সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেইয়েসাস গত রোববার কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলীয় এলাকা পরিদর্শনের সময় এই আহ্বান জানান। ইতুড়ি প্রদেশের রাজধানী বুনিয়াতে একটি চিকিৎসা কেন্দ্র উদ্বোধনের সময় তিনি বলেন, ‘আমরা এই ইবোলা রুখতে পারি এবং আক্রান্ত ব্যক্তিরা সুস্থও হতে পারেন। তবে নিয়ম হলো—এটি প্রত্যেকের দায়িত্ব এবং প্রতিটি নাগরিককে এতে যুক্ত হতে হবে।’
বর্তমানে ইতুড়ি প্রদেশ এই মহামারির কেন্দ্রস্থলে পরিণত হয়েছে। তবে মৃতদেহ সৎকারের কঠোর মেডিকেল প্রটোকল নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। বিক্ষোভকারীদের দাবি, এই বিধিনিষেধ তাদের স্থানীয় দাফন রীতির পরিপন্থী। এই উত্তেজনার জেরে ইতিমধ্যে অন্তত তিনটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার ঘটনা ঘটেছে।
টেড্রোস জানান, বর্তমান সংক্রমণের পেছনে দায়ী ‘বুন্দিবুগিও’ ভাইরাসের কোনো টিকা নেই, তবে আক্রান্তরা সঠিক চিকিৎসায় সুস্থ হতে পারেন। তিনি বলেন, ‘উপসর্গ দেখা দিলেই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আসুন। যত দ্রুত আসবেন, সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা তত বাড়বে।’ রোববার পর্যন্ত ৫ জন রোগী সুস্থ হয়েছেন এবং ৪ জনকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে।
কঙ্গোতে এখন পর্যন্ত ৯০৬ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে এবং ২২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে রেকর্ড করেছে ডব্লিউএইচও। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে আক্রান্তের সংখ্যা ২৮২ এবং মৃত্যু ৪২ জন। প্রতিবেশী উগান্ডাতেও নয়জন আক্রান্ত এবং একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
আরও পড়ুন:
খনিজ সমৃদ্ধ ইতুড়ি অঞ্চলে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যকার লড়াই ত্রাণ ও চিকিৎসা কার্যক্রমকে জটিল করে তুলেছে। এই পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে টেড্রোস বলেন, ‘কোনো সংঘাত বা ক্ষোভই নিরপরাধ মানুষকে একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়ার কারণ হতে পারে না।’
এদিকে ব্রাজিল কর্তৃপক্ষও সাও পাওলো ও রিও ডি জেনেইরোতে দুই ব্যক্তির ওপর নজর রাখছে। তাদের মধ্যে ইবোলার উপসর্গ দেখা দেয়ায় নিরাপত্তা প্রটোকল সক্রিয় করা হয়েছে।
কঙ্গোতে এবারের ইবোলা সংক্রমণকে আন্তর্জাতিক উদ্বেগের কারণ হিসেবে ‘পাবলিক হেলথ ইমার্জেন্সি’ ঘোষণা করেছে ডব্লিউএইচও। দেশটিতে এটি ১৭তম ইবোলা মহামারি। ১৯৭৬ সালে প্রথম শনাক্ত হওয়া এই রোগে গড় মৃত্যুর হার প্রায় ৫০ শতাংশ।
স্বাস্থ্যকর্মী ও ত্রাণ সংস্থাগুলো মাস্কসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকটের কথা জানিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে দেশটিকে বড় অঙ্কের আর্থিক ও চিকিৎসা সহায়তা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
চিকিৎসা সেবামূলক সংস্থা ‘মেদসাঁ সঁ ফ্রঁতিয়ে’ (এমএসএফ) সতর্ক করে বলেছে, ইবোলার এই বিস্তার অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং আগে কখনো এত দ্রুত এত মানুষ আক্রান্ত হয়নি। সংস্থার উপ-পরিচালক অ্যালান গঞ্জালেজ বলেন, ‘বাস্তবতা হলো, এই মহামারির প্রকৃত ভয়াবহতা এখনো কারও জানা নেই। প্রতিদিন নতুন নতুন রোগী শনাক্ত হলেও শত শত নমুনা এখনো পরীক্ষার অপেক্ষায় পড়ে আছে।’





