স্যাটেলাইট চিত্রে স্থাপনার অস্তিত্ব; পরক্ষণেই গায়েব, দক্ষিণ চীন সাগরে নতুন রহস্য

স্কারবরো শোলের প্রবেশপথে ভেলা সদৃশ কাঠামো
বিদেশে এখন
0

দক্ষিণ চীন সাগরের অত্যন্ত বিতর্কিত ‘স্কারবরো শোল’-এর প্রবেশপথে গত সপ্তাহে একটি রহস্যময় স্থাপনার উপস্থিতি ধরা পড়েছে। রয়টার্সের সংগ্রহ করা স্যাটেলাইট চিত্রে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেলেও পরের ছবিগুলোতে দেখা গেছে যে সেটি আর সেখানে নেই। ফিলিপাইন গতকাল (বুধবার, ৩ জুন) জানিয়েছে, তারা এই নতুন কাঠামোর খবরটি খতিয়ে দেখছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

২০১২ সালে এই প্রবাল প্রাচীরটির নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর থেকে চীন বারবার এখানে প্রতিবন্ধকতা তৈরির চেষ্টা করেছে। ফিলিপাইনের প্রতিরক্ষা সচিব গিলবার্তো তেওদোরো সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত ‘শাংরি-লা ডায়ালগ’-এর সাইডলাইনে সাংবাদিকদের জানান, তারা এই রহস্যময় স্থাপনা সম্পর্কে প্রাথমিক তথ্য পেয়েছেন।

স্যাটেলাইট চিত্র সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ভ্যানটর-এর বিশ্লেষকেরা জানিয়েছেন, গত ২৭, ২৯ ও ৩০ মে তোলা ছবিতে ওই জলপথের মুখে একটি ভাসমান ভেলা বা বয়া দেখা গেছে। এছাড়া ২৭ ও ২৯ মে-র ছবিতে একটি লম্বা ব্যারিয়ার বা প্রতিবন্ধকতার অস্তিত্বও মিলেছে। তবে ১ জুন তোলা ভ্যানটরের সবশেষ ছবিতে ওই কাঠামোর কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সামুদ্রিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা ‘সীলহাইট’ গত মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) ২৮ মে-র একটি ছবি পোস্ট করে জানায়, উপহ্রদের প্রবেশপথের কাছে রিফ ফ্ল্যাটে একটি ‘প্রতিফলনশীল বস্তু’ স্পষ্টভাবে দেখা গেছে। সংস্থাটির দাবি, এটি কোনো সাময়িক আলোক বিভ্রম ছিল না বরং একটি সুনির্দিষ্ট কাঠামো ছিল।

চীন এই এলাকাটিকে ‘হুয়াংইয়ান দাও’ নামে ডাকে। এটি এশিয়ার অন্যতম সংঘাতপ্রবণ সামুদ্রিক এলাকা। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এখানে চিনা কোস্টগার্ডের সঙ্গে ফিলিপিনো জেলেদের প্রায়ই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। মাছ ধরা ও ঝড়ের সময় জাহাজ আশ্রয়ের জন্য এই এলাকাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

গত রোববারও চিনা সামরিক বাহিনী ও কোস্টগার্ড এই এলাকায় টহল দিয়েছে। এর ঠিক আগেই ফিলিপাইন ও মার্কিন বাহিনী একই জলসীমায় পাঁচ দিনের এক নৌ মহড়া শেষ করে। উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে পার্মানেন্ট কোর্ট অফ আরবিট্রেশন এক রায়ে জানিয়েছিল যে, স্কারবরো শোলে চিনা অবরোধ আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। তবে গত বছর চীন ওই এলাকায় একটি ‘জাতীয় প্রকৃতি সংরক্ষণ কেন্দ্র’ তৈরির ঘোষণা দিলে ফিলিপাইন সেটিকে ‘দখলদারিত্বের অজুহাত’ হিসেবে বর্ণনা করে প্রতিবাদ জানায়।

এএম