অর্থনৈতিক চাপের মধ্যেও ইউক্রেনকে ২৫০ কোটি ডলার সহায়তা কানাডার

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি
বিদেশে এখন
0

অর্থনৈতিক সংকট যেন পিছু ছাড়ছে না কানাডার। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, মন্থর জিডিপি প্রবৃদ্ধি আর বেকারত্বের চাপে নাজুক জীবনযাত্রা। এরমধ্যে ইউক্রেন ইস্যুতে সাবেক জাস্টিন ট্রুডো সরকারের মতোই অবারিত সহায়তার দ্বার উন্মুক্ত করেছে মার্ক কার্নি সরকার। যা জনমনে নতুন করে প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি করেছে।

কানাডার অর্থনৈতিক সংকট কাটানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসেন জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ মার্ক কার্নি। আট মাস পার করার পর এখনো পথ খুঁজছে সরকার। সুরাহা হয়নি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য শুল্কের বিষয়ও। বেকারত্বের হার ওঠানামা করছে।

এ বাস্তবতার মধ্যেই ইউক্রেনকে ২ দশমিক ৫ বিলিয়ন কানাডিয়ান ডলার, অর্থাৎ ২৫০ কোটি ডলার অর্থনৈতিক সহায়তা ঘোষণা করে কানাডা। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সাম্প্রতিক কানাডা সফরে এ ঘোষণা দেন মার্ক কার্নি।

অটোয়ার দাবি, বরাদ্দ করা অর্থ ইউক্রেনের অর্থনীতি সচল রাখা, আন্তর্জাতিক ঋণ পরিশোধ এবং যুদ্ধকালীন প্রশাসনিক ব্যয় মেটাতে খরচ করা হবে।

তবে অর্থনীতির চিত্র ভিন্ন কথা বলছে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, কানাডার জিডিপি প্রবৃদ্ধি দুর্বল, বেকারত্বের হার ৭ শতাংশের ওপরে, আর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি থাকলেও খাদ্য ও নিত্যপণ্যের দাম এখনও চাপে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ পরিস্থিতিতে বিদেশে বিপুল অংকের সহায়তা রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর বিষয়।

আরও পড়ুন:

কানাডার গবেষক ও অর্থনীতিবিদ, সাকিবা জেবা বলেন, ‘পুরো বিষয়টাই আসলে একটি ফরেন পলেসি ভিত্তিক উদ্যোগ। কারণ বৈশ্বিক পরিসরে কানাডাকে বন্ধুও খুব ভালোভাবে নির্বাচন করতে হবে, একইভাবে শত্রুকেও সতর্কভাবে নির্বাচন করতে হবে। ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কানাডার সম্পর্কের টানা-পোড়ন চলছে এছাড়া রাশিয়ার সঙ্গেও সম্পর্ক ভালো বলা যাবে না। এ আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে ন্যাটো সঙ্গে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার একটি করার বার্তা দিল কানাডা।’

এর মধ্যেই নতুন করে বিতর্কে এসেছে আরেকটি সিদ্ধান্ত। ইউক্রেনের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন কানাডার সাবেক অর্থমন্ত্রী ও উপপ্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ড- যিনি এখনও ক্ষমতাসীন লিবারেল পার্টির পার্লামেন্ট সদস্য।

এ নিয়োগকে কেন্দ্র করে এবার সরাসরি পদত্যাগের দাবি তুলেছে বিরোধী দল কনজারভেটিভ পার্টি। দলটির ভাষ্য, এক দেশের সংসদ সদস্য থাকা অবস্থায় অন্য একটি রাষ্ট্রের সরকার প্রধানের উপদেষ্টার দায়িত্ব গ্রহণ করা সংবিধানিক ও নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। কনজারভেটিভদের স্পষ্ট বক্তব্য- হয় তিনি ইউক্রেনের অর্থনৈতিক উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করবেন, না হয় কানাডার পার্লামেন্ট সদস্য হিসেবে থাকবেন। একসঙ্গে দু'টি দায়িত্ব পালন করা স্পষ্টত স্বার্থের সংঘাত। কারণ এমনিতেই কিয়েভের দিকে ঝুঁকে আছে অটোয়া।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অবস্থান শক্ত করার কৌশল হিসেবে ইউক্রেনকে সহায়তা অব্যাহত রাখলেও- দেশের অর্থনীতি ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর এর প্রভাবই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

এএম