এআই বুমে ভর করে যুক্তরাষ্ট্রে ২৬৫০ কোটি ডলারের শেয়ার ছাড়লো হাইনিক্স

সেমিকন্ডাক্টর প্রদর্শনীতে প্রদর্শিত এসকে হাইনিক্সের একটি পণ্য
বিদেশে এখন
আন্তর্জাতিক বাণিজ্য
0

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) বৈশ্বিক জোয়ারে ভর করে যুক্তরাষ্ট্রে বিশাল অঙ্কের শেয়ার ছেড়ে ২৬৫০ কোটি ডলার সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে দক্ষিণ কোরিয়ার চিপ নির্মাতা এসকে হাইনিক্স। শুক্রবার এ দাম ঘোষণা করা হয়। এটি হবে বিশ্বের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ শেয়ার বিক্রির ঘটনা। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

উন্নত মেমোরি চিপ সরবরাহকারী এই এশীয় সেমিকন্ডাক্টর প্রতিষ্ঠানটি আজ (শুক্রবার, ১০ জুলাই) এর শেষভাগে ওয়াল স্ট্রিটের প্রযুক্তিনির্ভর সূচক ন্যাসড্যাকে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ শেয়ারের সমপরিমাণ ইস্যু করার পরিকল্পনা করেছে। শিল্প জায়ান্ট এনভিডিয়ার উন্নত মেমোরি চিপ সরবরাহকারী এসকে হাইনিক্সের মুনাফা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ডেটা সেন্টার তৈরির বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় ভর করে হু হু করে বেড়েছে।

মূল্যায়ন অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে প্রযুক্তি খাতের শেয়ারগুলোর দরপতন হয়েছে। এসকে হাইনিক্সের শেয়ারদর চলতি বছর সিউলের শেয়ার বাজারে ২২০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এআই খাতে বিশাল বৈশ্বিক বিনিয়োগ কবে থেকে ফল দিতে শুরু করবে, তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। তবে শুক্রবারের ন্যাসড্যাক তালিকাভুক্তির প্রতি আগ্রহ ছিল ব্যাপক। মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এতে চাহিদার তুলনায় সাত গুণেরও বেশি আবেদন জমা পড়েছে।

সংগৃহীত এই অর্থ গত মাসে স্পেসএক্সের রেকর্ড ৭৫০০ কোটি ডলারের আইপিওর ধারেকাছেও পৌঁছাতে পারেনি। ওই আইপিওর মাধ্যমে ইলন মাস্ক বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হয়েছিলেন। তবে এই সংগ্রহ ২০১৯ সালে সৌদি আরামকোর ২৫৬০ কোটি ডলারের এবং চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আলিবাবার নিউ ইয়র্কের আইপিও থেকে সংগৃহীত ২১৮০ কোটি ডলারের অঙ্ককে ছাড়িয়ে গেছে।

এসকে হাইনিক্স আমেরিকান ডিপোজিটরি শেয়ার (এডিএস) নামে পরিচিত পদ্ধতিতে তালিকাভুক্ত হবে। এর মাধ্যমে বিদেশি কোম্পানির শেয়ারের একটি অংশ মার্কিন পাবলিক মার্কেটে লেনদেন করা যায়। কোম্পানিটি জানিয়েছে, একেকটি সাধারণ শেয়ারের এক-দশমাংশের সমান করে ১৭ কোটি ৭৯ লাখ ডিপোজিটরি শেয়ার ‘প্রতি এডিএস ১৪৯ ডলার প্রাথমিক পাবলিক অফারিং মূল্যে’ নির্ধারণ করা হয়েছে। এসকে হাইনিক্স জানিয়েছে, এই অফারিংয়ের নেতৃত্বে রয়েছে বিওএফএ সিকিউরিটিজ, সিটিগ্রুপ গ্লোবাল মার্কেটস, গোল্ডম্যান স্যাকস (এশিয়া) এবং জেপি মরগান সিকিউরিটিজ।

