তেল বিক্রি কমায় সৌদি আরবের বাজেট ঘাটতি ৩ হাজার ৩৫০ কোটি ডলার

সৌদি আরবের রিয়াদ শহর
বিদেশে এখন
0

হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ থাকায় তেল রপ্তানি আয় কমে যাওয়ায় বড় ধরনের বাজেট ঘাটতির মুখে পড়েছে সৌদি আরব। দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসেই এই ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ৫৭ কোটি রিয়াল বা প্রায় ৩ হাজার ৩৫০ কোটি ডলার। আল জাজিরা প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, বছরের প্রথম প্রান্তিকে সরকারের মোট ব্যয় ২০ শতাংশ বেড়ে ৩৮ হাজার ৬৬০ কোটি রিয়ালে ঠেকলেও তেল খাত থেকে আয় ৩ শতাংশ কমে ১৪ হাজার ৪৭০ কোটি রিয়ালে নেমেছে। এই বাজেট ঘাটতি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি এবং ২০২৫ সালের শেষ প্রান্তিকের তুলনায় প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বেশি। রিয়াদের এই আর্থিক চিত্র দেশটির বার্ষিক পরিকল্পনার তুলনায় সম্পূর্ণ বিপরীত। কারণ, ২০২৬ সালের পুরো বছরের জন্য সৌদি কর্মকর্তারা মাত্র ৬ হাজার ৫০০ কোটি রিয়াল বা ১ হাজার ৭০০ কোটি ডলার ঘাটতির প্রাক্কলন করেছিলেন।

খাতভিত্তিক ব্যয়ের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, অর্থনৈতিক খাতে সরকারি ব্যয় সবচেয়ে বেশি অর্থাৎ ৫২ শতাংশ বেড়েছে। এ ছাড়া সাধারণ খাতে ৪৬ শতাংশ এবং সামরিক, অবকাঠামো ও পরিবহন খাতে ২৬ শতাংশ ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে তেল-বহির্ভূত আয় ২ শতাংশ বাড়ায় তা পণ্য বিক্রির ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে দিয়েছে। বিশ্বের শীর্ষ তেল রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচল বন্ধ হওয়ায় বড় ধরনের অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে রিয়াদ। যদিও লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দর ও ‘ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের’ মাধ্যমে তারা তাদের রপ্তানি সচল রাখার চেষ্টা করছে।

বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। কিন্তু গত দুই মাসের বেশি সময় ধরে ইরানের হুমকির মুখে এই নৌপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত স্থবির হয়ে আছে। এই সংকটের মধ্যেই গত মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে শান্তি চুক্তির পথে ‘ব্যাপক অগ্রগতি’র কথা জানিয়ে প্রণালিটি উন্মুক্ত করার সামরিক অভিযান ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ স্থগিতের ঘোষণা দেন।

এএম