যুদ্ধবিরতি চলাকালেও গাজায় থামছে না হত্যাযজ্ঞ; প্রাণ গেলো আরও ৬ জনের

গাজার দেইর আল-বালাহতে নির্বাচনি প্রার্থীদের পোস্টার
বিদেশে এখন
0

গাজায় ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় আল-জাজিরার একজন ক্যামেরাম্যান ও অন্তত একটি শিশুসহ ছয়জন নিহত হয়েছে। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও উদ্ধারকর্মীরা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গতকাল (শনিবার, ২০ জুন) মধ্য গাজার একটি বাড়িতে চালানো হামলায় নিহত হন আল-জাজিরার প্রতিনিধি আহমেদ ওয়িশাহ। এই হত্যাকাণ্ডকে ‘জঘন্য অপরাধ’ আখ্যা দিয়ে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি। বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

তবে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) অভিযোগ করেছে, ওয়িশাহ হামাসের সামরিক শাখার একজন ‘সন্ত্রাসী’ ছিলেন এবং তিনি স্নাইপার হিসেবে কাজ করতেন। যদিও ইসরাইলি বাহিনী এই দাবির সপক্ষে কোনো প্রমাণ দেয়নি। আল-জাজিরা জানিয়েছে, ওয়িশাহর এই মৃত্যু সব আন্তর্জাতিক আইন ও রীতিনীতির চরম লঙ্ঘন এবং এটি সাংবাদিকদের লক্ষ্যবস্তু করে সত্যের কণ্ঠরোধ করার এক ধারাবাহিক নীতিরই প্রতিফলন। এর আগে গত এপ্রিলে ইসরাইলি হামলায় ওয়িশাহর ভাই মোহাম্মদও নিহত হন, তিনিও আল-জাজিরার প্রতিনিধি ছিলেন।

বুরেইজ শরণার্থী শিবিরের ওই বাড়িতে হামলায় ওয়িশাহর সঙ্গে আরও দুজন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় হাসপাতাল ও বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা। এদিকে গাজা শহরের সাবরা এলাকায় একটি বাড়িতে রাতভর চালানো হামলায় একই পরিবারের চার সদস্য নিহত হয়েছে। শিফা হাসপাতাল জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে দুটি শিশু রয়েছে। নিহতদের স্বজন নায়েল সাফাদি বলেন, ‘আমার চাচাতো ভাইবোনদের হামাসের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই। তারা স্রেফ নিরীহ শিশু।’ আরেক স্বজন মোহাম্মদ সাফাদি প্রশ্ন তোলেন, ‘এটা কি সত্যিই যুদ্ধবিরতি? আমরা বেসামরিক মানুষ, আমি কখনো অস্ত্র ধরিনি।’

গত অক্টোবরে ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ইসরাইলি হামলায় ১ হাজার ৭ জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। জাতিসংঘ এই তথ্যকে নির্ভরযোগ্য মনে করে। যুদ্ধবিরতির চুক্তি অনুযায়ী গাজায় ত্রাণ সরবরাহের কথা থাকলেও সাহায্য সংস্থাগুলো জানিয়েছে, সেখানে আরও বেশি সহায়তা প্রয়োজন। জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সংস্থা জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির পর ত্রাণ আসায় অনাহারে থাকা পরিবারের সংখ্যা কমলেও এখনো ৭০ শতাংশ মানুষের আশ্রয়ের প্রয়োজন।

চুক্তি অনুযায়ী গাজার শাসনব্যবস্থায় হামাসের কোনো ভূমিকা থাকার কথা নয় এবং ইসরাইলেরও গাজা দখল করে রাখার কথা নয়। তবে গত মে মাসে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু আইডিএফকে নির্দেশ দিয়েছিলেন যেন তারা গাজার ৭০ শতাংশ এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরাইলে হামাসের হামলার পর থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে এ পর্যন্ত গাজায় ৭৩ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।

এএম