আন্তর্জাতিক মে ডে-তে উত্তাল ছিল পশ্চিমা দেশগুলোর রাজপথ। হাজার হাজার মানুষের সমাবেশ থেকে শ্রমিকদের কাছ থেকে ওঠে আসে নানা দাবি।
দিবসটিতে বিশাল সমাবেশ হয় যুক্তরাষ্ট্রে। পুরো দেশজুড়ে ৩ হাজার ৫০০টি স্থানে লাখ লাখ মানুষ মে ডে স্ট্রং কর্মসূচিতে অংশ নেন। অভিবাসী ও শ্রমজীবীদের মর্যাদা, ন্যায় বিচার এবং স্বাধীনতার দাবিসহ ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির বিরুদ্ধে স্লোগান দেন তারা।
কর্মসূচিতে অংশ নেয়া বিক্ষোভকারীরা বলেন, আইসিইর এজেন্টদের কার্যক্রম আমাদের স্কুলে ও ছেলেমেয়েদের ভয় দেখাচ্ছে। প্রশাসন বাবা-মায়েদের ধরে নিয়ে যাচ্ছে এবং এরপর তারা হারিয়ে যাচ্ছে। আমরা এখানে এসেছি আইসিই ও যুদ্ধকে না বলতে। সেই সাথে বিদেশে শিশুদের ওপর শত শত কোটি ডলার ব্যয়ে বোমা ফেলার বিপক্ষে বলতে এসেছি।
মার্কিনীরা দিনটিতে অর্থনৈতিক অবরোধ ঘোষণা করে স্কুল, কাজ ও কেনাকাটা বর্জনের ডাক দেন। এর অংশ হিসেবে নিউইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সামনে ওয়াকআউট, পদযাত্রা, ব্লক পার্টি ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এদিকে মে ডে উপলক্ষে হওয়া অনুষ্ঠানে এক সমাবেশে শ্রমজীবীদের নিরাপত্তার ওপর জোর দিয়েছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি।
আরও পড়ুন:
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি বলেন, ইউনিয়ন ছাড়া নিউইয়র্ক সিটির কোন অস্তিত্ব নেই- এটি একটি ইউনিয়ন প্রধান ও শক্তিশালী শহর। ইউনিয়ন স্ট্রং শুধু কোন স্লোগান নয়, এটি সংহতির অনুশীলন মাত্র
শুধু নিউইয়র্ক নয় ওয়াশিংটন ডিসি, শিকাগো, লস অ্যাঞ্জেলেসসহ বড় বড় শহরগুলোতেও মে ডে উপলক্ষে বিভিন্ন সমাবেশ হয় । এসময় বিক্ষোভকারী শ্রমিকদের অগ্রাধিকার, যুদ্ধ বন্ধ এবং অভিবাসন দপ্তরের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করার দাবি জানান।
এদিকে, এ দিবস উপলক্ষে বেতন বৃদ্ধি, জীবন যাত্রার মান উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের দাবি জানিয়েছে বলিভিয়া শ্রমিক ইউনিয়ন। সরকার তাদের দাবি না মানা পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে বলিভিয়া শ্রমিক ইউনিয়ন।
এরিমধ্যে, মে ডে ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠে চিলি। প্রথম দিকে শ্রমিক ইউনিয়ন ও বিভিন্ন সংগঠনের আয়োজনে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ শুরু হলেও পরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাঁধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিক্ষোভকারীদের ওপর জল কামান ও কাঁদানে গ্যাস ছুঁড়ে তারা।
বিক্ষোভকারীরা বলেন, আমরা রাস্তায় অবস্থান করে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস পালন করছি। আজ নতুন সরকারের শাসনামলে চিলি এমন এক সংকটের মুখোমুখি যা ক্রমেই তীব্র হচ্ছে।
তুরস্কে মে ডে উপলক্ষে সমাবেশকারীরা ইস্তানবুলের তাকসিম স্কয়ারে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ বাঁধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনতে এসময় ৫ শতাধিক আন্দোলনকারীকে গ্রেপ্তার করে আইন-শৃঙ্খল বাহিনী।
জার্মানির বার্লিনেও মে দিবসে র্যালী চলাকালে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ বাঁধে। এসময় বেশ কয়েকজনকে আটক করে পুলিশ।





