ব্রিটেনের সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী ফারাজ পড়ছেন নতুন তদন্তের মুখে

রিফর্ম ইউকের নেতা নাইজেল ফারাজ
বিদেশে এখন
0

ব্রিটেনের অভিবাসনবিরোধী রিফর্ম ইউকে পার্টির নেতা নাইজেল ফারাজকে সংসদীয় নীতিমালা তদারকি সংস্থার (স্ট্যান্ডার্ডস ওয়াচডগ) কাছে অভিযুক্ত করা হয়েছে। আজ (রোববার, ৫ জুলাই) এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, তিনি বেশ কিছু সুযোগ-সুবিধা ঘোষণা করতে ব্যর্থ হয়েছেন। এতে তার প্রাপ্ত উপহার নিয়ে দ্বিতীয় দফা তদন্তের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

সংসদে প্রবেশের আগে এক ক্রিপ্টোকারেন্সি বিলিয়নিয়ারের কাছ থেকে পাওয়া ৫০ লাখ পাউন্ডের (৬৭ লাখ ডলার) অনুদান ঘোষণা করা উচিত ছিল কি না, সেই বিষয়ে ইতিমধ্যে স্ট্যান্ডার্ডস ওয়াচডগের তদন্তের মুখে রয়েছেন ফারাজ।

সানডে টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে এমপি নির্বাচিত হওয়ার আগের বছর ফারাজকে নিরাপত্তা সেবা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহায়তা ও থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন তার দীর্ঘদিনের মিত্র জর্জ কটরেল। ফারাজের এক মুখপাত্র প্রতিবেদনটিকে ‘ভিত্তিহীন ও বানোয়াট’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘সংসদীয় কোনো নিয়ম ভাঙা হয়নি।’

তবে ব্রিটেনের লিবারেল ডেমোক্র্যাটস পার্টির আইনপ্রণেতা জশ বাবারিন্দে রোববার সংসদীয় নীতি কমিশনারের কাছে চিঠি লিখে নতুন অভিযোগ নিয়ে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত ওই চিঠিতে তিনি লেখেন, ‘বর্ণিত সহায়তার আর্থিক মূল্য ও ধরন বিবেচনায় নিলে গুরুতর প্রশ্ন উঠছে—ফারাজ এমপিদের আচরণবিধির অধীনে তার দায়িত্ব পালন করেছেন কি না। এটি বিচ্ছিন্ন কোনো উদ্বেগ নয়।’

রিফর্মের ওপর বাড়তি নজরদারি
ডানপন্থি ও অভিবাসনবিরোধী রিফর্ম ইউকে পার্টি বর্তমানে জাতীয় জনমত জরিপে শীর্ষে রয়েছে। এতে ২০২৯ সালের নির্বাচনের পর ফারাজের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা দল ও এর নেতার অর্থনৈতিক লেনদেন নিয়ে জনগণের নজরদারি বাড়িয়ে দিয়েছে।

সানডে টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তারবার্তার মাধ্যমে জালিয়াতির (ওয়্যার ফ্রড) দায় স্বীকার করার পর ২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রে কারাভোগ করেন কটরেল এবং বর্তমানে তিনি ক্রিপ্টোকারেন্সি খাতে কাজ করেন।

সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী, নতুন এমপিদের আগের ১২ মাসে প্রাপ্ত আর্থিক স্বার্থ ও ‘ঘোষণাযোগ্য সুবিধার’ তথ্য প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক; তবে ব্যক্তিগত উপহার এর আওতাভুক্ত নয়।

ব্রিটেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেমস মারে রোববার বিবিসিকে বলেন, ‘আমি মনে করি ফারাজের অর্থসংক্রান্ত অনেক প্রশ্নই উঠছে। মনে হচ্ছে, স্বচ্ছতার সঙ্গে তার সম্পর্কটা কিছুটা নমনীয়।’

থাইল্যান্ডভিত্তিক ক্রিপ্টো বিনিয়োগকারী ক্রিস্টোফার হারবোর্নের কাছ থেকে ২০২৪ সালে এমপি পদে দাঁড়ানোর ঘোষণার আগে পাওয়া ৫০ লাখ পাউন্ড সম্পর্কে ফারাজ বলেছেন, এটি ছিল একটি নিঃশর্ত উপহার এবং প্রকাশের নিয়ম থেকে অব্যাহতিপ্রাপ্ত। তার দাবি, এই অর্থ তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য দেয়া হয়েছিল। গত এপ্রিলে একটি সংবাদপত্র প্রতিবেদন প্রকাশের আগ পর্যন্ত এই অনুদানের কথা প্রকাশ্যে জানানো হয়নি।

তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছেন ফারাজ। সংসদীয় প্রকাশনার নিয়ম গুরুতরভাবে লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে হাউস অব কমন্স থেকে বরখাস্ত করা হতে পারে। ১০ দিন বা তার বেশি সময়ের বরখাস্ত হলে তার আসনে গণভোট আয়োজনের আবেদন পড়তে পারে, যার ফলে উপ-নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হতে পারে।

এএম