নতুন বিধিনিষেধে কোরবানি নিয়ে জটিলতা; লোকসানের শঙ্কায় পশ্চিমবঙ্গের খামারিরা

গরু নিয়ে বিপাকে পশ্চিমবঙ্গের খামারিরা
বিদেশে এখন
0

কুরবানির ঈদের আগে গবাদি পশু জবাই নিয়ে রাজ্য সরকারের আইনি কড়াকড়িতে বিপাকে পশ্চিমবঙ্গের খামারিরা। কারণ নতুন আইনি বাধ্যবাধকতায় রাজ্যের মুসলমানদের কোরবানি দেয়া নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। ফলে লোকসানের কবলে সনাতন ধর্মাবলম্বী পশু খামারি ও ব্যবসায়ীরা। এ অবস্থায় চলতি বছরের জন্য আইন শিথিল করতে রাজ্য সরকারের প্রতি জোর আহ্বান তাদের।

কয়েকদিন পরেই পবিত্র ঈদুল আজহা। ঠিক এর আগে গত ১৩ মে ১৯৫০ সালে হওয়া পশু জবাই নিয়ন্ত্রণ আইন কঠোরভাবে পালনে নতুন বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকার। মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসবের আগে শুভেন্দু অধিকারী প্রশাসনের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে, ঈদের আগে রাজ্য জুড়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।

গরুসহ সব গবাদি পশু বিক্রি সংক্রান্তি নতুন আইনি কড়াকড়িতে স্থবিরতা নেমে এসেছে পশ্চিমবঙ্গের হাটগুলোয়। এখনও খামারেই পড়ে রয়েছে গবাদি পশু। এতে বড় ধরনের লোকসানের দুশ্চিন্তায় সময় কাটছে খামারিদের। কারণ ঈদে লাভবান হওয়ার আশায় সারা বছর গবাদি পশু লালন-পালন করেন ছোট ও প্রান্তিক খামারিরা। যাদের অনেকেই সনাতন ধর্মাবলম্বী। গরু বিক্রি করতে না পারার জন্য খাবারের দোকানে বকেয়া টাকা জমা হয়ে আছে বলে জানান খামারিরা।

আরও পড়ুন

পশু কেনার জন্য অগ্রিম দিয়ে রাখা অর্থ ফের চাইছেন অনেক ক্রেতা। কারণ অনেকেই আগাম চুক্তি অনুযায়ী ক্রেতাদের কাছ থেকে রুপি নিয়ে রেখেছেন। এতে করে চরম আর্থিক সংকট ও অনিশ্চয়তার মুখোমুখি খামারি ছাড়াও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। ঋণের বোঝা ও জীবিকা হারানোর শঙ্কায় অনেকে। এমন পরিস্থিতিতে অন্তত চলতি বছরের জন্য আইনটি শিথিল রাখার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি জোর দাবি তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।

ঋণ নিয়ে আমরা গরু লালন পালন করেছি, এ অবস্থা চলতে থাকলে ঋণে আরও জর জড়িত হয়ে পড়ার কথা বলেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা।

৭৬ বছর পুরনো আইন অনুযায়ী, সরকারি কর্মকর্তার অনুমোদন ছাড়া গবাদি পশু জবাই নিষিদ্ধ। এমনকি ১৪ বছরের কম বয়সি গবাদি পশু কিছুতেই জবাই দেয়া যাবে না। যেখানে কোরবানির জন্য অধিকাংশ মানুষের পছন্দ সুস্থ ও তরতাজা গবাদি পশু। অথচ ঠিক ঈদের আগে এ আইনটি কঠোরভাবে বাস্তবায়নে মাঠে নেমেছে পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি সরকার।

জেআর