দক্ষিণ চীন সাগরে উত্তেজনা; ফিলিপাইন-চীনের পাল্টাপাল্টি রাষ্ট্রদূত তলব

ফিলিপাইন নৌবাহিনী ও চীনের কোস্ট গার্ড সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষের সময়
বিদেশে এখন
0

দক্ষিণ চীন সাগরের বিতর্কিত জলসীমায় নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এই ঘটনার জেরে মঙ্গলবার ফিলিপাইন ও চীন একে অপরের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে জানানো হয়, প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র ম্যানিলায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত জিং কোয়ানকে তলব করবেন। এর কয়েক ঘণ্টা আগে বেইজিংয়ে নিযুক্ত ফিলিপাইনের দূতকে তলব করে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। প্রেসিডেন্সিয়াল কমিউনিকেশন্সের আন্ডারসেক্রেটারি ক্লেয়ার কাস্ত্রো সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেন, মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় (গ্রিনিচমান সময় ০৯০০) মার্কোস চীনা রাষ্ট্রদূত জিং কোয়ানকে তলব করেছেন।

গত সোমবার দক্ষিণ চীন সাগরের সেকেন্ড টমাস শোয়াল এলাকায় দুই দেশের বাহিনীর মধ্যে সংঘাতের ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে উভয় পক্ষই একে অপরকে উসকানির জন্য দায়ী করেছে। ফিলিপাইনের কর্মকর্তারা বলেছেন, এই ঘটনায় তাদের নৌবাহিনীর এক সদস্য মাথায় আঘাত পেয়েছেন। তবে বেইজিংয়ের দাবি, ম্যানিলাই এই ঘটনার সূত্রপাত ঘটিয়েছে।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘ফিলিপাইন পক্ষ প্রথমে উসকানি দিয়েছে। এরপর তারা উল্টো পাল্টা অভিযোগ তুলেছে, তথ্য বিকৃত করেছে এবং বিদ্বেষপূর্ণ প্রচারণা চালিয়েছে।’

চীনের কোস্টগার্ড (সিসিজি) সোমবার জানায়, ফিলিপাইনের বিতর্কিত জাহাজ ‘বিআরপি সিয়েরা মাদ্রে’ থেকে পাঠানো দুটি রাবার বোট দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের একটি টহল নৌকায় ধাক্কা দেয়। এ সময় ফিলিপাইনের কর্মীরা বৈঠা ও লম্বা লাঠি দিয়ে চীনা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্মকর্তাদের ওপর ‘বিদ্বেষপূর্ণ হামলা’ চালান।

অন্যদিকে ম্যানিলার অভিযোগ, বেইজিং আগ্রাসীভাবে তাদের নৌবাহিনীর এক সদস্যের মাথায় কাঠের লাঠি দিয়ে আঘাত করেছে এবং এতে একটি নৌ রাবার বোট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সোমবারের ঘটনায় ফিলিপাইনের পদক্ষেপকে ‘গুরুতর প্রকৃতির’ বলে অভিহিত করেছে।

তবে ফিলিপাইনের সামরিক বাহিনী মঙ্গলবার চীনের এই দাবিকে ‘মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের ভাষ্য, নৌবাহিনীর সদস্যরা কোনো সংঘাতের সূত্রপাত ঘটাননি।

মঙ্গলবার আলাদা এক বিবৃতিতে সিসিজি জানায়, মানবিক বিবেচনায় ফিলিপাইনের ডুবন্ত রণতরী থেকে ছোট শাটল বোটের মাধ্যমে আহত সেনাকে সরিয়ে নেয়ার অনুমতি দিয়েছে চীন। সিসিজির মুখপাত্র জিয়াং লুয়ে বলেন, ‘আমরা ফিলিপাইনের বোটগুলো যাচাই করেছি এবং পুরো প্রক্রিয়াটি পর্যবেক্ষণ করেছি।’ তিনি আরও জানান, সেকেন্ড টমাস শোয়ালের কাছাকাছি জলসীমায় চীন তার ‘অধিকার সুরক্ষা ও আইন প্রয়োগ কার্যক্রম’ অব্যাহত রাখবে।

দক্ষিণ চীন সাগরে ঘন ঘন উত্তেজনা সত্ত্বেও এ ধরনের কূটনৈতিক তলব তুলনামূলক বিরল। প্রেসিডেন্ট মার্কোসের শাসনামলে চীনের পক্ষ থেকে ফিলিপাইনের রাষ্ট্রদূতকে তলবের ঘটনা এটি নিয়ে তৃতীয়বার। এর আগে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে তাইওয়ানের নতুন নেতা লাই চিং তেকে ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্টের অভিনন্দন জানানোর পর এবং একই বছরের নভেম্বরে ম্যানিলার সামুদ্রিক অঞ্চল আইন ও দ্বীপপুঞ্জীয় সমুদ্রপথ আইন কার্যকর করাকে কেন্দ্র করে একই ধরনের তলবের ঘটনা ঘটেছিল।

অন্যদিকে মার্কোসের রাষ্ট্রদূত তলবের সবশেষ নজির পাওয়া যায় ২০২৩ সালে। সে সময় চীনের একটি কোস্টগার্ড জাহাজ ফিলিপাইনের কোস্টগার্ডের একটি জাহাজের দিকে সামরিক মানের লেজার নিক্ষেপ করেছিল।

এএম