আটলান্টিকে অভিযান; রুশ তেলবাহী জাহাজ আটক ফ্রান্সের

বিদেশে এখন
0

রাশিয়ার ওপর আরোপিত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ফাঁকি দিয়ে তেল পরিবহনের অভিযোগে একটি তেলবাহী জাহাজ আটক করেছে ফ্রান্সের নৌবাহিনী। ‘ছায়া নৌবহরের’ (শ্যাডো ফ্লিট) অংশ হিসেবে পরিচিত এই রুশ জাহাজটি আটকের ক্ষেত্রে ফ্রান্সকে সহযোগিতা করেছে ব্রিটেন। আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ আজ (সোমবার, ১ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) জাহাজটি আটকের কথা নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গতকাল (রোববার, ৩১ মে) আটলান্টিক মহাসাগরে ‘তাগর’ নামের ওই জাহাজটিতে ফরাসি নৌবাহিনী অভিযান চালায়। ম্যাক্রোঁ তার পোস্টে একটি ভিডিও যুক্ত করেন, যেখানে হেলিকপ্টার থেকে দড়ি বেয়ে সেনাসদস্যদের জাহাজে নামতে দেখা যায়।

ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ লিখেছেন, ‘আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে কোনো জাহাজ সমুদ্র আইন লঙ্ঘন করবে এবং ইউক্রেনে রাশিয়ার গত চার বছরের বেশি সময়ের যুদ্ধের খরচ জোগাবে—এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’ তিনি আরও যোগ করেন, সামুদ্রিক চলাচলের ন্যূনতম নিয়ম না মানা এই জাহাজগুলো পরিবেশ এবং সবার নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি।

ফরাসি কর্তৃপক্ষের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটি রাশিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় মুরমানস্ক বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। আটলান্টিক মেরিটাইম প্রিফেকচার জানিয়েছে, জাহাজটি ক্যামেরুনের ভুয়া পতাকা ব্যবহার করে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর লিম্বের দিকে যাচ্ছিল।

আটলান্টিক মেরিটাইম প্রিফেকচারের মুখপাত্র গুইলাম লে রাসলে বলেন, এই ট্যাঙ্কারটির ওপর ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তিনি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘এই জাহাজটি আগে থেকেই আমাদের নজরে ছিল এবং আমরা এটিকে ট্র্যাক করছিলাম। গতকাল (রোববার, ৩১ মে) সন্ধ্যায় জাহাজটির গতিপথ ঘুরিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয় এবং এর পতাকার বৈধতা যাচাই করাই ছিল আমাদের মূল উদ্দেশ্য।’

লে রাসলে আরও জানান, জাহাজটি ঘনঘন পতাকা পরিবর্তন করতো। তবে অভিযানের সময় জাহাজটি ‘প্রায় খালি’ ছিল। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা মেরিন ট্রাফিক জানিয়েছে, এক সপ্তাহ আগে যখন জাহাজটি সর্বশেষ স্বয়ংক্রিয় সংকেত পাঠিয়েছিল, তখন সেটি নরওয়ের উপকূলে ম্যাডাগাস্কারের পতাকা নিয়ে চলছিল।

আটলান্টিক মেরিটাইম প্রিফেকচার জানিয়েছে, ফ্রান্সের ব্রিটানি উপকূল থেকে প্রায় ৭৪০ কিলোমিটার পশ্চিমে আটলান্টিক মহাসাগরের গভীরে এই অভিযান চালানো হয়েছে।

এএম