গত সোমবার হেনরির হত্যাকারী ২৩ বছর বয়সী শিখ যুবক বিক্রম দিগওয়াকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন আদালত। এরপরই সেই রাতের পুলিশের বডি ক্যামেরার ফুটেজ প্রকাশ্যে আসে। ভিডিওতে দেখা যায়, হেনরি মাটিতে শুয়ে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন এবং পুলিশকে বলছেন যে তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। এর জবাবে এক পুলিশ কর্মকর্তা তাকে বিদ্রূপ করে বলেন, ‘ছুরিকাঘাত? আমার মনে হয় না বন্ধু।’ এরপর মুমূর্ষু হেনরিকে হাতকড়া পরানো হয়। তিনি বারবার ‘আমি শ্বাস নিতে পারছি না’ বললেও পুলিশ কর্মকর্তারা কর্ণপাত করেননি।
বিক্রম দিগওয়া পুলিশকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে দাবি করেছিলেন যে, তিনি হেনরির বর্ণবাদী হামলার শিকার হয়েছেন। পুলিশ কর্মকর্তারা কোনো যাচাই ছাড়াই বিক্রমের কথা বিশ্বাস করেন এবং হেনরিকে গ্রেপ্তার করেন। আদালত অবশ্য নিশ্চিত করেছে যে, বর্ণবাদী হামলার কোনো ঘটনাই ঘটেনি, বরং বিক্রম মিথ্যে বলেছিলেন।
এই ফুটেজ প্রকাশের পর মঙ্গলবার রাতে সাউদাম্পটনে কয়েক শ মানুষ পুলিশের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। বিক্ষোভকারীরা ‘আমি শ্বাস নিতে পারছি না’ স্লোগান দিয়ে পদযাত্রা করেন। একপর্যায়ে দাঙ্গাপুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ বাধে। পুলিশের দিকে চেয়ার, পাথর ও ফ্লেয়ার ছুড়ে মারেন আন্দোলনকারীরা।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এই ভিডিও দেখে স্তম্ভিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, বর্ণবাদের অভিযোগ কেন পুলিশকে ভুল সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে প্ররোচিত করলো। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ভুল তথ্য ও উস্কানিমূলক মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে।
অন্যদিকে কট্টর ডানপন্থি নেতা নাইজেল ফারাজ এই ঘটনাকে পুঁজি করে দাবি করেছেন যে, ব্রিটেনে ‘শ্বেতাঙ্গদের অধিকারের চেয়ে জাতিগত সংখ্যালঘুদের গুরুত্ব বেশি দেয়া হচ্ছে’। তিনি এই ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্রে কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েড হত্যার সঙ্গে তুলনা করেছেন।
আদালতের রায়ে বিচারক উইলিয়াম মৌসলি বলেন, ‘বিক্রম দিগওয়া ধর্মীয় কারণে ব্যবহারের অনুমতি থাকা ছোট কৃপাণ ছাড়াও একটি ৮ ইঞ্চির বড় ডেগার সাথে রেখেছিলেন, যা দিয়ে তিনি হেনরিকে হত্যা করেন। পুলিশ ঘটনার জন্য হেনরির পরিবারের কাছে ক্ষমা চেয়েছে এবং জানিয়েছে, এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত চলছে। বিক্রমের মা কিরণ কৌর হত্যার অস্ত্র লুকিয়ে ফেলার দায়ে দণ্ডিত হয়েছেন এবং জুলাই মাসে তার সাজা ঘোষণা করা হবে।





