দক্ষিণ আফ্রিকায় অভিবাসীবিরোধী পদযাত্রার ডাক; সংঘর্ষ এড়াতে কড়া পাহারা

দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভে মিছিল করছেন বিক্ষোভকারীরা
বিদেশে এখন
0

দক্ষিণ আফ্রিকায় অবৈধ অভিবাসীদের দেশ ত্যাগের আল্টিমেটাম ও পরিকল্পিত বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ব্যাপক পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। ২০০৮ সালের মতো অভিবাসীবিরোধী প্রাণঘাতী দাঙ্গা ও লুটপাটের পুনরাবৃত্তি রোধে দেশটির সরকার এই আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

অভিবাসনবিরোধী বিভিন্ন গোষ্ঠী ৩০ জুনের মধ্যে সব নথিপত্রহীন বিদেশিকে দক্ষিণ আফ্রিকা ছাড়ার অনানুষ্ঠানিক সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। এই হুমকির মুখে জোহানেসবার্গের অর্থনৈতিক এলাকাগুলোতে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং অনেক দোকানপাট বন্ধ রাখা হয়েছে। রাজপথে পুলিশের পাশাপাশি দক্ষিণ আফ্রিকার ন্যাশনাল ডিফেন্স ফোর্সের সদস্যদেরও টহল দিতে দেখা গেছে। যদিও বিক্ষোভের আয়োজক ‘মার্চ অ্যান্ড মার্চ’-এর নেত্রী জাসিন্টা এনগোবেসে-জুমা দাবি করেছেন যে তারা সহিংসতার পক্ষপাতী নন, তবে ইতিমধ্যেই জোহানেসবার্গ ও ডারবান এলাকায় লাঠিসোঁটা হাতে মিছিল এবং অভিবাসীদের ওপর হামলার খবর পাওয়া গেছে।

প্রতিবেশী দেশ মোজাম্বিক জানিয়েছে, সাম্প্রতিক অস্থিরতায় তাদের অন্তত পাঁচজন নাগরিক নিহত হয়েছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার ৬ কোটি ২০ লাখ মানুষের মধ্যে মাত্র ৪ শতাংশ বিদেশি হলেও, স্থানীয় পর্যায়ে অপরাধ ও বেকারত্বের জন্য প্রায়ই আফ্রিকান অভিবাসীদের দায়ী করা হয়। যদিও সরকারি তথ্য অনুযায়ী, অপরাধের খুব সামান্য অংশই বিদেশিদের মাধ্যমে ঘটে থাকে। কিন্তু উচ্চ বেকারত্বের এই দেশটিতে অনেক সময় আফ্রিকান অভিবাসীদের ‘বলির পাঁঠা’ বানানো হয়।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নাইজেরিয়া, ঘানা, মালাউই এবং উগান্ডাসহ বেশ কয়েকটি দেশ তাদের শত শত নাগরিককে বিশেষ ব্যবস্থায় ফিরিয়ে নিয়েছে। জোহানেসবার্গে মালাউই কনস্যুলেটের সামনে অনেক মানুষকে হাড়কাঁপানো শীতে খোলা আকাশের নিচে বাসের অপেক্ষায় থাকতে দেখা গেছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা বর্ণবাদ ও বিদেশি-বিদ্বেষের (জেনোফোবিয়া) বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানালেও রাজপথে সহিংসতা পুরোপুরি বন্ধ করা যায়নি। ২০০৮ সালে এ ধরনের দাঙ্গায় দক্ষিণ আফ্রিকায় ৬২ জন নিহত হয়েছিলেন।

এএম