মিনিয়াপোলিসে বুধবার সকালটা আসতে পারতো স্নিগ্ধতার পরশ হয়ে। অ্যানানসিয়েশন ক্যাথলিক স্কুলে গির্জায় প্রার্থনা সভা শুরুর সময়টাও হয়তো তেমনই ছিল। কিন্তু সারিবদ্ধ বেঞ্চিতে বসে শিশুরা যখন প্রার্থনার আবেশে, তখনই তাদের যমদূত হিসেবে আবির্ভূত হন এক বন্দুকধারী।
মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিসের ক্যাথলিক স্কুলের শিশুদের ওপর প্রাণঘাতী বন্দুক হামলায় যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে শোকের ছায়া। বেঁচে থাকা সহপাঠী ও স্বজনদের চোখ দিয়ে ঝরছে বিষাদের অশ্রু। ঘটনার সময়কার ভয়ংকর পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেছে গুলির নিশানা থেকে বেঁচে ফেরা পঞ্চম শ্রেণীর এক শিক্ষার্থী।
বেঁচে ফেরা শিক্ষার্থী বলে, ‘আমি প্রথমে ভেবেছিলাম গির্জার মধ্যে আতশবাজির শব্দ হচ্ছে। পরে বুঝতে পেরেছি এটি গুলির শব্দ। ভয় পেয়েছিলাম। একজন শিক্ষক আমাকে ক্লাসরুম থেকে নীচে নিয়ে গেলেন। আমরা কেবল প্রার্থনা করছিলাম।’
নিহতদের স্মরণ করা ছাড়াও গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত ১৭ জনের সুস্থতায়ও গির্জায় গির্জায় চলছে প্রার্থনার আয়োজন। শোক বার্তা পাঠিয়েছেন ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের প্রধান ধর্মগুরু পোপ চতুর্দশ লিও। হতাহতদের প্রতি রাষ্ট্রীয় সম্মান জানাতে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত পতাকা অর্ধনমিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরপর স্থানীয় সময় (বুধবার, ২৭ আগস্ট) থেকেই হোয়াইট হাউসসহ পুরো যুক্তরাষ্ট্রে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রয়েছে।
আরও পড়ুন:
গ্রীষ্মের ছুটি শেষ হওয়ার দু’দিন পর ২৭ আগস্ট স্কুলটির জানালা দিয়ে গুলি চালানোর পর হামলাকারী আত্মহত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ২৩ বছর বয়সী হামলাকারীর নাম রবিন ওয়েস্টম্যান।
আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০২০ সালে রবার্ট ওয়েস্টম্যান থেকে নাম পরিবর্তন করে রবিন করা হয়েছিলো। কারণ তিনি নিজেকে নারী হিসেবে পরিচয় দিতেন। তবে তার বিরুদ্ধে অপরাধমূলক কোনো রেকর্ড নেই। এ অবস্থায় আত্মঘাতী বন্দুক হামলার রহস্য উদঘাটনে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই তদন্ত শুরু করেছে।
মিনিয়াপলিস পুলিশ প্রধান ব্রায়ান ও’হারা বলেন, ‘২৩ বছর বয়সী সেই পুরুষের নাম রবিন ওয়েস্টম্যান। তবে এর আগে তার বিরুদ্ধে কোনো অপরাধমূলক ইতিহাস ছিল না। একটি রাইফেল একটি শটগান এবং একটি পিস্তল ছিলো। তিনটি আগ্নেয়াস্ত্রই আইন বৈধ ছিলো।’
আত্মঘাতী হামলার আগে ওই বন্দুকধারী একটি ইউটিউব চ্যানেল দুটি ভিডিও পোস্ট করেছিলো। একটি ভিডিও প্রায় দশ মিনিটের, যেখানে তার অস্ত্র, গুলি ও লোড করা ম্যাগাজিন দেখানো হয়েছে। অস্ত্রগুলোতে নানা অনিয়মিত ও রাজনৈতিক অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। ঘটনার পর ভিডিওগুলো ইউটিউব চ্যানেল থেকে সরিয়ে ফেলার কথা নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
ব্রায়ান ও’হারা আরও বলেন, ‘ইউটিউবে প্রকাশিত ভিডিওতে হামলাকারী স্বাভাবিক অবস্থায় ছিলো না। তার অস্ত্রের কয়েকটি ম্যাগাজিনে বিদ্বেষমূলক শব্দও লেখা হয়েছে। পরে এফবিআইয়ের সহায়তায় ভিডিওটি সরিয়ে নেয়া হয়। এটি এখন আমাদের তদন্তকারীদের পর্যালোচনাধীন রয়েছে।’
ইউটিউবে প্রকাশিত ভিডিওতে হামলাকারীকে বিরক্তিকর অবস্থায় দেখা গেছে। ম্যাগাজিনে বিরক্তিকর লেখাও রয়েছে। এফবিআইয়ের সহায়তায় ভিডিওটি সরিয়ে নেয়া হয়েছে। এটি এখন আমাদের তদন্তকারীদের দ্বারা পর্যালোচনাধীন রয়েছে।