যুদ্ধের ভয়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ‘বাঙ্কার’; ধনকুবেরদের যার যেমন প্রস্তুতি

আর্কটিক সার্কেলে অবস্থিত সভালবার্ড গ্লোবাল সিড ভল্ট
বিদেশে এখন
0

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক উত্তেজনা (Recent Iran-US tensions in the Middle East) বিশ্বজুড়ে নতুন করে যুদ্ধভয়ের (Fear of war) জন্ম দিয়েছে। সম্ভাব্য বৃহৎ সংঘাতের আশঙ্কায় (Apprehension of large-scale conflict) শুধু সাধারণ মানুষই নয়, প্রযুক্তি জগতের ধনকুবের (Tech billionaires) এবং ক্ষমতাধর ব্যক্তিরাও নিরাপদ আশ্রয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ফলে আবারও আলোচনায় এসেছে তথাকথিত ‘ডুমসডে বাঙ্কার’ (Doomsday bunker)—যা মূলত পারমাণবিক হামলা বা বড় দুর্যোগ থেকে বাঁচতে নির্মিত এক ধরনের ভূগর্ভস্থ আশ্রয়কেন্দ্র (Luxury underground shelter)।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানে যৌথ হামলা (Joint attack on Iran by US and Israel) এবং তেহরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বিস্তারের আশঙ্কা (Fear of war spreading in the Middle East) তৈরি হয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোলান্ড টাম্প–এর প্রশাসনের অন্তত দুই কর্মকর্তা পারমাণবিক হামলা প্রতিরোধী বাঙ্কার (Nuclear-resistant bunkers) কিনেছেন বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান অ্যাটলাস সারভাইভাল শেলটার্স–এর প্রধান নির্বাহী রন হাবার্ড।

দ্য টেলিগ্রাফকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘ইরান যুদ্ধ ঘিরে উত্তেজনা শুরু হওয়ার পর বাঙ্কার নিয়ে অনুসন্ধান (Bunker inquiries) প্রায় দশ গুণ বেড়ে গেছে। তার প্রতিষ্ঠান এমন বাঙ্কার তৈরি করে যা ড্রোন হামলা (Drone attack), ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (Ballistic missiles) এমনকি পারমাণবিক বিস্ফোরণ (Nuclear explosion) থেকেও সুরক্ষা দিতে পারে।’

হাবার্ড জানান, এসব বাঙ্কারের দাম (Bunker prices) কয়েক কোটি ডলার পর্যন্ত হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে সেগুলোতে সিনেমা হল, সুইমিং পুল, অস্ত্র প্রশিক্ষণক্ষেত্রসহ বিভিন্ন বিলাসবহুল সুবিধাও রাখা হয়। যুদ্ধ বা বড় দুর্যোগের সময় দীর্ঘদিন স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে থাকার মতো ব্যবস্থা এতে থাকে।

আরও পড়ুন:

প্রযুক্তি ধনকুবেরদের প্রস্তুতি (Preparation of Tech Billionaires)

বড় প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের মধ্যেও এমন প্রস্তুতির কথা বহুদিন ধরেই আলোচিত। ওপেনএআই প্রধান স্যাম অল্টম্যান (OpenAI chief Sam Altman), মেটা প্রধান মার্ক জাকারবার্গ (Meta chief Mark Zuckerberg) কিংবা বিনিয়োগকারী পিটার থেইলের মতো অনেক ধনকুবেরের ব্যক্তিগত আশ্রয়কেন্দ্র বা বাঙ্কার থাকার বিষয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, হাওয়াই দ্বীপ কাউয়াইতে জাকারবার্গের বিশাল জমিতে নির্মিত কমপ্লেক্সে একটি ভূগর্ভস্থ আশ্রয়কেন্দ্র (Underground shelter) রয়েছে বলে ধারণা করা হয়।

যদিও তিনি এটিকে কেবল একটি ‘বেসমেন্টের মতো আশ্রয়’ বলে উল্লেখ করেছেন।

বিশ্লেষকেরা বলেন, অনেক ধনকুবেরই এ ধরনের ব্যবস্থা রাখেন সম্ভাব্য বৈশ্বিক বিপর্যয়ের বিরুদ্ধে ‘অ্যাপোক্যালিপস ইন্স্যুরেন্স’ (Apocalypse Insurance) হিসেবে—অর্থাৎ বড় দুর্যোগ ঘটলে বিকল্প নিরাপদ আশ্রয়।

রন হাবার্ড, স্যাম অল্টম্যান ও মার্ক জাকারবার্গ |ছবি: সংগৃহীত

যুদ্ধ ও অনিশ্চয়তার বাজার (Market of War and Uncertainty)

বাঙ্কার নির্মাণ ব্যবসায়ীরা (Bunker builders) বলছেন, বড় সংঘাত বা বৈশ্বিক সংকট দেখা দিলেই তাদের ব্যবসা বাড়ে। ইরান যুদ্ধের উত্তেজনার আগে রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ (Russia-Ukraine war) এবং গাজা সংঘাতের (Gaza conflict) সময়ও বাঙ্কারের চাহিদা বেড়েছিল।

আরও পড়ুন:

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠায় অনেক ধনী ব্যক্তি ও করপোরেট প্রধান ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে ভাবছেন। ফলে যুদ্ধের ভয় যেমন বাড়ছে, তেমনি বাড়ছে ভূগর্ভস্থ নিরাপদ আশ্রয় নির্মাণের বাজারও।

এএম