ইতালির নেপলসে শক্তিশালী ভূমিকম্প, আহত ২১

ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত পোজ্জুয়োলির ভবন পরিদর্শনে স্থানীয়রা
বিদেশে এখন
0

দক্ষিণ ইতালির নেপলসের কাছে ৪ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ২১ জন আহত হয়েছেন। গতকাল (শুক্রবার, ৩১ জুলাই) রাত ৭টা ৪৬ মিনিটে এই ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, বন্ধ হয়ে যায় গণপরিবহন এবং ইউরোপের সবচেয়ে বড় আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখ ‘কাম্পি ফ্লেগ্রেই’ এলাকার বিভিন্ন ভবন ও একটি জেটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

গত ৪০ বছরের মধ্যে এই অঞ্চলে সবচেয়ে শক্তিশালী কম্পন এটি। ভূমিকম্পের কারণে একটি পাহাড়ি খাড়া ঢালের অংশও ভেঙে পড়েছে।

শনিবার সকাল পর্যন্ত আহতদের মধ্যে অন্তত দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। বাড়িঘর ধসে পড়ার আশঙ্কায় ২৫০ জনের বেশি মানুষকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। ভয়ে অনেকেই সারা রাত রাস্তায় কাটিয়েছেন। এক উদ্ধারকর্মী রয়টার্সকে জানান, একজন মানুষ ‘অলৌকিকভাবে’ বেঁচে গেছেন।

ইতালির জাতীয় ভূপদার্থবিদ্যা ও আগ্নেয়গিরি ইনস্টিটিউট জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল তিন কিলোমিটার। নেপলস, ইশ্চিয়া দ্বীপ এমনকি সোরেন্তো উপদ্বীপ পর্যন্ত এর কম্পন অনুভূত হয়েছে। এটি চলমান ভূমিকম্প-শৃঙ্খলেরই একটি অংশ। মূল ভূমিকম্পের পর সিসমোগ্রাফে আরও প্রায় ৬০টি পরাঘাত ধরা পড়েছে। ভোর ৫টা ৪৭ মিনিটে ৩ দশমিক ১ মাত্রার একটি পরাঘাত বাকোলি, পোজ্জুয়োলি ও নেপলসের বাসিন্দারা অনুভব করেছেন।

উদ্ধারকর্মী বলেন, ‘পাহাড় ধসের ঝুঁকি এখনো রয়েছে, তাই পরিস্থিতি বিপজ্জনক। আমাদের ক্ষোভের বিষয় হলো, এই পরিস্থিতি আগে থেকেই আঁচ করা যাচ্ছিল। কারণ, দেড় বছর ধরেই এই পাহাড় নিয়ে সমস্যা চলছিল। পৌর কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি জানত, কিন্তু কিছুই করেনি। তারা যদি আগে ব্যবস্থা নিত, তবে হয়তো এটি এড়ানো যেত।’

ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থলের কাছে পোজ্জুয়োলিতেই সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে। সেখানে একটি ভবনের একাংশ ধসে পড়েছে। ধসে পড়া বড় বড় ধ্বংসাবশেষে পার্ক করা কয়েকটি গাড়ি চাপা পড়ে, তবে এতে কেউ হতাহত হননি। ভবন পরিদর্শন চলমান রয়েছে; এখন পর্যন্ত ৯টি ভবনকে বসবাসের অনুপযোগী ঘোষণা করা হয়েছে।

স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ‘আমরা ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। ঘরের ভেতরে থাকা সম্ভব হচ্ছিল না বলে সবাই দৌড়ে বাইরে বেরিয়ে আসি। কম্পন অনেকক্ষণ ধরে চলছিল এবং তা ছিল খুবই শক্তিশালী। আমরা এখন কী করব বুঝতে পারছি না। রাস্তার মাঝখানে ছোট ছোট বাচ্চাদের নিয়ে দাঁড়িয়ে আছি, কেউ এসে খোঁজ নেয়নি বা কিছু বলেনি।’

দমকল বাহিনী জানিয়েছে, বেশ কয়েকটি লিফটে মানুষ আটকা পড়ার খবর পাওয়া গেছে। নেপলসের আগনানো এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহকারী একটি উঁচু বৈদ্যুতিক পিলার আংশিক ধসে পড়ায় এক লাখ পরিবারের বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পোজ্জুয়োলির জেটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় দ্বীপগুলোতে ফেরি ও হাইড্রোফয়েল সেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। দ্রুতগতির ট্রেনযাত্রীদেরও ছয় ঘণ্টা পর্যন্ত দেরির মুখে পড়তে হচ্ছে। কিছু ট্রেনের গতিপথও পরিবর্তন করা হয়েছে।

এএম