সাময়িক যুদ্ধবিরতিকে সংঘাত বন্ধের সূচনা মনে করা হলেও আসলে ক্ষেত্রবিশেষে এ বিরতি রণকৌশল পুনর্বিন্যাসের একটি বড় সুযোগ। গত এপ্রিলের শুরুতে ইরানের সঙ্গে অস্ত্রবিরতিতে রাজি হয় যুক্তরাষ্ট্র, এ ৬ সপ্তাহে পাকিস্তানের মাধ্যমে যুদ্ধ বন্ধের আলোচনার পথ উন্মুক্ত রেখেছে ওয়াশিংটন-তেহরান দুই পক্ষই।
কিন্তু শুধু আলোচনার ভরসায় বসে ছিল না ইরান। কারণ, আইআরজিসি ভালো করেই জানতো, সমঝোতার কথা বলে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক করার ফন্দি ট্রাম্পের মজ্জায় মজ্জায়। এ ৬ সপ্তাহে মার্কিন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক স্থাপনা মেরামত করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন কয়েকগুণ বাড়িয়েছে ইরান। আর এ পর্যবেক্ষণ খোদ মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থারই। সিএনএনের দাবি, প্রাথমিক অনুমানের চেয়ে অনেক দ্রুত পুনর্গঠিত হচ্ছে ইরানের সামরিক বাহিনী।
আরও পড়ুন
সিএনএনের প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি, লঞ্চার, প্যাড, অস্ত্র তৈরির কারখানাগুলো এরই মধ্যে সচল করেছে ইরান। প্রথমত, যা ইঙ্গিত করে, ফেব্রুয়ারির হামলার পরেও তেহরান উপসাগরীয় অঞ্চল ও ইসরাইলের জন্য ধরনের ধরণের হুমকি। দ্বিতীয়ত, মার্কিন ও ইসরাইলি হামলার কার্যকারিতাও এখানে প্রশ্নবিদ্ধ। কারণ ট্রাম্প-নেতানিয়াহু বহুবার দাবি করেছেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতা গুড়িয়ে দেয়া হয়েছে।
গত এপ্রিলে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা জানায়, ৪০ দিনের যুদ্ধ শেষে ইরানের প্রায় অর্ধেক ক্ষেপণাস্ত্র লাঞ্চার অক্ষত ছিলো। সাম্প্রতিক এ প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, এরই মধ্যে দুই তৃতীয়াংশ লাঞ্চার ব্যবহারে জন্য প্রস্তুত করে ফেলেছে আইআরজিসি।
এছাড়াও উপসাগরীয় দেশে হামলার জন্য মজুত রাখা ড্রোনের অর্ধেক এখনও ব্যবহারের উপযোগী। উপকূলে জাহাজ বিধ্বংসী ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর একটি বড় অংশ অক্ষত আছে। তাই হরমুজেও ইরানকে কাবু করা সহজ হবে না শত্রুপক্ষের জন্য।
সিএনএনের অনুসন্ধানে আরও দাবি করা হয়েছে, অল্প সময়ের মধ্যে পূর্ণশক্তি নিয়ে ইরানের যুদ্ধে ফেরার প্রস্তুতির নেপথ্যে আছে রাশিয়া ও চীনের সাহায্য। ট্রাম্প-নেতানিয়াহু দু’জনই এ একই অভিযোগ করলেও তা প্রত্যাহার করা ছাড়া অতিরিক্ত কোনো মন্তব্য করেনি বেইজিং।




