যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তিচুক্তির পথে প্রধান বাধা হরমুজ প্রণালির রুট বিতর্ক

হরমুজ প্রণালি
বিদেশে এখন
0

কয়েকদিনের পাল্টাপাল্টি হামলার পর, মধ্যস্থতাকারী পক্ষগুলো যুক্তরাষ্ট্র- ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফেরানোর উদ্যোগ নিলেও সমাধান আসবে কি-না তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। বিশ্লেষকরা বলছেন, হরমুজ প্রণালির রুট বিতর্ক ও লেবাননে চলমান ইসরাইলি হামলা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান স্থায়ী শান্তিচুক্তির পথে প্রধান বাধা।

সমঝোতা স্মারক সইয়ের এক মাস না পেরোতেই, গেল মঙ্গলবার থেকে হরমুজ ইস্যুতে কয়েকদফা পাল্টাপাল্টি হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র–ইরান। এমনকি প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাফনের সময় বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে ইরানের একাধিক শহর। যদিও বৃহস্পতিবারের হামলার দায় অস্বীকার করে ওয়াশিংটন জানিয়েছে, আলোচনা চালিয়ে যেতে প্রস্তুত তারা।

এছাড়াও, আল- জাজিরা বলছে, ওয়াশিংটন- তেহরানকে ফের আলোচনার টেবিলে বসাতে উদ্যোগ নিচ্ছে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো। এর আগে, কথা ছিল প্রয়াত সুপ্রিম লিডারের দাফন অনুষ্ঠানের সময় ইরানের হামলা চালাবে না যুক্তরাষ্ট্র। পাশাপাশি শনিবার অমীমাংসীত ইস্যুগুলো নিয়ে আলোচনার জন্য ফের বৈঠকে বসবে যুক্তরাষ্ট্র- ইরান।

তবে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করায় ইরান ফের আলোচনার টেবিলে ফেরত আসবে কিনা তা নিয়ে তৈরি হয়েছে সংশয়। এরই মধ্যে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সাফ বার্তা, হামলা চললে আলোচনার টেবিলে ফেরত যাবে না তারা।

আরও পড়ুন:

এমন বাস্তবতায় মধ্যস্থতাকারী পক্ষগুলো দুই দেশকে আলোচনার টেবিলে বসালেও বিবাদমান ইস্যুগুলোতে কোনো সমাধান আসবে কিনা তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র- ইরানের ঐক্যমত্যে পৌঁছানোর পথে প্রধান বাধা হরমুজ ও লেবানন। কেননা সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, আগামী ৬০ দিন হরমুজ প্রণালিতে টোলবিহীন নিরাপদ জাহাজ চলাচলের প্রতিশ্রুতি দেয় ইরান। এছাড়াও জলপথটির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে ওমানের সঙ্গে আলোচনার টেবিলেও বসেছে তেহরান।

কিন্তু মূল বিপত্তি জাহাজ চলাচলের রুট নিয়ে। তেহরান চায়, সব জাহাজকে ইরানি উপকূলের কাছ দিয়ে হরমুজ অতিক্রম করতে হবে। এটি অমান্য করে কোনো জাহাজ ওমান সীমান্তের কাছাকাছি রুট দিয়ে ভিড়লেই সেগুলোকে টার্গেট করছে আইআরজিসি।

এছাড়াও, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান স্থায়ী শান্তিচুক্তির পথে আরেকটি বড় বাধা লেবানন। সমঝোতা স্মারক অনু্যায়ী, লেবাননসহ সব ফ্রন্টে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ করবে ইসরাইল। কিন্তু লেবানন সংঘাতের নেপথ্যের দুই পক্ষ ইসরাইল ও লেবানন এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেনি। তাই সমঝোতা স্মারক সইয়ের পরও নানা অজুহাতে লেবাননে হামলা অব্যাহত রেখেছে আইডিএফ। আর সংঘাত বন্ধে গেল জুনে যে কাঠামো চুক্তিতে সম্মত হয় ইসরাইল ও লেবানন সরকার, সেখানেও লেবানন থেকে ইসরাইলি বাহিনী প্রত্যাহারের কথা স্পষ্টভাবে বলা হয়নি। বরং কাঠামো চুক্তিতে হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণের বিষয়টি জোর দেয়া হয়েছে। যা বারবার প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান- সমর্থিত গোষ্ঠীটি।

ইএ