তরুণ বিক্ষোভকারীদের হয়রানি নয়; ভারতের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পর উল্লাসে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সমর্থকেরা
বিদেশে এখন
0

পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে তরুণদের চলমান আন্দোলনের সময় গ্রেপ্তার হওয়া অপ্রাপ্তবয়স্কদের (আন্ডার-১৮) মুক্তির নির্দেশ দিয়েছেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। আজ (মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই) আদালত এই নির্দেশ দিয়ে বলেন, বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশি বর্বরতার অভিযোগ ওঠায় কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই সব নজরদারি ফুটেজ সংরক্ষণ করতে হবে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত বিক্ষোভে অংশ নেয়া ব্যক্তিদের ডিজিটাল ও ব্যক্তিগত তথ্য সংরক্ষণ করারও নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক কোনো ব্যবস্থা নিতেও নিষেধ করেছেন তিনি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সপ্তাহব্যাপী চলা এই আন্দোলনে নয়াদিল্লিসহ অন্যান্য শহরে পুলিশ ও আধা-সামরিক বাহিনী বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বল প্রয়োগ এবং পেলেট গান ব্যবহার করেছে বলে অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবিতে ছাত্র বিক্ষোভকারী ও অ্যাকটিভিস্টদের করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তীকালীন এসব পদক্ষেপ নিয়েছেন বিচারপতি সূর্যকান্ত।

তিনি ড্রোন, বডি ক্যামেরা এবং সিসিটিভি ফুটেজসহ সব ধরনের ভিডিও সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন। বিক্ষোভকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য যাতে জনসমক্ষে প্রকাশ না পায়, সেটি নিশ্চিত করতেও কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সরকারের বক্তব্য: আহত হয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তারাও

আইনি ওয়েবসাইট ‘লাইভ ল’-সহ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিচারপতি সূর্যকান্তকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ‘নিরীহ মানুষের ওপর যে বা যারা অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ বা অত্যাচার করেছেন, আইন তাদের দেখে নেবে। তবে এর জন্য একটি সম্পূর্ণ স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া দরকার।’ অন্তর্বর্তীকালীন এসব পদক্ষেপ নেয়ার আগে তিনি আরও বলেন, ‘দায় নির্ধারণ করা না গেলে তদন্তের কোনো অর্থ থাকে না।’

সরকার অবশ্য বিক্ষোভের সময় পুলিশি পদক্ষেপকে বৈধ ভিড় নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ হিসেবেই দাবি করে আসছে।

গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে ভারতের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতাকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার বিষয়টিকে হালকাভাবে নেয়ার সুযোগ নেই। তবে এই ঘটনায় প্রায় ২৫০ জন পুলিশ কর্মকর্তাও আহত হয়েছেন। এই ঘটনার তদন্তে সরকারের কোনো আপত্তি নেই বলেও তিনি জানান।

জাতীয় মেডিকেল কলেজ ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় শুরু হওয়া এই আন্দোলন গত শনিবার শেষ হয়। শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করেন এবং সরকার বিক্ষোভকারীদের দাবি মেনে নেয়। ওই দাবিগুলোর মধ্যে ছিল—পরীক্ষা পদ্ধতির সংস্কার, পুলিশের করা মামলা প্রত্যাহার এবং প্রশ্নফাঁসের ঘটনার পর আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেয়া।

বিক্ষোভকারীদের ওপর লাঠিপেটা

আন্দোলন চলাকালে দেশটির বিভিন্ন প্রান্তে বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। নয়াদিল্লিতে পার্লামেন্টের দিকে মিছিল নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকারীদের ওপর কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিপেটা চালানো হয়। এছাড়া গত সপ্তাহে পূর্বাঞ্চলীয় একটি অঙ্গরাজ্যে ছাত্র বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে অ্যাসল্ট রাইফেল দিয়ে শূন্যে গুলি ছোড়ার অভিযোগে একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ।

সোমবার রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিক্ষোভের সময় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-চালিত নজরদারি ব্যবহারের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার অ্যাকটিভিস্টদের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। বিক্ষোভকারীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি মোবাইল পুলিশ নজরদারি ভ্যানের ছবি প্রকাশ করেন। ওই ভ্যানের টেলিস্কোপিক মাস্টের সঙ্গে ক্যামেরা লাগানো ছিল, যা সমাবেশের ৩৬০ ডিগ্রি দৃশ্য ধারণ করতে সক্ষম।

এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেয়া সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ সোমবার দাবি করে, সরকারের প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ‘শত শত’ শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যদিও এই দাবির সত্যতা রয়টার্স স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।

এএম