মহড়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তাইওয়ানের দুই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, তাইপের একটি ভূগর্ভস্থ কমান্ড সেন্টার থেকে মহড়ার নির্দেশ জারির পর তাৎক্ষণিকভাবে যুদ্ধ-প্রস্তুতিমূলক পদক্ষেপ শুরু হয়। এর মধ্যে যুদ্ধবিমান বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে দেয়া এবং জরুরি নৌ-মহড়ার প্রস্তুতিও রয়েছে। মহড়ায় প্রথমবারের মতো মার্কিন সেনাবাহিনীর অনুকরণে ‘ব্যাকব্রিফ’ পদ্ধতি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে নির্দেশ পাওয়ার পর তরুণ কর্মকর্তারা তাদের মিশনের বিস্তারিত বিষয়গুলো পুনরায় কমান্ডারদের কাছে ব্যাখ্যা করবেন, যা সমন্বয় বাড়াতে সাহায্য করবে।
মহড়ায় বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে চীন সম্ভাব্য কোনো আক্রমণের শুরুতে যেসব লক্ষ্যবস্তুকে আঘাত হানতে পারে সেগুলোকে। এর মধ্যে রয়েছে কমান্ড সেন্টার, বন্দর, রসদ সরবরাহ কেন্দ্র এবং প্রতিরক্ষা শিল্প স্থাপনা। চীন তাইওয়ানকে তাদের নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে আসছে এবং প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ করে দ্বীপটিকে দখল করার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেয়নি। তবে এই মহড়ার বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
১৯৮৪ সাল থেকে প্রতি বছর অনুষ্ঠিত হওয়া এই মহড়ায় এবারই প্রথম ইচ্ছাকৃতভাবে মোবাইল ইন্টারনেটের গতি কমিয়ে দেয়া হচ্ছে। উদ্দেশ্য হলো, যুদ্ধকালীন সময়ে ব্যান্ডউইথ সংকট দেখা দিলে সাধারণ মানুষ কীভাবে যোগাযোগ রক্ষা করবেন, তা পরীক্ষা করা। এছাড়া একটি বড় অস্ত্রাগারের যুদ্ধকালীন স্থানান্তর, বেসামরিক কারখানাগুলোকে সামরিক কাজে ব্যবহার এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে জাহাজ পাহারার মহড়াও চালানো হবে। বেইজিং তাইওয়ানের সরবরাহ লাইন বিচ্ছিন্ন করার পরিকল্পনা করছে বলে আশঙ্কা বাড়তে থাকায় এই মহড়ার গুরুত্ব বেড়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তৃতীয় এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ‘এসব আর গবেষণাগারে বসে করা মহড়ার মতো নয়। আপনি এখন প্রকৃত মাঠের পরিবেশে প্রবেশ করছেন এবং বাস্তব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছেন।’ এর আগে তাইওয়ানের অনেক মহড়া বাস্তবতাবিবর্জিত বলে সমালোচিত হয়েছিল। সেই সমালোচনার জবাবেই এবারের মহড়া আরও বাস্তবসম্মত করা হয়েছে।
আগামী ১৪ আগস্ট পর্যন্ত চলা এই মহড়ায় ২০ হাজারেরও বেশি রিজার্ভ সেনা অংশ নেবেন। বুধবার তাইপের একটি স্কুলের মাঠে রিজার্ভ সেনাদের মর্টার ও রাইফেল চালানোর প্রশিক্ষণ নিতে দেখা গেছে। এছাড়া যুদ্ধকালীন সংবাদ প্রকাশ ও শত্রুপক্ষের অপপ্রচার মোকাবিলার সক্ষমতা যাচাইয়ে ‘এমবেডেড রিপোর্টার’ পদ্ধতিও চালু করা হচ্ছে। প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা মূলত এই বিষয়টির ওপর জোর দিচ্ছি যে, প্রজাতন্ত্র চীনের (তাইওয়ানের সরকারি নাম) নাগরিক হিসেবে গোটা জনসংখ্যা কীভাবে যুদ্ধ মোকাবিলা করবে।’





