মাথা ন্যাড়া করে ককরোচ জনতা পার্টি সিজেপির আন্দোলনে সমর্থন জানিয়ে মোদি, অমিত শাহ ও ধর্মেন্দ্র প্রধানের প্রতীকী শেষকৃত্য সম্পন্ন করছেন বিরোধী দল কংগ্রেসের এক যুব কর্মী। দাবি আদায়ে, সিজেপি ও সরকারের দফায় দফায় আলোচনার মাঝেই, প্রতিবাদে উত্তাল দিল্লি।
শনিবারও ভ্যাপসা গরম উপেক্ষা করে প্রতিবাদের কেন্দ্রস্থল যন্তর- মন্তরে অবস্থান সিজেপির নেতাকর্মীদের। বিশৃঙ্খলা এড়াতে সেখানে সতর্ক অবস্থানে পুলিশ। এদিকে, এক ভিডিও বার্তায় সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে জানান, টাইফয়েডে আক্রান্ত হলেও, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের আগ পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন তিনি ও তার দল।
সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে বলেন, ‘আমি টাইফয়েড আক্রান্ত। চিকিৎসা চলছে। এরপর আন্দোলন চালিয়ে যাবো। এতে অংশ নেয়া সবাইকে ধন্যবাদ। এভাবে আন্দোলন চলতে থাকলে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ নিশ্চিত।’
এছাড়াও, আলাদা এক্স বার্তায় সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা জানান, সরকারের পক্ষ থেকে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের বিষয়ে স্পষ্ট কোনো বার্তা না আসলে, আলোচনার কোনো মানে নেই। এছাড়াও, প্রধান দাবি না মানলে আরও কঠোর আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে সিজেপি। পাশাপাশি মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসকে কেন্দ্র করে আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ ও প্রশ্নফাঁস রোধে সরকার আইনি পদক্ষেপ নেয়ার বিষয়ে যে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে, তার লিখিত আশ্বাসপত্রও দাবি করেছে দলটি।
আরও পড়ুন:
আজ তৃতীয় দফায় ফের সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসবে সিজেপির প্রতিনিধি দল। এরই মধ্যে বৈঠকে বসার তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন মোদি সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা। এর আগে, দিল্লিতে আন্দোলনের জেরে অপসারণ করা হয়েছে ভারতের জাতীয় পরীক্ষা সংস্থা এনটিএর ৪৭ জন আধিকারিককে।
তবে সবকিছুর মাঝে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে অধিকারকর্মী সোনম ওয়াংচুকের অনশন ভাঙার ইস্যুটি। কেন অনশন ভাঙ্গলেন এই অধিকারকর্মী- তার জবাব দিতে শুক্রবার ইন্সটাগ্রামে একটি ভিডিও শেয়ার করেন ওয়াংচুক। দাবি করেন, শারীরিক শক্তি যা ছিল তা নিয়ে শেষ পর্যন্ত অনশন চালিয়েছিলেন। এছাড়াও, অনশন ভাঙ্গতে গোপন রাজনৈতিক দর কষাকষির অভিযোগ উড়িয়ে দেন তিনি। পাশাপাশি ২৬ দিন অনশনের পর এখন তাকে আন্দোলনকারীদের বিষয়ে আন্তরিকতা প্রমাণের দরকার আছে কিনা- সে বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন ওয়াংচুক।
সোনম ওয়াংচুক বলেন, ‘২৬ দিনের অনশন শেষে, ১১ কেজি ওজন হ্রাস করে ও শারীরিক- মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতির পর- কেন দুই মন্ত্রীর কাছে অনশন ভাঙ্গলাম এই প্রশ্নের উত্তর দিতে হচ্ছে। যদি সরকারের সঙ্গে গোপন সন্ধিই করতাম, তাহলে ২৬ দিন অনশনের মানে ছিলো না।’
এরই মধ্যে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে পশ্চিমবঙ্গ, মহারাষ্ট্র, জম্মু-কাশ্মীরসহ ভারতের বেশ কয়েকটি রাজ্যে। এছাড়াও, বিহারে একটি বাম সংগঠনের ডাকে পালিত হচ্ছে হরতাল। শনিবার সকালে প্রদেশটির বিভিন্ন স্থানে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন নেতাকর্মীরা।





