যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনায় অনিশ্চয়তা: চাঙা ডলার, কমছে ইয়েনের মান

মার্কিন ডলারের বিপরীতে জাপানি ইয়েনের সর্বশেষ বিনিময় হার-সংবলিত একটি বোর্ড দেখছেন এক পথচারী
বিদেশে এখন
0

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার শান্তি আলোচনার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় এশিয়ার বাজারে আজ (শুক্রবার, ১৯ জুন) ডলারের মান শক্তিশালী হয়েছে। বিপরীতে জাপানি মুদ্রা ইয়েনের মান চার দশকের সর্বনিম্নের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। ইয়েনের পতন ঠেকাতে আবারও বাজারে হস্তক্ষেপের প্রয়োজন হতে পারে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

মার্কিন ডলারের বিপরীতে জাপানি মুদ্রার আগের অবস্থান থেকে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ালেও পরে স্থিতিশীল হয়ে ১৬১ দশমিক ৪৫৫ ইয়েনে লেনদেন হচ্ছে, যা গত দুই বছরের মধ্যে সর্বনিম্নের কাছাকাছি। চীন, হংকং ও তাইওয়ানে সরকারি ছুটি এবং যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন ছুটির কারণে বাজারে লেনদেন কম রয়েছে।

ছয়টি মুদ্রার বিপরীতে ডলারের শক্তি পরিমাপক ডলার সূচক শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে এক বছরের সর্বোচ্চ ১০১ দশমিক ০৭ পয়েন্টে পৌঁছেছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স আজ (শুক্রবার, ১৯ জুন) সুইজারল্যান্ডে ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে নির্ধারিত বৈঠকের সফর বাতিল করার পর ডলারের এই উত্থান। যুদ্ধ বন্ধে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত ১৪ দফার চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে এই বৈঠকের কথা ছিল।

ড্যানস্কে ব্যাংকের বিশ্লেষকেরা এক প্রতিবেদনে বলেছেন, ‘আগামী দিনগুলোতে চুক্তি বাস্তবায়ন ও কঠিন আলোচনার অগ্রগতি কোন দিকে যায়, বাজার সেদিকে নজর রাখবে।’ ব্রিটিশ পাউন্ডের মান শূন্য দশমিক ২ শতাংশ কমে ১ দশমিক ৩১৭৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে। গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহাম মেকারফিল্ডে উপনির্বাচনে জয়ী হলেও এর প্রভাব মুদ্রার বাজারে খুব একটা পড়েনি।

চলতি বছরের শুরুতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ডলার বিক্রির হস্তক্ষেপ এবং গত মঙ্গলবার ব্যাংক অব জাপানের (বিওজে) সুদের হার ৩১ বছরের সর্বোচ্চে উন্নীত করার পরও জাপানি মুদ্রার মান বাড়েনি। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাচির ব্যয় পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগ বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমিয়ে দিয়েছে। ডিবিএস বিশ্লেষকেরা বলেছেন, ‘বিওজের সুদের হার বৃদ্ধি সত্ত্বেও বড় ধরনের ইয়েন বিক্রির চাপ কমেনি। জাপানের ইয়েন দুর্বলতার সহনশীলতা সীমার কাছাকাছি এসে পৌঁছেছে।’

আজ (শুক্রবার, ১৯ জুন) প্রকাশিত উপাত্তে দেখা গেছে, মে মাসে টানা চতুর্থ মাসের মতো জাপানের বার্ষিক মূল মূল্যস্ফীতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার নিচে রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের প্রভাবে কাঁচামালের দাম বাড়লেও জ্বালানি ভর্তুকি তা মোকাবিলা করছে। ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৭ সালের শুরুর দিকে মূল্যস্ফীতি ৩ দশমিক ৫ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।

আইজির সিডনির বাজার বিশ্লেষক টনি সিকামোর বলেন, ‘আমাদের মতে, জাপানের অর্থ মন্ত্রণালয় ১৬১ দশমিক ৯৫ পর্যায়টি প্রথম কয়েকবার রক্ষা করবে এবং এপ্রিল ও মে মাসের মতোই প্রায় ১১ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ইয়েন খরচ করবে।’ মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ আগামী জুলাইয়েই সুদের হার বাড়াতে পারে—এমন প্রত্যাশায় এই সপ্তাহে ডলারের মান বেড়েছে। সিএমই গ্রুপের ফেডওয়াচ টুল অনুযায়ী, ফেডের সুদের হার ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়ার সম্ভাবনা এক সপ্তাহ আগের ৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩৯ দশমিক ৬ শতাংশে পৌঁছেছে। ইউরোর মান শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ কমে ১ দশমিক ১৪১৯ ডলারে এবং অস্ট্রেলিয়ান ডলার শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ কমে ০ দশমিক ৬৯৯৪ ডলারে নেমেছে। বিটকয়েনের দাম শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ কমে ৬২ হাজার ৫৪৯ দশমিক ৩১ ডলারে নেমেছে।

এএম