কোভিড-যুদ্ধের ধাক্কা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে বৈশ্বিক শিপিং

হরমুজ প্রণালি
বিদেশে এখন
0

সংকটের মুখে দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য বহুদিন ধরেই স্বতন্ত্র অবস্থানে রয়েছে বৈশ্বিক জাহাজ শিল্প। বড় ধরনের বিপর্যয় থেকেও বিস্ময়কর গতিতে ফিরে আসার নজির গড়েছে এই খাত।

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জাহাজমালিক সংগঠন বাল্টিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম কাউন্সিলের (বিআইএমসিও) তথ্য অনুযায়ী, কোভিড মহামারির প্রথম বছর ২০২০ সালে বৈশ্বিক কনটেইনার শিপিং পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় কমেছিল মাত্র ১ দশমিক ২ শতাংশ। আল জাজিরা প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ইনস্টিটিউট অব শিপিং ইকোনমিকস অ্যান্ড লজিস্টিকসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের জানুয়ারির মধ্যেই বিশ্বজুড়ে বন্দরগুলোতে পরিচালিত পণ্যের পরিমাণ মহামারিপূর্ব পর্যায়কে ছাড়িয়ে যায় এবং বার্ষিক ৬ দশমিক ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। অন্যদিকে বৈশ্বিক বিমান ভ্রমণ কোভিড-১৯-এর ধাক্কা কাটিয়ে পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে সময় লেগেছিল চার বছরের বেশি।

২০২৩ সাল থেকে লোহিত সাগরে হুতিদের হামলা এবং ইরান যুদ্ধ আঞ্চলিক সরবরাহ শৃঙ্খলে বিশৃঙ্খলা তৈরি করলেও গত ১৭ জুন ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যুদ্ধ অবসানের সমঝোতা স্মারক সইয়ের পর থেকে জাহাজ কোম্পানিগুলো দ্রুত ধারণক্ষমতা বাড়াচ্ছে।

সমুদ্র ও বিমান পরিবহন বাজার বিশ্লেষণ প্ল্যাটফর্ম জেনেটার তথ্য অনুযায়ী, জুনের মাঝামাঝি সময়ে এই অঞ্চলে কনটেইনার সক্ষমতা ৩২ লাখ টিইইউ (২০ ফুট সমতুল্য কার্গো ইউনিট) থেকে কমে ৭৪ হাজার টিইইউতে নেমেছিল। কিছু রুটে ইতিমধ্যে তা যুদ্ধপূর্ব পর্যায়ে ফিরে এসেছে। জেনেটার তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে এশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূলের মধ্যে সক্ষমতা যুদ্ধপূর্ব রেকর্ড ছাড়িয়ে ৩ লাখ ৫০ হাজার টিইইউতে পৌঁছেছে।

বিশ্বের দ্বিতীয় ও পঞ্চম বৃহত্তম কনটেইনার শিপিং কোম্পানি মার্স্ক এবং হাপাগ-লয়েড সোমবার ঘোষণা দিয়েছে, লোহিত সাগরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে ফেব্রুয়ারির পর প্রথমবারের মতো তারা সুয়েজ খাল দিয়ে চলাচল আবারও শুরু করবে।

এএম