এর আগে গত সপ্তাহে রোমে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় লেবানন ও ইসরাইলের কর্মকর্তাদের মধ্যে আরেক দফা আলোচনা হয়েছে। ওই বৈঠকে গত ২৬ জুন দুই পক্ষের মধ্যে সই হওয়া চুক্তিটি কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়ে আলোচনা করেন প্রতিনিধিরা। লেবাননের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানিয়েছে, আউন ও তার স্ত্রী শনিবার ওয়াশিংটনের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে পৌঁছেছেন। ২০০৯ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট মিশেল সুলাইমান বারাক ওবামার সঙ্গে সাক্ষাতের পর এটিই লেবাননের কোনো রাষ্ট্রপ্রধানের প্রথম ওয়াশিংটন সফর।
গত রোববার আউনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। বৈঠক শেষে তিনি বলেন, ওয়াশিংটন এই চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নকে সমর্থন দেবে। হিজবুল্লাহ ইস্যুর সমাধান না হওয়া পর্যন্ত লেবানন ‘কখনোই পুরোপুরি শান্তিতে থাকবে না’ বলেও সতর্ক করেন তিনি। রুবিও বলেন, ‘হিজবুল্লাহকে কীভাবে প্রতিস্থাপন করবেন? আপনি তাদের পরাজিত করবেন এবং দেশটির একমাত্র সশস্ত্র শক্তি হিসেবে যথেষ্ট শক্তিশালী একটি সরকার দিয়ে প্রতিস্থাপন করবেন।’
তবে লেবাননের অনেকেই আশঙ্কা করছেন, হিজবুল্লাহর সঙ্গে সামরিক সংঘাত গৃহযুদ্ধ ডেকে আনতে পারে। দুর্বল রাষ্ট্রকে শক্তিশালী করতে সরকারি কর্মকর্তারা ধ্বংসপ্রাপ্ত অবকাঠামোয় বিনিয়োগেরও তাগিদ দিয়েছেন, যার প্রতিধ্বনি রুবিওর কণ্ঠেও শোনা গেছে। তিনি বলেন, ‘এটি কেবল সামরিক বিষয় নয়। এটি হলো, কীভাবে আমরা যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ লেবাননে আরও বেশি আকৃষ্ট করতে পারি, সেই বিষয়ে।’
‘পাইলট জোন’
ইসরাইলি সেনাবাহিনী সোমবার জানিয়েছে, তাদের পরিকল্পিত ‘পাইলট জোন প্রোগ্রাম’ নামে পরিচিত পর্যায়ক্রমিক সেনা প্রত্যাহার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই পরিকল্পনার আওতায় দক্ষিণ লেবাননের অল্প কিছু এলাকা থেকে ইসরাইলি বাহিনী সরে যাবে। যদিও গত মার্চে হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর দখল করা অন্যান্য এলাকায় তারা অবস্থান করবে। ওই যুদ্ধে এ পর্যন্ত ৪ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিহত এবং ১২ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, দক্ষিণ লেবাননের কিছু অংশে হিজবুল্লাহর অস্ত্র বাজেয়াপ্ত করবে লেবাননের সেনাবাহিনী।
মঙ্গলবার লেবাননের একজন জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, ইসরাইলি বাহিনী প্রত্যাহারের পর দক্ষিণাঞ্চলের জাওতার আল-গারবিয়েহ শহরে সেনা মোতায়েন শুরু করেছে লেবানিজ বাহিনী। রোমে সাম্প্রতিক আলোচনায় চুক্তি বাস্তবায়ন শুরুর ইঙ্গিত মিললেও এই আলোচনা আউন সরকারের সামনে থাকা চ্যালেঞ্জগুলোকে আরও স্পষ্ট করেছে।
হিজবুল্লাহ ইসরাইলের সঙ্গে লেবাননের সরাসরি আলোচনা এবং গোষ্ঠীটিকে নিরস্ত্র করার প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করেছে। অন্যদিকে, ইসরাইল বলছে, হিজবুল্লাহকে সম্পূর্ণরূপে নিরস্ত্র ও অসামরিকীকরণ না করা পর্যন্ত তারা পুরোপুরি সরে যাবে না।
সংস্কারবাদী প্ল্যাটফর্মে ২০২৫ সালের শুরুতে ক্ষমতায় আসে লেবানন সরকার। ক্ষমতায় এসে হিজবুল্লাহসহ সব বেসরকারি গোষ্ঠীকে নিরস্ত্র করার প্রতিশ্রুতি দেয় তারা। ২০২৪ সালের যুদ্ধের পর যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন অংশে হিজবুল্লাহর অস্ত্র সংগ্রহে লেবানিজ সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। কিন্তু ইরানের প্রতি সংহতি জানিয়ে গত মার্চে হিজবুল্লাহ ইসরাইলে হামলা চালালে সেই প্রচেষ্টা জটিল হয়ে ওঠে।
লেবানন সরকার আরেকটি যুদ্ধে দেশকে টেনে আনার জন্য হিজবুল্লাহকে দায়ী করলেও পরবর্তীতে ইসরাইলের স্থল অভিযান ও ব্যাপক বিমান হামলারও সমালোচনা করেছে। গভীরভাবে বিভক্ত এই দেশে হিজবুল্লাহ ও তার মিত্রদের কঠোর রাজনৈতিক বিরোধিতার মুখেও লেবাননের নেতৃত্ব জোর দিয়ে বলছে, একটি টেকসই নিরাপত্তা সমাধানের জন্য ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার এবং লেবাননের অর্থসংকটে থাকা সেনাবাহিনীর জন্য আন্তর্জাতিক আর্থিক সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।





