গত ১৫ মে দেশটিতে ইবোলার এই ১৭তম প্রাদুর্ভাব ঘোষণা করা হয়। এবারের সংক্রমণের জন্য ভাইরাসের ‘বুন্দিবুগিও’ স্ট্রেইনকে দায়ী করা হচ্ছে। তবে এই স্ট্রেইনটি মোকাবিলায় এখন পর্যন্ত কোনো স্বীকৃত টিকা বা চিকিৎসা পদ্ধতি নেই। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, মোট আক্রান্তের ৯০ শতাংশই উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ইতোয়রি প্রদেশের বাসিন্দা। প্রদেশটির সীমান্ত দক্ষিণ সুদান ও উগান্ডার সঙ্গে যুক্ত।
ইতোমধ্যেই কঙ্গোর পাঁচটি প্রদেশে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়েছে। দুর্গম এলাকা হওয়ায় অনেক স্থানে চিকিৎসকদের পৌঁছানো কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ বিষয়ে জাতিসংঘের হিউম্যানিটারিয়ান এয়ার সার্ভিসের (ইউএনএইচএএস) কর্মকর্তা হেডলি তাহ জানান, মানবিক সহায়তাকারীরা সাহায্য করতে চাইলেও প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো আক্রান্ত এলাকাগুলোতে পৌঁছানো। তারা বর্তমানে নমুনা সংগ্রহ ও গবেষণাগারে পাঠানোর কাজে সহায়তা করছেন।
এদিকে, বকেয়া বেতনের দাবিতে স্বাস্থ্যকর্মীদের ধর্মঘটের কারণে অনেক হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোগ শনাক্তকরণ ব্যবস্থা উন্নত হওয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা বেশি পাওয়া যাচ্ছে। তবে সংক্রমণের বর্তমান যে ধারা, তাতে এই প্রাদুর্ভাব আরও কয়েক মাস স্থায়ী হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইবোলা মূলত মানবদেহের তরল পদার্থের সংস্পর্শের মাধ্যমে ছড়ায় এবং এতে রক্তক্ষরণজনিত জ্বর হতে পারে। গত ৫০ বছরে আফ্রিকাজুড়ে এই ভাইরাসে ১৫ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ‘বুন্দিবুগিও’ স্ট্রেইনের টিকা তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। গত শুক্রবার অক্সফোর্ড জানায়, তাদের পরীক্ষামূলক টিকার প্রথম ধাপের প্রয়োগ একদল স্বেচ্ছাসেবীর ওপর সম্পন্ন হয়েছে। আরও বেশ কিছু টিকা ও প্রতিষেধক বর্তমানে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের অপেক্ষায় রয়েছে।





