জেনেভায় ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় যাচ্ছেন না মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স
বিদেশে এখন
0

ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ১৪ দফার শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নে শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় যাওয়ার কথা ছিল মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের। তবে শেষ মুহূর্তে এই সফর বাতিল করেছেন তিনি। গতকাল (বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন) রাতে হোয়াইট হাউসের একজন মুখপাত্র এই তথ্য জানিয়েছেন। রয়টার্সে প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

মার্কিন কর্মকর্তারা এই সপ্তাহে জানিয়েছিলেন যে, জেনেভায় চুক্তির আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান হবে। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এতে সন্দেহ প্রকাশ করে জানায়, গত বুধবার দুই দেশের প্রেসিডেন্ট চুক্তিতে সই করার পর এই আনুষ্ঠানিকতার আর কোনো প্রয়োজন নেই। আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, পরবর্তী আলোচনা শুরুর আগে অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি বাস্তবায়নের লক্ষণ যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে দেখতে চায় ইরান।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেন, ভ্যান্স ও মার্কিন প্রতিনিধি দল যেকোনো সময় রওনা হতে প্রস্তুত ছিলেন। তবে এই আলোচনার লজিস্টিক বা প্রস্তুতি কখনোই সহজ ছিল না। ইরান সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

কূটনৈতিক টানাপোড়েনের এই পরিস্থিতি আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতি স্থায়ী হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত অন্তত ৭ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম ব্যাপকভাবে বেড়েছে। এদিকে শান্তি আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত না হওয়া ইসরাইল লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের রিপাবলিকান মিত্রদের অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন যে, যুদ্ধ বন্ধ করতে গিয়ে প্রেসিডেন্ট অনেক বেশি ছাড় দিয়েছেন কি না। ট্রাম্প এর আগে বলেছিলেন, ‘ইরানের ‘‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’’ ছাড়া তিনি যুদ্ধ থামাবেন না।’ তবে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা থেকে অব্যাহতি, কয়েক হাজার কোটি ডলারের সম্পদ অবমুক্ত করা এবং ইরানকে অবিলম্বে তেল রপ্তানির সুযোগ দেয়া হয়েছে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মুজতবা খামেনি বলেছেন, ‘ট্রাম্প হতাশা থেকে এই চুক্তিতে সই করেছেন।’ তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আসন্ন আলোচনা সহজ হবে না। এক বার্তায় তিনি বলেন, ‘মার্কিন পক্ষ যদি অযৌক্তিক দাবি জানায়, তবে আমরা তা মেনে নেবো না।’

চুক্তি অনুযায়ী, আলোচকেরা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে চূড়ান্ত সমাধানে পৌঁছানোর জন্য ৬০ দিন সময় পাবেন। এছাড়া ইরানের পুনর্গঠনের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল গঠনের কথা বলা হয়েছে। ইরান জানিয়েছে, তারা প্রতিবেশী ওমানের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখবে। তবে যুদ্ধবিরতির ৬০ দিনের আলোচনাকালে জাহাজগুলোর কাছ থেকে কোনো ফি নেয়া হবে না।

গতকাল (বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন) ভোরে লেবাননে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। দেশটি জানিয়েছে, লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহারের কোনো ইচ্ছা তাদের নেই। তারা একটি বিস্তৃত দখলকৃত এলাকার নতুন মানচিত্রও প্রকাশ করেছে। লেবাননে ইসরাইলের অভিযান নিয়ে ট্রাম্প প্রকাশ্যে সমালোচনামুখর হওয়ায় গত কয়েক দশকের মধ্যে দুই দেশের সম্পর্কে সবচেয়ে বড় ফাটল দেখা দিয়েছে।

এএম