ভ্যাকসিনহীন ইবোলায় বিপর্যস্ত ডিআরসি; ছড়ানোর আশঙ্কা ১০ দেশে

ইবোলা মহামারি ও সশস্ত্র সংঘাত: কঙ্গোয় মানবিক বিপর্যয়ের শঙ্কা আইসিআরসির
বিদেশে এখন
0

গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোর (ডিআরসি) পূর্বাঞ্চলে আবারও ছড়িয়ে পড়ছে ইবোলা ভাইরাস। যুদ্ধ, অবিশ্বাস এবং ভ্যাকসিনের অভাবে এই প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। আরব নিউজ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শ এবং শারীরিক নিঃসরণের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই ভাইরাস প্রাণঘাতী রক্তক্ষরণজনিত জ্বরের কারণ হয়ে থাকে। গত ৫০ বছরে আফ্রিকায় এই রোগে ১৫ হাজারেরও বেশি মানুষ মারা গেছেন। ডিআরসিতে ১৭তম এই প্রাদুর্ভাব আনুষ্ঠানিকভাবে গত ১৫ মে ঘোষণা করা হলেও ধারণা করা হচ্ছে, এটি কয়েক সপ্তাহ ধরেই গোপনে ছড়াচ্ছিল।

খনি অঞ্চল মংবওয়ালুতে একটি রহস্যময় ও প্রাণঘাতী রোগের বিষয়ে গত ৫ মে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে (ডব্লিউএইচও) সতর্ক করা হয়। সেখানে কয়েক দিনের মধ্যে চারজন স্বাস্থ্যকর্মী মারা যান। উত্তর-পূর্ব ইতুরি প্রদেশে গত মার্চ থেকেই অজানা মৃত্যু সম্পর্কে স্থানীয়রা এএফপিকে জানিয়েছিলেন। শুরুতে মৃত্যুর ঘটনাগুলো ম্যালেরিয়া, টাইফয়েড বা ইয়েলো ফিভারের মতো সাধারণ রোগ বলে ভুল করা হয়।

ইতুরির রাজধানী বুনিয়ায় প্রাথমিক পরীক্ষাগারের ফলাফল নেতিবাচক আসে। কারণ স্থানীয় ব্যবস্থাগুলো শুধু ইবোলার ‘জাইরে’ ধরন শনাক্ত করতে পারত, এই প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী ‘বুন্দিবুগিও’ ধরন নয়। ১৫ মে পর্যন্ত যুদ্ধবিধ্বস্ত ইতুরিতে ২৪৬ জনের সন্দেহভাজন আক্রান্ত এবং ৮০ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। প্রতিবেশী উগান্ডায়ও এক কঙ্গোলিজ ভ্রমণকারীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বর্তমানে উগান্ডায় ১৯ জন নিশ্চিত আক্রান্ত এবং দুইজনের মৃত্যুর পর দেশটি ডিআরসির সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে।

ভ্যাকসিনের অভাব এই প্রাদুর্ভাবকে আরও জটিল করে তুলেছে। ইবোলার বুন্দিবুগিও ধরনের কোনো অনুমোদিত ভ্যাকসিন বা সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। ২০১৮-১৯ সালে তৈরি বিদ্যমান ভ্যাকসিনগুলো কেবল জাইরে ধরনের বিরুদ্ধে কার্যকর। ১৯৭৬ সালে ইবোলা আবিষ্কারে সহায়তাকারী কঙ্গোলিজ ভাইরাস বিশেষজ্ঞ জ্যঁ-জ্যাক মুয়েম্বে বলেন, ‘চিকিৎসকেরা বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছিলেন।’ তবে আফ্রিকা সিডিসি জানিয়েছে, চলতি বছরের শেষ নাগাদ বুন্দিবুগিও ধরনের একটি ভ্যাকসিন পাওয়া যেতে পারে।

মাঠ পর্যায়ে চ্যালেঞ্জও কম নয়। মিলিশিয়াদের সহিংসতা ও দুর্বল রাষ্ট্রীয় উপস্থিতির কারণে জর্জরিত ইতুরিতে এই প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। ইসলামিক স্টেটের সঙ্গে যুক্ত সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং স্থানীয় মিলিশিয়াদের হামলায় হাজার হাজার মানুষকে বাস্তুচ্যুত হতে হচ্ছে। আফ্রিকা সিডিসি জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ২০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। তবে পরীক্ষার সক্ষমতা কম থাকায় প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে বেশি বলে আশঙ্কা করছে সাহায্য সংস্থাগুলো।

এই অঞ্চলের অনেক হাসপাতালে এখনো জরুরি সরঞ্জাম, বিশেষ করে রোগীদের বিচ্ছিন্ন রাখার তাঁবু নেই। বুনিয়ায় এএফপির প্রতিবেদকেরা দেখেছেন, রক্তক্ষরণের লক্ষণযুক্ত রোগীদের সুরক্ষা সরঞ্জাম ছাড়াই মোটরসাইকেলে করে নিয়ে আসা হচ্ছে। বুনিয়ায় ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত করায় ত্রাণ ও চিকিৎসা সরবরাহে ধীরগতি দেখা দিয়েছে। ‘ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস’ এই ধীর প্রতিক্রিয়ার সমালোচনা করেছে। তবে ডব্লিউএইচওর প্রধান টেড্রোস আধানম গেব্রেইয়েসুস আশাবাদ প্রকাশ করে বলেছেন, ‘অব্যাহত সহযোগিতার মাধ্যমে এই প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব বলে আমি বিশ্বাস করি।’

এএম