যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের যৌথভাবে হামলা শুরুর পর স্বল্প সময়ের ব্যবধানে এই সংঘাত পরিণত হয় জ্বালানি যুদ্ধে। উপসাগরীয় দেশের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা, হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়া ও সবশেষ ট্রাম্পের ইরানি বন্দর বন্ধের ঘোষণার জেরে টালমাটাল হয়ে যায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা। ৪৭ দিন পর হরমুজ সচল হলেও জ্বালানি সংকটের এক চাঞ্চল্যকর খতিয়ান হাজির করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
পরিসংখ্যান বলছে, হরমুজ প্রণালি বন্ধের পর বিশ্বজুড়ে অন্তত ৫শ’ মিলিয়ন ব্যারেল জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। যা যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় এক মাসের তেলের চাহিদার সমান।
আর আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ৫০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। এবং একে আধুনিক ইতিহাসের সবথেকে বড় জ্বালানি সরবরাহ বিপর্যয় হিসেবে আখ্যা দিয়েছে রয়টার্স। আরও দেখা যাচ্ছে, যুদ্ধের কারণে ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত ৬টি আরব রাষ্ট্রের গড় তেল বিক্রির পরিমাণ কমেছে ২০৬ মিলিয়ন ব্যারেলেরও বেশি।
আরও পড়ুন:
কিন্তু এই ৫শ’ মিলিয়ন ব্যারেল তেলের ঘাটতি আসলে কত বড় বিপর্যয়-তারই চুলচেরা বিশ্লেষণ করেছে রয়টার্স। দেখা যাচ্ছে, বিশ্ববাজারে ৫শ’ মিলিয়ন ব্যারেল তেলের সরবরাহ ঘাটতি মানে ১০ সপ্তাহের জন্য বিশ্বজুড়ে সব পরিবহণ ফ্লাইটের সংখ্যা কমিয়ে আনা। যদি এই তেলের মজুদ না থাকে তাহলে অন্তত ১১ দিন সড়কে সব ধরণের যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকতে পারে। এমনকি ৫শ’ মিলিয়ন ব্যারেল তেল সরবরাহ আটকে যাওয়া মানে ৫ দিনের জন্য পুরো বিশ্ব অর্থনীতিতে তেলের সরবরাহ বন্ধ থাকা।
আরও বলা হচ্ছে, এই জ্বালানি পুরো ইউরোপের এক মাসেরও বেশি সময়ের চাহিদার সমান। যা দিয়ে মার্কিন সেনাবাহিনীর ৬ বছরের জ্বালানি চাহিদা পূরণ করা যাবে। এবং এই জ্বালানি দিয়ে পুরো পৃথিবীর শিপিং ইন্ডাস্ট্রি চালানো যাবে প্রায় ৪ মাস পর্যন্ত।
গেল মার্চ মাসে উপসাগরীয় আরব দেশগুলো প্রতিদিন প্রায় ৮০ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন করতে পারেনি। এটি বিশ্বের দুই বড় কোম্পানি এক্সন মবিল ও শেভরন এর সম্মিলিত উৎপাদনের সমান। সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলো থেকে বিমানের জ্বালানি রপ্তানি মারাত্মকভাবে কমে গেছে। যেখানে ফেব্রুয়ারিতে প্রায় ২ কোটি ব্যারেল রপ্তানি হতো, মার্চ ও এপ্রিলে তা নেমে এসেছে মাত্র ৪০ লাখ ব্যারেলে। এই ঘাটতি দিয়ে নিউইয়র্ক থেকে লন্ডন পর্যন্ত ২০ হাজারবার আসা-যাওয়া করা সম্ভব। এপ্রিলে বিশ্বজুড়ে তেলের মজুত প্রায় সাড়ে ৪ কোটি ব্যারেল কমেছে এবং মার্চ থেকে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল তেলের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে যা কাটিয়ে ওঠতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে।





