মানুষের জন্ম-মৃত্যু এমন এক বাস্তবতা যার ওপর কারও হাত নেই। তবে শরীরবৃত্তীয় নানান জটিলতা অনেক সময় জীবনকে এতটা দুর্বিষহ করে তোলে তখন মানুষ মুক্তির উপায় খুঁজতে বাধ্য হয়। এসব পরিস্থিতি বিবেচনা করে, দীর্ঘদিন দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের অবিরাম ভয়াবহ শারীরিক মানসিক যন্ত্রণা এড়াতে স্বেচ্ছামৃত্যুর আইন পাশ করতে চলেছে ফ্রান্স।
এ সংক্রান্ত বিলের চূড়ান্ত অনুমোদন দিতে যাচ্ছে ফ্রান্সের নিম্নকক্ষ বা ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি। যার ফলে দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিরা কঠোর নিয়মের অধীনে নিজেদের জীবনাবসানের জন্য প্রাণঘাতী ওষুধ গ্রহণের আইনি অধিকার পাবেন।
ফ্রান্সের বাসিন্দাদের একজন বলেন, ‘কেউ কেউ শেষ পর্যন্ত একটি দুর্বিষহ জীবন বয়ে বেড়াতে চাইবেন। আমি তাদের সেই সিদ্ধান্তকে সম্মান করি। কিন্তু আমার মতো এমন অনেক মানুষও আছেন, যারা দিনের পর দিন অবিরাম ভয়াবহ শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণা আর সইতে না পেরে সম্মানের সঙ্গে বিদায় নিতে চাইছেন। তারা আর অমানবিক দুর্ভোগের মধ্যে দিয়ে যেতে চাইছেন না।’
ফরাসি নাগরিক বা ফ্রান্সে বৈধভাবে বসবাসকারী দুরারোগ্য রোগে ভুগছেন এমন মুমূর্ষু রোগী কঠোর শর্ত সাপেক্ষে চিকিৎসকের অনুমতি নিয়ে এই পদক্ষেপ নিতে পারবেন। সেক্ষেত্রে প্রাণঘাতী রাসায়নিক পদার্থ গ্রহণের মাধ্যমে স্বেচ্ছামৃত্যু গ্রহণ করা যাবে। পদার্থটি নিজেও গ্রহণ করতে পারবেন অথবা তিনি শারীরিকভাবে অক্ষম হলে ডাক্তার বা নার্স তা প্রয়োগ করবেন।
আরও পড়ুন:
স্বেচ্ছামৃত্যুর পক্ষে-বিপক্ষে রয়েছে অনেক জোরালো আইনি ও নৈতিক বিতর্ক। অনেক চিকিৎসক ও খ্রিস্ট ধর্মীয় অনেক গোষ্ঠীর যুক্তি, স্বেচ্ছামৃত্যুর বৈধতা দিলে তা দুর্বল মানুষদের উপর চাপ সৃষ্টি করবে। ক্যাথলিক চার্চ এবং ডানপন্থী রাজনীতিবিদরাও এই আইনের বিরোধিতা করেছেন।
প্রায় তিন বছর আগে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাঁক্রো এই আইনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। সেসময় উচ্চকক্ষে সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ রক্ষণশীলরা বিলটি প্রত্যাখ্যান করে। তবে ফ্রান্সের আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া অনুযায়ী, দুই কক্ষের দ্বিমত থাকলে নিম্নকক্ষের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হয়।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেন, ‘স্বেচ্ছামৃত্যু জীবনের শেষ প্রান্তে থাকা মুমূর্ষু রোগীদের জন্য একটি মর্যাদাপূর্ণ বিকল্প। সেই হিসেবে আমি এ আইনের পক্ষে। অসহনীয় শারীরিক যন্ত্রণা থেকে মুক্তিপেতে দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত মানুষের জন্য স্বেচ্ছামৃত্যু একটি মানবিক অধিকার।’
তবে ফ্রান্সই একমাত্র দেশ নয়। সুইজারল্যান্ড, বেলজিয়াম এবং নেদারল্যান্ডসসহ বেশ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশে আইন এ ধরনের মৃত্যুর অনুমোদন আছে। যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে মুমূর্ষু রোগীদের এই মৃত্যুর অনুমতি রয়েছে। এছাড়া জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসা বা লাইফ সাপোর্ট প্রত্যাহারের মাধ্যমে প্যাসিভ ইউথানেশিয়া নামে নিষ্ক্রিয় ইচ্ছামৃত্যুর আইনি বৈধতা দিয়েছে ভারত।





