থার্মাল স্যুট পড়ে আইস ফ্লোটিংয়ে মেতেছে রাশিয়া

আইস ফ্লোটিং করছে
বিদেশে এখন
0

বিশেষভাবে তৈরি থার্মাল স্যুট পড়ে মাইনাস ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ‘আইস ফ্লোটিং’ নামের এক অভিনব আয়োজন হয়েছে রাশিয়ার মস্কোতে। ২০ থেকে ৪০ মিনিট পর্যন্ত বরফঠান্ডা পানিতে ভেসে উপভোগ করছেন অংশগ্রহণকারীরা। স্যুটগুলো মূলত সামুদ্রিক জরুরি পরিস্থিতির জন্য তৈরি সারভাইভাল স্যুট, যা ৬ মিলিমিটার পর্যন্ত পুরু, ফলে পানিও এতে ঢুকে না। প্রস্তুতকারকের দাবি, এ স্যুট ছয় ঘণ্টা পর্যন্ত শরীরের তাপমাত্রা ধরে রাখতে সক্ষম।

মস্কোর কনকনে শীতের মধ্যেই এক ব্যতিক্রমী আয়োজন। রৌদ্রোজ্জ্বল এক সকালে, তাপমাত্রা যখন মাইনাস ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও নীচে, তখন রাশিয়ার রাজধানীর একদল উৎসাহী বরফ ভেঙে ভয়ঙ্কর ঠান্ডা পানিতে অংশ নেন ‘আইস ফ্লোটিং’ নামের অভিনব আয়োজনে। লাল রঙের বিশেষ পোশাক পড়ে বরফঠান্ডা পানিতে ভেসে থাকা এই মানুষগুলোকে দূর থেকে যেন মহাকাশচারীর মতোই দেখাচ্ছিল।

বিশেষভাবে তৈরি এ থার্মাল স্যুট পরে ২০ থেকে ৪০ মিনিট পর্যন্ত ‘আইস ফ্লোটিং’-এ ব্যস্ত সবাই। এ স্যুট শরীরের তাপমাত্রা ধরে রাখে, ফলে প্রশিক্ষণহীন ব্যক্তিরাও নিরাপদে এ অভিজ্ঞতা নিতে পারেন। অংশগ্রহণকারীরা রয়টার্সকে জানান, পানিতে নামার সময় হালকা শীতল অনুভূতি হলেও সেটি মোটেও কষ্টকর নয়।

অংশগ্রহণকারীদের একজন বলেন, ‘আমি ভেতরে থার্মাল পোশাক পরে আছি, তার ওপর এ স্যুটটি। এ কারণেই সাঁতার কাটাটা এতো আরামদায়ক লাগে। অবশ্য স্যুটটি পরে ঠিকমতো সাঁতার কাটতে একটু অসুবিধা হয়।’

এ কার্যক্রমটি এর আগে স্ক্যান্ডিনেভিয়া ও রাশিয়ার উত্তরাঞ্চলে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ভ্রমণপ্রিয় একটি দল মুরমানস্কসহ বিভিন্ন অঞ্চলে এমন অভিজ্ঞতা দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে মস্কোর মাঝখানেই এটি চালু করার সিদ্ধান্ত নেন।

আরও পড়ুন:

আয়োজকদের একজন বলেন, ‘আমরা দল হিসেবে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম মস্কোতে আইস ফ্লোটিং চালু করার। আমরা মুরমানস্ক অঞ্চলসহ অন্যান্য এলাকায় এমন ধরনের বিনোদন কার্যক্রম দেখেছি। আমরা অনেক ভ্রমণ করি, তাই ভাবলাম এমন একটি অভিজ্ঞতা চালু করে দেখা যায়।’

তাদের ব্যবহৃত স্যুটগুলো মূলত সামুদ্রিক জরুরি পরিস্থিতির জন্য তৈরি সারভাইভাল স্যুট, যা ৬ মিলিমিটার পর্যন্ত পুরু, ফলে পানিও এতে ঢুকে না। প্রস্ততকারকের দাবি, এই স্যুট ছয় ঘণ্টা পর্যন্ত শরীরের তাপমাত্রা ধরে রাখতে সক্ষম।

একজন অংশগ্রহণকারী বলেন, ‘পানিতে নামার সঙ্গে সঙ্গেই চারদিক থেকে এক ধরনের কোমল উষ্ণতা শরীরকে জড়িয়ে ধরে, যা একেবারেই ভিন্ন অনুভূতি।’

অংশগ্রহণকারীদের অন্য আরেকজন বলেন, ‘সবচেয়ে বেশি অবাক করেছে পানিতে নামার সঙ্গে সঙ্গেই চারদিক থেকে এক ধরনের কোমল উষ্ণতা শরীরকে ঘিরে ধরে। অনুভূতিটা ছিল খুবই অদ্ভুত। অভিজ্ঞতাটা সত্যিই দারুণ লেগেছে।’

এটি সাধারণ সাঁতারের মতো নয়, বরং সমুদ্রে ভেসে থাকার মতো অনুভূতি। যদিও স্যুটটি চলাফেরায় কিছুটা বাধা দেয়, তবুও ভেসে থাকার আরাম আর উষ্ণতাই এ অভিজ্ঞতাকে করে তুলেছে উপভোগ্য ও স্মরণীয়।

এফএস