গেল জুনে আফ্রিকা মহাদেশের দ্বীপরাষ্ট্র সেশেলস সফরের সময় দেশটির অন্যতম সর্বোচ্চ সম্মাননা 'গার্ডিয়ান অব দ্য ব্লু হরাইজন' পুরস্কারের ট্রফি ও সনদ গ্রহণ করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দক্ষ নেতৃত্ব, টেকসই উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণের প্রতি মোদির অঙ্গীকারের কারণে সম্মাননাটি ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে দেয়া হয়েছে বলে সেশেলস সরকার দাবি করলেও পরে হাস্যরসের জন্ম দেয় সনদে 'রিপাবলিক' ও 'সেশেলসের' ইংরেজি ভুল বানান নিয়ে।
যদিও মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে সেশেলসের পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, নেট দুনিয়ায় প্রচারিত ছবিটি চূড়ান্ত সনদ নয়। এটি একটি খসড়া মাত্র। মোদির সেশেলস সফরের ৩ দিন আগে পুরস্কারটি তৈরি করা হয়েছিল এবং এর প্রথম গ্রহীতা মোদি নিজেই।
শুধু সেশেলস নয়, যেকোনো বিদেশ সফরে পুরস্কার পাওয়া যেন নিয়মিত অভ্যাস হয়ে দাঁড়িয়েছে মোদির কাছে। সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়ার সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার বিনতাং আদিপূর্ণা পুরস্কারেও ভূষিত হন মোদি। এছাড়াও, ইরান যুদ্ধের আগে ফেব্রুয়ারিতে শুধু মোদিকে সম্মান জানাতে ' স্পিকার অব দ্য নেসেট মেডেল পুরস্কার চালু করে ইসরাইল।
আল- জাজিরা বলছে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ১২ বছরের শাসনামলে ৩০টিরও বেশি পুরস্কার জিতেছেন মোদি। প্রতিটি পুরস্কার গ্রহণের সময়ই মোদি দাবি করেন, এসব স্বীকৃতি শুধু তাকে নয় সম্মানিত করছে ভারতকেও। পাশাপাশি, বিজেপির দাবি, এসব পুরস্কার নরেন্দ্র মোদির আন্তর্জাতিক স্তরের সুউচ্চ মর্যাদারই একটি বড় স্বীকৃতি।
তবে মোদি বা তার দলের এসব যুক্তি মানতে নারাজ অনেক বিশ্লেষক। তারা বলছেন, এসব পুরস্কার মোদির ভাবমূর্তি বাড়াতে সহায়ক হলেও, বিশ্বমঞ্চে ভারতকে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক কোনো ফায়দা দিচ্ছে না। এছাড়াও, অনেক বিশ্লেষকের অভিমত, কূটনীতির প্রকৃত মঞ্চ থেকে পিছিয়ে পড়া মোদি পুরস্কারকে ঢাল বানিয়ে সফল রাষ্ট্রনায়কের কল্পকাহিনী তৈরি করছেন।





