শান্তির আহ্বানে বিশ্বজুড়ে ইস্টার সানডে পালিত: সংঘাত থামানোর আহ্বান পোপের

ইস্টার সানডেতে পোপ লিও চতুর্দশ
বিদেশে এখন
0

ইস্টার সানডে উপলক্ষে দেয়া ভাষণে বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাত অবসানে বিশ্ব নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন পোপ লিও চতুর্দশ। ভ্যাটিকানে সমবেত জনতার উদ্দেশে দেয়া পোপের শান্তির বার্তা ঘিরে নতুন দিনের স্বপ্ন দেখছেন খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীরা। বিভিন্ন দেশে নানা আয়োজনে পালিত হলো যিশু যিশুখ্রিস্টের পুনরুত্থানের দিনটিকে। তবে সব আয়োজনে ছিল চলমান যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান।

খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীদের কাছে পরম আনন্দ ও তাৎপর্যপূর্ণ দিন ইস্টার সানডে। খ্রিষ্টীয় ধর্মের বিশ্বাস অনুযায়ী, মানবজাতিকে পাপ থেকে মুক্তি দিতে ক্রুশবিদ্ধ হয়ে আত্মোৎসর্গ করেছিলেন যিশুখ্রিস্ট। মৃত্যুর তিন দিন পর তিনি পুনরায় জীবিত ফিরে আসেন। এই পুনরুত্থান প্রমাণ করে যে ত্যাগের মাধ্যমেই প্রকৃত জীবনের সূচনা হয়।

ক্যাথলিক চার্চের প্রধান পোপ লিও চতুর্দশের বিশেষ বার্তা শুনতে ভ্যাটিকান সিটির সেন্ট পিটার্স স্কোয়ারে সমবেত হন হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ মানুষ। বিভিন্ন দেশ থেকে ভ্যাটিকানে ছুটে এসেছেন তারা। সেন্ট পিটার্স ব্যাসিলিকার বারান্দা থেকে দেয়া ভাষণে বিশ্ব নেতাদের চলমান সংঘাত অবসানের আহ্বান জানান পোপ লিও।

বৈশ্বিক অস্থিরতা ও চলমান যুদ্ধের মধ্যে পোপের বার্তা নতুন কিছু বইয়ে আনবে এমনটা প্রত্যাশা খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে। বিশ্ববাসীর মনে নতুন আশার সঞ্চার তৈরি করবে বলে ধারণা তাদের।

এর আগে ইরান যুদ্ধের স্পষ্টভাষী সমালোচক হিসেবে পরিচিত পোপ লিও জনতার উদ্দেশে আক্ষেপ করে বলেন, মানুষ সহিংসতায় অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে। আগামী ১১ এপ্রিল সেন্ট পিটার্স স্কোয়ারে ফিরে এসে শান্তির জন্য বিশেষ প্রার্থনাসভার আয়োজন করার ঘোষণা দেন পোপ লিও।

আরও পড়ুন:

নানা আয়োজনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পালিত হলো ইস্টার সানডে। গাজা সিটির হলি ফ্যামিলি গির্জায় আয়োজিত সভায় গাজা উপত্যকা ও ফিলিস্তিনিদের শান্তি প্রতিষ্ঠায় বিশেষ প্রার্থনা করা হয়। এদিকে, ইসরাইলের সঙ্গে লেবাননের চলমান যুদ্ধের মধ্যেও বিভিন্ন গির্জায় উৎসবের প্রার্থনায় যোগ দেন ক্যাথলিকরা। লেবাননে শান্তি ফিরে আসার প্রত্যাশায় প্রার্থনা করেন তারা।

বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় জার্মানিতে আয়োজিত ইস্টার শান্তি মিছিলে অংশ নেন কয়েক হাজার মানুষ। যুদ্ধবাজ না হয়ে শান্তিকামী হন এই স্লোগানে মিছিলটি জার্মানির রোমান ক্যাথলিকদের ঐতিহাসিক কোলন ক্যাথেড্রাল গির্জা পরিদর্শন করে। ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধের প্রতিবাদ ফুটে ওঠে এই আয়োজনে।

এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার মধ্যে জেরুজালেমের পুরাতন শহরের খ্রিস্টান, মুসলিম এবং ইহুদিদের সমস্ত পবিত্র স্থান উপাসনার জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। এমন অবস্থায় জেরুজালেমের পবিত্র সমাধিতে ইস্টার সানডে প্রার্থনায় অংশ নেন অল্প কয়েকজন ল্যাটিন ধর্ম যাজক। জনসমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল ইসরাইলি পুলিশ।

গ্রিক অর্থোডক্সরা জেরুজালেমের চার্চ অফ দ্য হোলি সেপালকারে পাম সানডে অনুষ্ঠানে সমবেত হন। পাম সানডে অর্থোডক্স খ্রিস্টানদের জন্য খ্রিস্টীয় বর্ষপঞ্জীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সপ্তাহ। নিরাপত্তার শঙ্কায় এবার নানা বিধিনিষেধের মধ্যে দিনটি পালন করতে হয়েছে তাদের।

রোমানিয়ার বুখারেস্টের জাতীয় ক্যাথেড্রালে অর্থোডক্স খ্রিস্টানরা পাম সানডে উপলক্ষে আয়োজিত গণ-প্রার্থনা ও শোভাযাত্রায় অংশ নেন। যিশু খ্রিস্টের জেরুজালেমে প্রবেশ স্মরণ করে হাজার হাজার উপাসক ও যাজক তালগাছে পাতা, ক্রুশ এবং আইকন হাতে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থোডক্স গির্জার চারপাশে পদযাত্রা করেন।

ইএ