ফাইল ট্রান্সফারের প্রোগ্রেস বার ১০০% সম্পন্ন দেখানোর পরও কম্পিউটার কিন্তু এক্সটার্নাল ড্রাইভের কাজ পুরোপুরি শেষ নাও করতে পারে। কেননা এ সময় অপারেটিং সিস্টেম মেমোরি থেকে ক্যাশড ডাটা ড্রাইভে লেখা কিংবা ফাইল ডিরেক্টরি গুছিয়ে রাখার মতো কাজ চালাতে থাকে।
উদাহরণস্বরূপ, ম্যাকওএসে ফাইল ট্রান্সফার শেষ হওয়ার পরও ব্যাকগ্রাউন্ডে ‘টাইম মেশিন’ এবং ‘স্পটলাইট’ এর মতো ফিচারগুলো ড্রাইভের সঙ্গে যুক্ত থাকে। ক্যাবল খোলার আগে ইজেক্ট বা আনমাউন্ট করার জন্য কয়েক সেকেন্ড সময় দিলে তা ড্রাইভ বিচ্ছিন্ন করার আগেই কম্পিউটারকে চলমান প্রক্রিয়াগুলো নিরাপদে গুটিয়ে নেওয়ার সংকেত দেয়। এতে ডাটা করাপ্ট হওয়া বা ফাইল অসম্পূর্ণ থাকার ঝুঁকি কমে যায়।
ইজেক্ট না করে ড্রাইভ খুললে কী ঘটে?
ঠিকভাবে ইজেক্ট না করে ড্রাইভ খুলে ফেললে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে হয়তো দৃশ্যমান কোনো সমস্যা হয় না, তবে এই কাজের মধ্যে সবসময়ই ঝুঁকি থেকে যায়। আর সঠিকভাবে ড্রাইভ বিচ্ছিন্ন না করার ক্ষতিকর প্রভাবগুলো উইন্ডোজ, ম্যাক বা লিনাক্স—সব ধরনের অপারেটিং সিস্টেমেই প্রায় একই রকম। সামনে দৃশ্যমান কোনো ট্রান্সফার হোক বা ব্যাকগ্রাউন্ড প্রসেস, কাজ চলাকালীন হঠাৎ ড্রাইভ খুলে ফেললে প্রক্রিয়াটি অসম্পূর্ণ থেকে যায় এবং ফাইলগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
সবচেয়ে মারাত্মক বিষয় হলো, ফাইলের এ ক্ষতি অনেক সময় টের পাওয়া যায় না। অর্থাৎ, মূল ফাইলটি ঠিকঠাক কপি হয়ে গেছে ভেবে আপনি হয়তো তা কম্পিউটার থেকে ডিলিট করে দিলেন, কিন্তু পরে দামি ড্রাইভটি খুলে দেখলেন ভেতরের ফাইলটি পুরোপুরি অকেজো হয়ে গেছে।
এছাড়া, কাজ শেষ হওয়ার আগে ড্রাইভ টেনে খুলে ফেললে ফাইল সিস্টেম নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে। মূলত একটি ফাইল সিস্টেম হলো ড্রাইভের ভেতরের এমন এক মাস্টার রেকর্ড বা সূচি, যা কোনো ফাইল কোথায় এবং কীভাবে রয়েছে তার হিসাব রাখে। হঠাৎ করে ড্রাইভ খুলে নিলে ফাইল সম্পর্কিত আংশিক বা অসম্পূর্ণ তথ্য ড্রাইভে সংরক্ষিত রয়ে যায়।
উইন্ডোজ কম্পিউটারে ড্রাইভ আবার প্লাগ-ইন করলে যে স্ক্যান অ্যান্ড ফিক্স নোটিফিকেশন দেখায়, তা মূলত এই অসম্পূর্ণ তথ্যের কারণেই ঘটে। অন্যদিকে ম্যাক কম্পিউটারের পরিচিত ‘ডিস্ক নট ইজেক্টেড প্রপারলি’ সতর্কবার্তাটি সরাসরি ডাটা লসের লক্ষণ নয়; এটি কেবল একটি সতর্কীকরণ বার্তা।
আরও পড়ুন:
মূল বিপদ তখন ঘটে যখন কোনো ব্যাকআপ বা ফাইল রাইটিং চলার মাঝপথে ড্রাইভটির সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। কিছু বিরল ক্ষেত্রে, ইজেক্ট না করার ফলে ড্রাইভের পার্টিশন টেবিল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। পার্টিশন টেবিল হলো ড্রাইভের সূচিপত্র বা কন্টেন্ট লিস্টের মতো, যা দেখে অপারেটিং সিস্টেম ড্রাইভের বিভিন্ন সেকশনে কাজ করে।
পার্টিশন টেবিল নষ্ট হলে কম্পিউটার আপনার ড্রাইভটিকে ‘আনঅ্যালোকেটেড’ বা ‘নট ইনিশিয়ালাইজড’ হিসেবে দেখায়, যার ফলে ড্রাইভটি মেরামত না করা পর্যন্ত সম্পূর্ণ ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়ে।
ইজেক্ট না করে ড্রাইভ খোলা কি কখনো নিরাপদ হতে পারে?
