আগের দিনই সেখানে পৌঁছান ইরানের সংসদের স্পিকার বাঘের গালিবাফের নেতৃত্বাধীন ৭১ সদস্যের প্রতিনিধি দল। এদিকে চুক্তিতে যেতে হলে ইরানের অধিকারকে যুক্তরাষ্ট্রের মেনে নিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন গালিবাফ। তবে আলোচনার নামে তামাশা না করতে ইরানকে সতর্ক করেছেন জেডি ভ্যান্স। শর্ত পূরণ না হলে কঠোর অবস্থানের হুঁশিয়ারি দুই পক্ষেরই।
অবশেষে শুরু হচ্ছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বহুল প্রতীক্ষিত বৈঠক। স্থানীয় সময় শুক্রবার রাতেই পাকিস্তানের ইসলামাবাদে পৌঁছেছে ইরানে প্রতিনিধি দল। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাইসহ ৭১ জনের সদস্যের এই দলের নেতৃত্বে রয়েছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। এরই মধ্যে পাকিস্তানের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দল। যার নেতৃত্বে রয়েছে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ।
এদিকে আলোচনার সদিচ্ছা থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আস্থা নেই বলে জানিয়েছেন বাঘের গালিবাফ। পাশাপাশি লেবানন যুদ্ধবিরতির শর্তের কথাও তুলে ধরেন তিনি। এদিকে, ইরানিরা সদিচ্ছা নিয়ে আলোচনা করলে, যুক্তরাষ্ট্র অবশ্যই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভেন্স।
আরও পড়ুন:
তবে আলোচনায় বসলেও দুপক্ষের মধ্যেই মতবিরোধ রয়েছে। যার প্রধান বিষয় হলো, যুদ্ধবিরতিতে লেবাননে ইসরাইলের আগ্রাসন। তবে চুক্তি ভঙ্গের বিষয়ে পরস্পরের দিকে আঙুল তুললেও আলোচনা নিয়ে আশাবাদী দু'পক্ষই। শর্ত পূরণ না হলে কঠোর অবস্থানের হুঁশিয়ারিও এসেছে উভয় পক্ষ থেকেই।
অন্যদিকে আলোচনার জন্য জেডি ভ্যান্সকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানান ইরানকে অব্যশই পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ করতে হবে। এবং দ্রুত হরমুজ প্রণালি খুলে দেয়া হবে বলেও জানান ট্রাম্প।
তিনি বলেন, প্রণালিটি খুলে যাবে, প্রণালিটা ছেড়ে দিলে তারা কোনো টাকা আয় করতে পারবে না। তাই এটা খোলা হবে, কিন্তু আমাদের কাছে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র নেই। আমরা প্রণালিটা ব্যবহারও করি না, যারা ব্যবহার করে, তারা এগিয়ে আসছে এবং তারা সাহায্য করবে
শনিবারের আলোচনায় যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে আশা করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। বলেন যুদ্ধ বন্ধ করার জন্য এই বৈঠকটি একটি বড় সুযোগ।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ বলেন, একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়েছে, কিন্তু আরও কঠিন পর্যায় হলো একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি। অর্থাৎ, আলোচনার মাধ্যমে জটিল বিষয়গুলোর সমাধান করা
এদিকে এই সম্মেলনকে স্বাগত জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব। এক বিবৃতিতে জাতিসংঘের মুখপাত্র জানান, সংঘাত প্রতিরোধের লক্ষ্যে একটি স্থায়ী চুক্তির জন্য দু'পক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।





