সফটওয়্যারের ত্রুটি বের করছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা; বিশ্বজুড়ে সাইবার বিভ্রাটের শঙ্কা

একাধিক স্ক্রিনে কম্পিউটার কোড রান করছে
বিদেশে এখন
তথ্য-প্রযুক্তি
1

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত অগ্রগতির ফলে কম্পিউটার সফটওয়্যারের একের পর এক বড় ধরনের ত্রুটি ও দুর্বলতা ধরা পড়ছে। এর জেরে বিশ্বজুড়ে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন ওয়েবসাইটে সাইবার বিভ্রাট আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। চলতি সপ্তাহে বিশ্বজুড়ে সরকারি ওয়েবসাইটগুলোতে যে বিভ্রাট ছড়িয়ে পড়েছিল, তার পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে বলে সতর্ক করেছেন সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যভিত্তিক সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ভালনচেক জানিয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের কারণে সফটওয়্যারের ডিজিটাল ত্রুটি শনাক্তের হার আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণ হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি তাদের সাম্প্রতিক গবেষণায় এ তথ্য তুলে ধরেছে।

ডিজিটাল অবকাঠামো সেবাদাতা বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান ক্লাউডফ্লেয়ারের প্রধান নির্বাহী ম্যাথিউ প্রিন্স বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে জানান, ইন্টারনেটে ব্যবহৃত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সফটওয়্যারে বেশ কিছু মারাত্মক দুর্বলতা শনাক্ত হয়েছে এবং সেগুলোর ত্রুটি সংশোধনের কাজ চলছে। ইন্টারনেটের মৌলিক অবকাঠামোর দীর্ঘদিনের গোপন দুর্বলতাগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে সামনে আনছে, তাতে সামনের দিনগুলোতে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। ম্যাথিউ প্রিন্স বলেন, ‘আমার মনে হয় আগামী দুই বছর প্রতি সপ্তাহেই মনে হতে পারে মাথার ওপর আকাশ ভেঙে পড়ছে।’

চলতি সপ্তাহে ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারি ওয়েবসাইটগুলোতে বড় ধরনের বিভ্রাট দেখা দেয় পিএইচপি সফটওয়্যারের ত্রুটির কারণে। ইন্টারনেটের সিংহভাগ ওয়েবসাইট এই জনপ্রিয় প্রোগ্রামিং ভাষার ওপর নির্ভরশীল। হ্যাকাররা সুযোগ নেয়ার আগেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ত্রুটি সমাধানের চেষ্টা চালায় এবং অনেক প্রতিষ্ঠান ঝুঁকি এড়াতে ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখে। একই সময়ে প্রোগ্রামিং ভাষা নোড ডট জেএস, স্ট্রিমিং অ্যাপ প্লেক্স এবং ভারতীয় প্রতিষ্ঠান ই-মুদ্রার নিরাপত্তার ঘাটতিও প্রকাশ্যে আসে। ভালনচেকের গবেষক প্যাট্রিক গ্যারিটি জানান, ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত যেকোনো বিষয়ের সুরক্ষায় এখন প্রতিনিয়ত সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক প্রস্তুতি রাখতে হবে।

আধুনিক সফটওয়্যার কোড অত্যন্ত জটিল হওয়ায় অতীতে অভিজ্ঞ প্রোগ্রামারদের কোনো দুর্বলতা খুঁজে বের করতে কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস সময় লাগত। ফলে সফটওয়্যার নির্মাতারা ত্রুটি সংশোধনের পর্যাপ্ত সময় পেতেন। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আসার পর সেই হিসাব বদলে গেছে। এআই মডেলগুলো দিনরাত কোড যাচাই করে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দুর্বলতা খুঁজে বের করতে পারছে। ভার্জিনিয়াভিত্তিক প্রতিষ্ঠান রানসেফ সিকিউরিটির প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা শেন ফ্রাই জানান, কেবল দুর্বলতা খুঁজে পাওয়াই নয়, প্রতিপক্ষের তা দ্রুত অস্ত্রে পরিণত করার সক্ষমতা মৌলিকভাবে বদলে গেছে।

তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে দুর্বলতা শনাক্ত হলেই হ্যাকারদের হামলা মারাত্মক আকার নেবে কি না, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। ফাইল ট্রান্সফার টুল কার্ল-এর প্রধান ডেভেলপার ড্যানিয়েল স্টেনবার্গ ও সাইবার বিশেষজ্ঞ রামি রহমান মনে করেন, এআই মূলত যেসব জটিল ত্রুটি খুঁজে পায়, সেগুলো দিয়ে সাইবার অপরাধীদের সফল হামলা চালানো সহজ নয়।

সাময়িক সংকট তৈরি হলেও দীর্ঘ মেয়াদে এটিকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন ক্লাউডফ্লেয়ারের প্রধান নির্বাহী। বিষয়টিকে ভুতুড়ে বাড়ির দৈত্য তাড়ানোর সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, এটি অত্যন্ত ভীতিকর হলেও আড়ালে ঝুঁকি লুকিয়ে রাখার চেয়ে ইন্টারনেটের দুর্বলতাগুলো পুরোপুরি চিহ্নিত ও পরিষ্কার করে ফেলাই সবচেয়ে ভালো পথ।

এএম