জ্বালানি সংকটের প্রভাব: সরকারবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল ইতালি-বলিভিয়া

বলিভিয়ার একটি সড়কে বিক্ষুব্ধ জনতা
বিদেশে এখন
0

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে দেখা দিয়েছে জ্বালানি সংকট। এতে ক্ষোভে ফুঁসছে ইতালি ও বলিভিয়ার মানুষ। এ ইস্যুকে কেন্দ্র করে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ নেমেছে কয়েক হাজার মানুষ। এছাড়াও বলিভিয়ায় সরকারবিরোধী বিক্ষোভে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে সার্বিয়াতে।

জ্বালানি তেলের দর বৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার খরচ হুরহুর করে বাড়তে থাকায় এবার রাজপথে নেমেছে ইতালির সাধারণ মানুষ। গেল শনিবার রোমে কয়েক হাজার মানুষ এর প্রতিবাদে বিক্ষোভে নামেন। মধ্যপ্রাচ্য অস্থিরতাকেই এই সংকটের পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে দুষছেন আন্দোলনকারীরা।

স্থানীয়দের একজন বলেন, ‘সাধারণ অফিস কর্মীদের জন্য সমস্যাটি গুরুতর হয়ে উঠেছে। জ্বালানির দাম ৩০ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে। বছরের পর বছর ধরে মজুরি না বাড়লেও বিদ্যুৎ ও পানির বিল বেড়েই চলেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দামও ক্রমাগত বাড়ছে।’

ইতালির ইউনিয়ন অর্গানাইজেশনের তথ্যমতে, পুরো দেশ থেকে প্রায় ১৫ হাজার মানুষ অংশ নিয়েছে এ বিক্ষোভে। সামনের দিনগুলোতে আরও বড় পরিসরে আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি তাদের।

অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ আরও তীব্র হচ্ছে লাতিন আমেরিকার দেশ বলিভিয়াতে। রাস্তাঘাট অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন কয়েক হাজার মানুষ।

আরও পড়ুন:

সে সময় ব্যর্থতার দ্বায় স্বীকার করে দেশটির ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজকে পদত্যাগের দাবি তোলেন বিক্ষোভকারীরা। টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে দেয় তারা। নিরাপত্তাকর্মীদের লক্ষ্য করে ছোঁড়ে ইটপাটকেল। পরিস্থিতি সামাল টিয়ারশেল ও কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে পুলিশ। একপর্যায়ে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় সেখানকার কয়েকটি শহর। এরই মধ্যে দাঙ্গা-বিরোধী ইউনিট, সাঁজোয়া যান মোতায়েন করে কর্তৃপক্ষ।

বলিভিয়ার স্থানীয়দের একজন বলেন, ‘আমি শুধু চাই রদ্রিগো পাজ পদত্যাগ করুক। আমরা তাকে আর চাই না। আমরা ভাইস প্রেসিডেন্ট এডমান্ড লারার ওপর আস্থা রেখেছি।’

গেল মে মাসের শুরুতে ধর্মঘটের মাধ্যমে শুরু হওয়া এ বিক্ষোভ দেশব্যাপী বড় আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। বিক্ষোভের সময় শ্রমিক ইউনিয়ন, খনি শ্রমিক এবং গ্রামীণ গোষ্ঠীগুলো আর্থিক সহায়তার দাবি করেন সরকারের কাছে। যদিও এ বিষয়ে কিছুই জানায়নি রুদ্রিগো প্রশাসন।

এফএস