ভেনেজুয়েলার ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির প্রেসিডেন্ট জর্জ রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত ১ হাজার ৭১৯ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ৫ হাজার ৩৪ জন। এছাড়া প্রায় ১৬ হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। নিখোঁজদের তালিকাভুক্ত করার ওয়েবসাইট অনুযায়ী, এখনো প্রায় ৪৫ হাজার মানুষের কোনো খোঁজ মেলেনি। গত ২৪ জুনের ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্পে ধসে পড়া একটি হোটেলের ধ্বংসস্তূপের নিচে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত পাঠানো অন্তত ১৪০ জন ফিলিস্তিনি অভিবাসী চাপা পড়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে উদ্ধারকাজে ধীরগতি এবং সরকারি সহায়তার অভাবে ভেনেজুয়েলার সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। কারাকাসের পশ্চিমে এল জুনকুইটো অঞ্চলের বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, সেখানে সরকারি কর্মকর্তাদের দেখা মিলছে না এবং সাধারণ মানুষ ও কৃষকরাই একে অপরকে সহায়তা করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, গত কয়েক দশকের অব্যবস্থাপনা এবং ভবন নির্মাণে ত্রুটির কারণেই এই ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এত বেশি হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ভেনেজুয়েলার পাশে দাঁড়িয়েছে। এ পর্যন্ত ৩০টি দেশ থেকে ১ হাজার মেট্রিক টন ত্রাণ সামগ্রী এবং ৩ হাজার ৬০০ জনের বেশি উদ্ধারকর্মী দেশটিতে পৌঁছেছে। লা গুয়াইরা অঙ্গরাজ্যে ১৫টি আশ্রয়কেন্দ্র এবং ৫০টি অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। তবে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে দেশটির মধ্যাঞ্চলের শিল্প কারখানা ও শোধনাগারগুলো পুনরায় চালু করা সম্ভব হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই দুর্যোগে অন্তত ৩ জন মার্কিন নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং ১২ জন নিখোঁজ রয়েছেন। ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ এই সংকটময় সময়ে জনগণকে শান্ত থাকার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গুজবে কান না দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।





