নেটওয়ার্কে তথ্য সরবরাহ করত। নাত্তি উল্লেখ করেন, ‘এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র তথ্যের ওপর অ্যাক্সেস সীমিত করেনি।’ তিনি বলেন, ‘তবে আমরা এটাও জানি যে মার্কিন প্রশাসনের সিদ্ধান্ত কখনো কখনো দ্রুত হয় এবং সম্পূর্ণ স্পষ্ট থাকে না।’

তিনি জোর দিয়ে বলেন, এখন পর্যন্ত যত তথ্য কপি করা হয়েছে, সবই ছিল জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত। ‘এটি কোনো গোপন বিষয় নয়। তথ্যই এখন নতুন সোনা।’

এএম