ঘোষণার পর সিউলের কসপি সূচকে এসকে হাইনিক্সের শেয়ারের দাম ২ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে। মে মাসে কসপিতে কোম্পানিটির বাজার মূলধন ১ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়। দেশটির প্রতিদ্বন্দ্বী স্যামসাং ইলেকট্রনিকস এবং মার্কিন চিপ নির্মাতা মাইক্রনও সম্প্রতি এই মাইলফলক ছুঁয়েছে। এআই এই তিনটি প্রতিষ্ঠানকে ট্রিলিয়ন ডলারের কোম্পানির অভিজাত ক্লাবে ঠাঁই করে দিয়েছে। এই ক্লাবের প্রায় সব সদস্যই মার্কিন প্রতিষ্ঠান।

চলতি বছর দক্ষিণ কোরিয়ায় সম্পদ ও সাফল্যের প্রতীক হিসেবে এসকে হাইনিক্সের একটি জ্যাকেটের ছবি ভাইরাল হয়েছে। প্যারোডি পোস্টগুলোতে এটিকে বিলাসবহুল দোকানে ঢোকা বা ডেটিংয়ের সম্ভাবনা উন্নত করার ‘সোনার টিকিট’ হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে। স্যামসাং, এসকে হাইনিক্স ও মাইক্রন হাই-ব্যান্ডউইথ মেমোরি (এইচবিএম) নামে পরিচিত উন্নত উপাদানের বৈশ্বিক বাজারে আধিপত্য বিস্তার করে আছে। এআই সার্ভারে অন্যান্য ডেটা প্রসেসিং সেমিকন্ডাক্টরের পাশাপাশি এই এইচবিএম ব্যবহার করা হয়।

চিপ নির্মাতারা লাভজনক এইচবিএমে সম্পদ বিনিয়োগ করায় ভোক্তা ইলেকট্রনিকসের কম আলোচিত মেমোরি চিপগুলোর সরবরাহ সংকট দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। এর প্রভাবে অ্যাপল তাদের ম্যাকবুক ও আইপ্যাডের দাম বাড়িয়েছে। কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের বিশ্লেষক এমএস হোয়াং বলেছেন, মেমোরি চিপের বাজারে স্যামসাংকে টেক্কা দিতে চায় এসকে হাইনিক্স। তিনি এএফপিকে বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে এইচবিএমে নেতৃত্বের যে দক্ষতা প্রতিষ্ঠানটি দেখিয়েছে, এর পাশাপাশি এখন উৎপাদনের দিক থেকেও নেতৃত্ব নেয়ার পরিকল্পনা করছে তারা। যুক্তরাষ্ট্রে তালিকাভুক্তির অর্থ এই লক্ষ্য অর্জনে সাহায্য করবে।’

শুক্রবার এসকে হাইনিক্স জানিয়েছে, এই অফারিং থেকে পাওয়া অর্থ সিউলের কাছে ইয়ংইনে একটি নতুন সেমিকন্ডাক্টর ক্লাস্টারের প্রথম উৎপাদন কেন্দ্র নির্মাণ এবং কেন্দ্রীয় শহর চেওংজুতে একটি উন্নত প্যাকেজিং কেন্দ্র নির্মাণসহ অন্যান্য প্রকল্পের অর্থায়নে ব্যবহার করা হবে। কোম্পানিটি স্যামসাংয়ের সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিম দক্ষিণ কোরিয়ায় নতুন চিপ কেন্দ্র নির্মাণের জন্য ৮০০ ট্রিলিয়ন ওনের বিশাল সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগেও জড়িত।

এআই চিপের জোয়ার দক্ষিণ কোরিয়ার কর থেকে পাওয়া অতিরিক্ত অর্থ কী কাজে লাগানো হবে, তা নিয়ে বিতর্ক এবং শ্রমিকদের বেতন-ভাতা সংক্রান্ত দাবিকে উসকে দিয়েছে। বোনাস চুক্তিতে সম্মত হয়ে ধর্মঘট এড়িয়েছে স্যামসাং।

এএম