কিয়েভে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত ১৭, ধ্বংস বহু গুদাম ও লজিস্টিক স্থাপনা

রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার স্থানে কাজ করছেন দমকলকর্মীরা
বিদেশে এখন
0

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে অন্তত ১৭ জন নিহত হয়েছেন। হামলায় কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠানের গুদাম, লজিস্টিক কেন্দ্র ও বেসামরিক স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে বলে জানিয়েছে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

রাশিয়ার ছোড়া একের পর এক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রে বুধবার রাতে কেঁপে ওঠে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও আশপাশের এলাকা। হামলায় অন্তত ১৭ জন নিহত এবং ৪০ জনের বেশি আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা।

রাতভর একাধিক বিস্ফোরণে কিয়েভের আকাশে আগুনের আলো দেখা যায়। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে প্রতি তিন থেকে চার দিন পরপর শহরটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে রাশিয়া। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ঘাটতির কারণে আবারও প্রাণহানি ঘটেছে। তিনি মিত্র দেশগুলোর কাছে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য আরও ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের আহ্বান জানান।

ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, রাশিয়ার ছোড়া ১১৫টি ড্রোনের মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ ধ্বংস করা হয়েছে। তবে ২৪টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও চারটি জিরকন ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের কোনোটি ঠেকানো যায়নি। ইউক্রেনের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি রয়েছে। রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে সক্ষম ইউক্রেনের অস্ত্রভান্ডারে এটিই অন্যতম কার্যকর ব্যবস্থা।

জেলেনস্কি বলেন, ‘ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধকারী ব্যবস্থা থাকলে আজ যারা নিহত হয়েছেন, তাদের জীবন বাঁচানো যেত।’ তিনি আরও বলেন, এসব ব্যবস্থা সরবরাহে দেরি বা না দেয়ার সিদ্ধান্ত সরাসরি প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞের কারণ হচ্ছে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তারা কিয়েভ ও আশপাশের এলাকায় সাতটি লজিস্টিক কেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এসব স্থাপনায় দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য পণ্য ও ড্রোনের যন্ত্রাংশ সংরক্ষণ করা হতো বলে দাবি করেছে মস্কো।

এদিকে ইউক্রেন জানিয়েছে, হামলায় বড় কয়েকটি খুচরা পণ্য বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের গুদাম ও কারখানা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশটির সবচেয়ে বড় হোম ইমপ্রুভমেন্ট প্রতিষ্ঠান এপিসেন্টর জানিয়েছে, কয়েক মিনিটের মধ্যেই তাদের দুটি বড় লজিস্টিক স্থাপনা ও একটি কারখানা ধ্বংস হয়েছে।

অনলাইন খুচরা বিক্রেতা রোজেটকার সহপ্রতিষ্ঠাতা ইরিনা চেচোতকিনা জানান, তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তার প্রতিষ্ঠানের বহু বছরের কাজ আগুনে পুড়ে গেছে। তবে তিনি বলেন, ‘রোজেটকা এখনো কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।’ চার বছরের বেশি সময় ধরে যুদ্ধ চললেও পশ্চিমা সহায়তায় ইউক্রেনের অর্থনীতি টিকে আছে। তবে চলতি বছরে ব্যবসায়িক ক্ষতির পরিমাণ বাড়ছে।

ইউক্রেনের নতুন প্রধানমন্ত্রী সের্হি কোরেতস্কি জানিয়েছেন, লজিস্টিক ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম সচল রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে জরুরি বৈঠক করা হবে। এদিকে ইউক্রেন রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থার নতুন সংস্করণ পিএসি-৩ ইন্টারসেপ্টর চেয়েছে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার আগ্রাসনের মাধ্যমে শুরু হওয়া যুদ্ধে বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ উভয় দেশই অস্বীকার করে আসছে।

এএম