সঠিকভাবে ইজেক্ট না করে ড্রাইভ বিচ্ছিন্ন করা কিছু ক্ষেত্রে নিরাপদ হতে পারে, বিশেষ করে যখন ড্রাইভটি পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় বা ‘আইডল’ অবস্থায় থাকে। ‘আইডল’ বলতে বোঝায়—কোনো অ্যাপ ড্রাইভটি ব্যবহার করছে না, এর কোনো ফাইল খোলা নেই এবং কোনো ট্রান্সফারও চলমান নেই। তবে সমস্যা হলো, আপনার চোখে ড্রাইভটি নিষ্ক্রিয় মনে হলেও কম্পিউটারের ব্যাকগ্রাউন্ডে হয়তো ভিন্ন কোনো কাজ চলছে যা আপনি খালি চোখে বুঝতে পারবেন না। ড্রাইভটি আসলেই আইডল কি না তা নিশ্চিত করতে যে সময় লাগে, তার চেয়ে ইজেক্ট বা আনমাউন্ট করে ফেলা অনেক বেশি দ্রুত এবং নিরাপদ।
হঠাৎ ড্রাইভ খুলে ফেলা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ, তা নির্ভর করে আপনার ব্যবহৃত অপারেটিং সিস্টেমের ওপর। উইন্ডোজ ১০ চালুর সময় মাইক্রোসফট রিমুভেবল ড্রাইভের জন্য ‘কুইক রিমুভাল’ নীতিকে ডিফল্ট সেটিংস হিসেবে যুক্ত করে। এটি পারফরম্যান্স সামান্য কমিয়ে হলেও হঠাৎ ড্রাইভ খোলার ঝুঁকি অনেকটাই কমায়।
আপনি চাইলে যেকোনো ড্রাইভের জন্য এই সেটিংস পরিবর্তন করতে পারেন—এজন্য স্টার্ট বাটনে রাইট-ক্লিক করে ‘ডিস্ক ম্যানেজম্যান্টে প্রবেশ করতে হবে। সেখানে নিচের তালিকা থেকে আপনার ড্রাইভটিতে রাইট-ক্লিক করে ‘প্রোপার্টিজ’ অপশনে যেতে হবে। এরপর পলিসিস ট্যাবে গিয়ে ‘কুইক রিমুভাল’ বা ‘বেটার পারফরম্যান্স’ যেকোনো একটি অংশ বেছে নিতে হবে।
ম্যাক কম্পিউটারের ক্ষেত্রে, ফাইল ট্রান্সফার শেষ হওয়ার পরও ব্যাকগ্রাউন্ডে টাইম মেশিন ব্যাকআপ এবং স্পটলাইট ইনডেক্সিংয়ের কাজ চলতে পারে, তাই ম্যাক ব্যবহারকারীদের জন্য ইজেক্ট করা খুবই জরুরি। তবে এ তিনটির মধ্যে লিনাক্স ব্যবহারে ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি; কারণ লিনাক্স গতি বাড়াতে ব্যাপকভাবে ‘রাইট ক্যাশিং’ এর ওপর নির্ভর করে। এতে স্ক্রিনে ফাইল ট্রান্সফার সম্পন্ন হয়েছে দেখালেও বাস্তবে কাজ শেষ হতে আরও কয়েক সেকেন্ড সময় নেয়। ফলে সে মুহূর্তে ক্যাবল বা ডিভাইস টেনে খুলে ফেললে ডাটা ড্রাইভে না গিয়ে মেমোরিতেই আটকে যায়।
বাজারের কিছু নতুন ড্রাইভে হঠাৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া থেকে ডাটা সুরক্ষার জন্য ইন-বিল্ট টেকনোলজি থাকে। তবে এসব সুরক্ষাব্যবস্থাও অনেক সময় ব্যর্থ হতে পারে, তাই অন্ধভাবে এগুলোর ওপর নির্ভর করা ঠিক নয়।
যেকোনো এক্সটার্নাল ড্রাইভ খোলার আগে তা ম্যানুয়ালি ‘ইজেক্ট’ বা ‘আনমাউন্ট’ করাই সবচেয়ে নিরাপদ পথ। এতে মাত্র কয়েক সেকেন্ড সময় লাগে, আর ব্যাকগ্রাউন্ডে কোনো কাজ বাকি থাকলে অপারেটিং সিস্টেম নিজে থেকেই আপনাকে সতর্ক করে দেবে—ফলে কোনো অনুমান বা ঝুঁকির ওপর নির্ভর করতে হবে না।





