মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন টেলিগ্রামে জানিয়েছেন, রাজধানীর দিকে ধেয়ে আসা প্রায় ৬০টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে স্থানীয় সংবাদ সংস্থাগুলো জানিয়েছে, গত এক রাতে রাশিয়ার অধিকৃত অঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় মোট ৩০১টি ড্রোন ধ্বংস করেছে রুশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। ড্রোন আতঙ্কে শেরেমেতিয়েভো, দোমোদেদোভো, ভনুকোভো এবং ঝুকোভস্কি বিমানবন্দরের উড্ডয়ন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হলেও পরে তা পুনরায় চালু করা হয়। এর আগে গত সপ্তাহে মস্কোর তেল শোধনাগারে হামলার সময় প্রায় ২০০টি ড্রোন ভূপাতিত করেছিল রাশিয়া, যা ২০২২ সালে যুদ্ধ শুরুর পর অন্যতম বড় ড্রোন হামলার ঘটনা ছিল।
অন্যদিকে, ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত এক রাতে রাশিয়ার পৃথক হামলায় তাদের দুই নাগরিক নিহত এবং ছয়জন আহত হয়েছেন। ওডেসা অঞ্চলে রাশিয়ার ইসকান্দার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় একজন নিহত ও তিনজন আহত হয়েছেন। এই হামলায় একটি কৃষি স্থাপনা, যানবাহন এবং জ্বালানি মজুত করার ট্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া জাপোরিঝঝিয়া শহরে ড্রোন হামলায় এক নারী নিহত এবং আরও তিনজন আহত হয়েছেন। ইউক্রেনীয় নৌবাহিনী জানিয়েছে, পানামার পতাকাবাহী ‘ভিকট্রেস’ নামক একটি তুর্কি মালবাহী জাহাজ রুশ ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে। জাহাজের নয়জন আন্তর্জাতিক ক্রু সদস্যকে উদ্ধার করা হলেও সেখানে কয়েকজন হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
এদিকে, রাশিয়ার দখলকৃত ক্রিমিয়ার সেভাস্তোপলে সব ধরনের উন্মুক্ত জনসভা বাতিল করেছেন গভর্নর মিখাইল রাজভোজায়েভ। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় তিনি রাস্তার বাতি বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন এবং জনগণকে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে বলেছেন। ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় সরবরাহ ব্যবস্থা ও জ্বালানি স্থাপনাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ক্রিমিয়ায় বর্তমানে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের কাছে জ্বালানি বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে। জ্বালানি কেবল জরুরি ও নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট দাপ্তরিক কাজের জন্য সংরক্ষিত রাখা হচ্ছে।





